বৈশ্বিক ইন্টারনেট থেকে স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে ইরান। যাচাই–বাছাইকৃত ও সরকার অনুমোদিত নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের জন্যই কেবল ইন্টারনেট সংযোগ চালু রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন দেশটির ডিজিটাল অধিকারকর্মীরা।
ইরানের ইন্টারনেট সেন্সরশিপ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ফিল্টারওয়াচের বরাতে স্থানীয় সময় শনিবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
সংস্থাটি বলেছে, শুধুমাত্র সরকারি কাজের প্রয়োজনে সীমিত পরিসরে বৈশ্বিক ইন্টারনেট চালু রাখার একটি গোপন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে রয়েছে ইরান সরকার। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও সরকারি মুখপাত্রদের বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত মিলছে, চলমান ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতা সাময়িক নয় বরং দীর্ঘমেয়াদি হতে যাচ্ছে। এমনকি ২০২৬ সালের পর সাধারণ জনগণের জন্য অবাধ বৈশ্বিক ইন্টারনেট সংযোগ আর নাও থাকতে পারে।
ফিল্টারওয়াচের প্রধান আমির রশিদি জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী যেসব ইরানি সরকারিভাবে যাচাই–কৃত বা বিশেষ ক্লিয়ারেন্সপ্রাপ্ত হবেন, শুধুমাত্র তারাই ফিল্টারকৃত বৈশ্বিক ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। অপরদিকে সাধারণ নাগরিকদের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে শুধু জাতীয় বা অভ্যন্তরীণ ইন্টারনেট ব্যবস্থার ব্যবহার।
সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরুর পর গত ৭ জানুয়ারি দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয় ইরান সরকার, যা এখনো পুনরায় চালু করা হয়নি। নির্বাসিত শেষ শাহের ছেলে রেজা পাহলভির আহ্বানে ৭ ও ৮ জানুয়ারি সারাদেশে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে বিক্ষোভ তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ থাকলেও ওই দুই দিনে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা ও মসজিদে অগ্নিসংযোগ করলে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর অভিযান শুরু করে।
এতে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। তবে সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি স্বীকার করেছেন, বিক্ষোভে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরায়েলকে দায়ী করেছেন।

