ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যা দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস ও তিক্ততার পর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, চীনে চার দিনের সরকারি সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনে গ্রেট হল অব দ্য পিপলে স্টারমারকে স্বাগত জানান প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। প্রায় ৪০ মিনিটব্যাপী এই বৈঠকের পর তারা একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। একই দিনে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গেও স্টারমারের সাক্ষাৎ করার সূচি রয়েছে।
মধ্য-বামপন্থী লেবার পার্টির নেতৃত্বাধীন স্টারমারের সরকার প্রতিশ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে চাপের মুখে রয়েছে। সে প্রেক্ষাপটে বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন তিনি, যাতে নতুন বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
২০১৮ সালের পর এই প্রথম কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চীন সফরে গেলেন। সফরটি এমন সময়ে হচ্ছে, যখন গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকিসহ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে যুক্তরাজ্য ও তাদের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
কিংস কলেজ লন্ডনের চীন-বিষয়ক অধ্যাপক কেরি ব্রাউন বলেন, এই সফরের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য ও চীন একাধিক চুক্তি ঘোষণা করতে পারে, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নতির প্রতিফলন হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে ইউরোপসহ অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলোও চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। স্টারমারের এই সফরটি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির বেইজিং সফরের পরপরই অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ওই সফরে কার্নি বাণিজ্য বাধা দূর করতে চীনের সঙ্গে একটি অর্থনৈতিক চুক্তি করেন, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অসন্তুষ্ট করেছে বলে জানানো হয়।
চীনও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহ দেখাচ্ছে এবং বর্তমান সময়কে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত’ হিসেবে বিবেচনা করছে।

