যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় সহিংসতা থামছে না। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা। সর্বশেষ সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) ইসরাইলি হামলায় অন্তত আরও পাঁচজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যা এই সংঘাতের ভয়াবহতাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের ভিত্তিতে জানানো হয়েছে—গত বছরের অক্টোবর মাসে ঘোষিত কথিত যুদ্ধবিরতির পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় ৭৮০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এই সংখ্যা শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; বরং চলমান সংঘাতের গভীর মানবিক সংকটের প্রতিচ্ছবি।
সোমবারের হামলার ঘটনাগুলোও ছিল বিচ্ছিন্ন নয়, বরং গাজার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে আঘাত হানার অংশ। দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিস এলাকায় একটি পুলিশ চৌকিতে গোলাবর্ষণে তিনজন নিহত হন। একই দিনে মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবির-এ ড্রোন হামলায় প্রাণ হারান একজন। অন্যদিকে উত্তর গাজা সিটির কাছে জেইতুন এলাকায় একটি সড়কচৌমাথায় আরও একজন নিহত হন।
এই ধারাবাহিক হামলা দেখাচ্ছে, যুদ্ধবিরতি বাস্তবে কতটা কার্যকর—তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। “যুদ্ধবিরতি” শব্দটি কাগজে-কলমে থাকলেও, মাটির বাস্তবতায় সহিংসতা যেন থামছেই না।
গাজার বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে—এই যুদ্ধবিরতি কার্যত পূর্ণাঙ্গ শান্তি নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে এটি একটি “কৌশলগত বিরতি” হিসেবেই কাজ করছে। উভয় পক্ষের মধ্যে অবিশ্বাস এতটাই গভীর যে, সামান্য উত্তেজনাও দ্রুত নতুন হামলার রূপ নিচ্ছে।
বিশেষ করে বেসামরিক এলাকায় হামলার ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। কারণ এতে শুধু সামরিক সংঘাত নয়, মানবিক সংকটও তীব্র হচ্ছে। শরণার্থী শিবির, আবাসিক এলাকা কিংবা সাধারণ অবকাঠামো—সবই এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
এছাড়া হতাহতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক চাপও বাড়ছে। কিন্তু বাস্তবে সেই চাপ কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, গাজায় বর্তমান পরিস্থিতি একটি অস্থির ভারসাম্যের ওপর দাঁড়িয়ে আছে—যেখানে যুদ্ধবিরতি আছে, কিন্তু শান্তি নেই। এই অবস্থার স্থায়ী সমাধান না হলে, ভবিষ্যতে আরও বড় মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

