যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির প্রেক্ষাপটে দেশ রক্ষায় প্রয়োজনে নিজ হাতে অস্ত্র তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো। গতকাল সোমবার (৫ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই অবস্থান স্পষ্ট করেন।
এক সময় সশস্ত্র যোদ্ধা হিসেবে সক্রিয় থাকা গুস্তাভো পেত্রো বলেন, ভেনেজুয়েলার মতো পরিস্থিতি যদি কলম্বিয়ায় সৃষ্টি হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র সহিংস কোনো পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তার জবাব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “আমি শপথ করেছিলাম আর কখনো অস্ত্র স্পর্শ করব না। কিন্তু দেশের প্রয়োজনে আবারো অস্ত্র হাতে তুলে নেব।”
ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত পেত্রোর সঙ্গে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তপ্ত। ট্রাম্প নিয়মিত দাবি করে আসছেন, কলম্বিয়ায় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় মাদক উৎপাদন হয় এবং তা যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করা হয়। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি একাধিকবার কলম্বিয়ায় সামরিক হামলার হুমকিও দিয়েছেন।
দুই নেতার মধ্যে কথার লড়াই নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্পের বক্তব্য আরো আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের ঘটনার পর ট্রাম্প প্রকাশ্যে পেত্রোকে উদ্দেশ করে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন এবং বলেন, কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টের নিজের নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক থাকা উচিত।
ট্রাম্প এক পর্যায়ে পেত্রোকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে বলেন, “কলম্বিয়া খুবই অসুস্থ একটি দেশ। এটি পরিচালিত হচ্ছে একজন অসুস্থ মানুষের দ্বারা, যিনি কোকেন উৎপাদন এবং তা যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করতে পছন্দ করেন। কিন্তু তিনি বেশিদিন আর এটা করতে পারবেন না।”
এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় পেত্রো বলেন, দেশের জনগণের ওপর তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তিনি জানান, যে কোনো ধরনের অবৈধ সহিংসতা বা ষড়যন্ত্রের মুখে জনগণই তার সবচেয়ে বড় শক্তি। পেত্রোর ভাষায়, “আমি আমার জনগণের ওপর বিশ্বাস রাখি। তাই দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছি, প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে কোনো বেআইনি সহিংসতা হলে তারা যেন আমাকে রক্ষা করেন।”

