সিরিয়ায় কট্টর ইসলামপন্থি আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে ‘অপারেশন হোকিয়ে’ নামে নতুন সামরিক অভিযান শুরু করেছে মার্কিন-সিরীয় যৌথ বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ শুক্রবার (গতকাল) এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিবৃতিতে জানানো হয়, শুক্রবার থেকেই সিরিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ অভিযান শুরু হয়েছে। পিট হেগসেথ বলেন, “আজ শুক্রবার থেকে সিরিয়ায় অপারেশন হোকিয়ে শুরু করেছে মার্কিন-সিরীয় যৌথ বাহিনী। আইএস গোষ্ঠীর যোদ্ধাদল, অবকাঠামো এবং অস্ত্রের ডিপো লক্ষ্য করে এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।”
বর্তমানে সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় এক হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে। গত সপ্তাহের শনিবার দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় শহর পালমিরায় একটি মার্কিন-সিরীয় গাড়িবহর লক্ষ্য করে বন্দুক হামলা চালায় আইএস। ওই হামলায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন দুই মার্কিন সেনা ও তাদের এক দোভাষী। এ ছাড়া আহত হন আরো তিনজন মার্কিন সেনা।
সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলাকারীর পরিচয় ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি একসময় সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ছিলেন এবং বর্তমানে আইএসের যোদ্ধা হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, মার্কিন সেনাদের ওপর ওই হামলার জবাব দিতেই ‘অপারেশন হোকিয়ে’ শুরু করা হয়েছে। তিনি জানান, শুক্রবার একদিনেই সিরিয়ায় আইএসের অন্তত ৭০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। অভিযানে ব্যবহার করা হয়েছে এফ-১৫ ও এ-১০ যুদ্ধবিমান, অ্যাপাচে হেলিকপ্টার এবং হিমার্স রকেট সিস্টেম।
বিবৃতিতে পিট হেগসেথ আরো বলেন, “এটি কোনো যুদ্ধের সূচনা নয়। বরং এটি একটি প্রতিশোধমূলক পাল্টা পদক্ষেপ। আজ আমরা বেশ কয়েকজন শত্রুকে হত্যা করেছি এবং এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
এদিকে একই দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “সিরিয়ায় মার্কিন বাহিনী খুব গুরুতর প্রতিশোধ নিচ্ছে এবং এতে সিরিয়ার সরকার পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে।”

