মিসরের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পোর্ট সাঈদ প্রদেশে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই পেশায় জেলে ছিলেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে (জিএমটি ১০:৩০) পোর্ট সাঈদের দক্ষিণে ‘৩০ জুন অ্যাক্সিস’ মহাসড়কে একটি পণ্যবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী পিকআপ ভ্যানের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মিসরের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আল-আহরামও দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ছবিতে দেখা গেছে—দুটি বড় কার্গো ট্রাকের মাঝখানে একটি পিকআপ ভ্যান দুমড়ে-মুচড়ে আটকে আছে। মহাসড়কজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে ভাঙাচোরা ধ্বংসাবশেষ।
পিকআপ ভ্যানটি জেলেদের বহন করছিল। তারা উপকূলীয় পোর্ট সাঈদ এলাকার একটি মাছের খামারে কাজে যাচ্ছিলেন। প্রতিদিনের মতো কর্মস্থলে যাওয়ার সেই যাত্রাই তাদের জন্য হয়ে উঠল শেষ পথচলা।
দুর্ঘটনায় আহত তিনজনকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
কেন এবং কীভাবে এই ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে পাবলিক প্রসিকিউটররা তদন্ত শুরু করেছেন। প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত গতি কিংবা নিয়ন্ত্রণ হারানোর সম্ভাবনার কথা বলা হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো কারণ জানানো হয়নি।
মিসরে সড়ক দুর্ঘটনা নতুন কোনো ঘটনা নয়। প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারান দেশটির মহাসড়কগুলোতে। বিশেষ করে মাইক্রোবাস ও ভারী ট্রাকের সংঘর্ষ প্রায়ই বড় ধরনের প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বিশেষজ্ঞরা অতিরিক্ত গতি, সড়কের বেহাল অবস্থা এবং ট্রাফিক আইন প্রয়োগে শিথিলতাকে এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন।
এর আগে গত বছরের জুনেও একটি ট্রাক ও মিনিবাসের সংঘর্ষে ১৯ জন নিহত হয়েছিলেন। সেই ঘটনার পর সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
এই দুর্ঘটনায় নিহতদের অধিকাংশই ছিলেন নিম্ন আয়ের জেলে, যারা প্রতিদিনের মতো জীবিকার সন্ধানে বেরিয়েছিলেন। তাদের হঠাৎ মৃত্যুতে পোর্ট সাঈদ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আবারও প্রশ্ন উঠেছে—মিসরের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কবে আসবে কার্যকর পরিবর্তন?
যতদিন না নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত হচ্ছে, ততদিন এমন মর্মান্তিক খবর যেন নিয়মিত শিরোনাম হয়েই থাকবে।

