বাণিজ্য ছাড় সংক্রান্ত শর্তে মতের মিল না হওয়ায় যুক্তরাজ্যের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ৪ হাজার ১৬০ কোটি ডলারের একটি বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ‘ল্যান্ডমার্ক সমঝোতা’ নামে পরিচিত এই বাণিজ্য চুক্তিটি গত সেপ্টেম্বর মাসে স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বেসামরিক খাতে পরমাণু শক্তির ব্যবহার, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি এবং সামরিক-বেসামরিক ও কৌশলগত বিভিন্ন খাতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতামূলক বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলার কথা ছিল। একইসঙ্গে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সহজ ও লাভবান করার লক্ষ্যও এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেইর স্টারমারের দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, এই সমঝোতার মাধ্যমে ব্রিটেনের জনগণ নতুন প্রজন্মের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত হয়ে বৈশ্বিক অগ্রগতির পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
তবে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে যুক্তরাজ্যের কর্মকর্তাদের বরাতে জানানো হয়, চুক্তির আওতায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের কিছু ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে শুল্ক ছাড় দিতে রাজি হয়েছিল লন্ডন। কিন্তু এতে সন্তুষ্ট ছিল না ওয়াশিংটন। মার্কিন কর্মকর্তারা চাইছিলেন, শুল্কমুক্ত সুবিধার পরিসর আরও বিস্তৃত করা হোক।
এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের দাবির সঙ্গে একমত হতে পারেননি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি ডিসেম্বর মাসের শুরু থেকে এ ইস্যুতে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিক দফা বৈঠক হলেও কোনো সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষ নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় গত সপ্তাহে চুক্তি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাষ্ট্র।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক মন্তব্যে যুক্তরাজ্যের এক কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্ক বরাবরই দৃঢ় ছিল এবং এখনও তা অটুট রয়েছে।
তিনি জানান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দুই দেশের সাধারণ জনগণের জন্য প্রযুক্তিগত সুযোগ-সুবিধা সহজলভ্য করাই ছিল এই চুক্তির মূল লক্ষ্য এবং এ লক্ষ্যে যুক্তরাজ্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে।

