যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্কের আহ্বান জানিয়েছেন ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ। আগে যে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন, তা থেকে সরে এসে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বিতভাবে ‘এজেন্ডা অব কো-অপারেশন’ গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে রদ্রিগুয়েজ বলেন, “ভেনেজুয়েলা এবং আমাদের জনগণের উন্নয়নের স্বার্থে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণ করতে চাই। এর মূল লক্ষ্য আন্তর্জাতিক আইন ও ফ্রেমওয়ার্ক মেনে পারস্পরিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।”
তিনি আরো যোগ করেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও আমেরিকার অন্যান্য দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ ও সম্মানজনক সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। আমাদের বার্তা স্পষ্ট—শান্তি এবং সংলাপ চাই, যুদ্ধ নয়।”
প্রসঙ্গত, গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সেনা কারাকাসে অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে অপহরণ করে। বর্তমানে তাঁরা নিউইয়র্কের ফেডারেল কারাগারে বন্দি। এ ঘটনায় ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করে ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
রদ্রিগুয়েজ অপহরণের পর প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক শক্তির নিষ্ঠুর অপব্যবহার করেছে এবং ভেনেজুয়েলার জনগণ তার জবাব দেবে।” তবে রোববারের বিবৃতিতে তিনি আগের সেই হুঁশিয়ারি থেকে সরে এসে সংলাপের ওপর জোর দিয়েছেন।
গতকাল দ্য আটলান্টিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যদি রদ্রিগুয়েজ বা তার নেতৃত্বাধীন কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা করেন, তাহলে ফের হামলার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরো দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার জ্বালানি তেল ও অন্যান্য সম্পদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চায়।
রদ্রিগুয়েজের এ ধরনের অবস্থানের পরিবর্তন ভেনেজুয়েলা–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের জন্য নতুন সংলাপের পথ খুলেছে।

