দীর্ঘ প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকার পর আফগানিস্তানের সঙ্গে তোরখাম ও চামান সীমান্ত ক্রসিং আবারো খুলে দিয়েছে পাকিস্তান। শুধুমাত্র জাতিসংঘের ত্রাণবাহী ট্রাকের চলাচলের জন্য এই পথ উন্মুক্ত করা হয়েছে বলে দেশটির পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি ডনকে নিশ্চিত করেছেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সীমান্ত খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে। তবে আন্দ্রাবি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, মানবিক ত্রাণের পথ খোলা হলেও দুই দেশের বাণিজ্য এখনো বন্ধই রয়েছে। তার ভাষায়, “আফগান জনগণের সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ নেই।”
গত কয়েক বছরে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) পাকিস্তানের ভেতরে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলা জোরদার করেছে। এসব সহিংসতা বাড়ার পর ইসলামাবাদ বারবার অভিযোগ তোলে যে, টিটিপি আফগান ভূখণ্ডকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করছে; যদিও তালেবান সরকার সেই অভিযোগ অস্বীকার করে। ফলে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমেই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই গত ৯ অক্টোবর কাবুলে একটি ড্রোন হামলা ঘটে, যার জন্য ইসলামাবাদকে দায়ী করে আফগান তালেবান সরকার। এর পরপরই সীমান্তে সংঘর্ষ শুরু হয় এবং কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যু ঘটে। উত্তেজনা বাড়তে থাকায় পাকিস্তান তোরখাম ও চামানসহ গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংগুলো বন্ধ করে দেয়। এতে সীমান্ত বাণিজ্য সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়ে, আর আফগানিস্তানে খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহে সংকট তৈরি হয়।
পরবর্তীতে কাতারের মধ্যস্থতায় ১৯ অক্টোবর দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এই যুদ্ধবিরতি এখনো বজায় থাকলেও ইস্তাম্বুলে সাম্প্রতিক সময়ে পাক ও আফগান প্রতিনিধিদের একাধিক বৈঠক কোনো বাস্তব অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়েছে।

