যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও দক্ষিণ লেবাননে সহিংসতা থামছে না। নতুন করে ইসরায়েলি হামলায় অঞ্চলজুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে, যেখানে অন্তত ৩৯টি গ্রাম আক্রমণের শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।
লেবাননের জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ আলি হাসান খলিল জানান, এসব হামলায় শক্তিশালী বিস্ফোরণের মাধ্যমে বহু বেসামরিক ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে। তার মতে, যুদ্ধবিরতির পরও এই ধরনের হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী দাবি করেছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করেই অভিযান চালাচ্ছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলা প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপের অংশ।
গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও বাস্তবে পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। বরং সীমান্তবর্তী এলাকায় পাল্টাপাল্টি হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা নতুন করে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে।
আইডিএফ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়েও তারা কাফারকেলা এলাকায় হিজবুল্লাহর একটি রকেট লঞ্চার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে অন্যান্য অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তারা প্রকাশ করেনি।
চুক্তি অনুযায়ী, লেবাননের ওপর দায়িত্ব রয়েছে যাতে হিজবুল্লাহসহ কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে না পারে। কিন্তু ইসরায়েলের অভিযোগ, সেই শর্ত পুরোপুরি বাস্তবায়িত হচ্ছে না, যার কারণে তারা দক্ষিণ লেবাননে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে বাধ্য হচ্ছে।
সব মিলিয়ে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে পরিস্থিতি এখনো সংঘাতপূর্ণ। সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, আর আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে।

