দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে সব পরিবর্তন উচ্চস্বরে ঘোষণা দিয়ে আসে না। অনেক সময় একটি দেশের অবস্থান বদলের সবচেয়ে বড় সংকেত পাওয়া যায় কয়েকটি মাপা বাক্যে। বাংলাদেশ এখন ঠিক তেমন একটি পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ঢাকার পক্ষ থেকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার কোনো ঘোষণা নেই, ভারতকে শত্রু বানানোর কোনো নীতিও নেই। কিন্তু সম্পর্কের পুরোনো কাঠামো যে আর আগের জায়গায় নেই, সেটি ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে উঠে এসেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের কূটনৈতিক অবস্থান। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর বক্তব্যে বারবার এসেছে পারস্পরিক সম্মান, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ এবং ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির কথা। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তাঁর অবস্থান হচ্ছে- সম্পর্ক দরকার, কিন্তু সেই সম্পর্ক কোনো পক্ষের একতরফা শর্তে নয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়েও তিনি স্পষ্ট করেছেন, উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি না হলে শুধু দিল্লি যাওয়ার জন্য সফর করা হবে না।
এই অবস্থানকে শুধু একজন প্রতিমন্ত্রী ব্যক্তিগত বক্তব্য হিসেবে দেখলে বড় ছবিটি ধরা পড়বে না। কারণ এর সঙ্গে একই সময়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এসেছে। ঢাকা মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির দিকে ইতিবাচকভাবে তাকাচ্ছে বলে হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান ৭ আগস্ট এই যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে। বাংলাদেশ এখনো এতে যোগ দেয়নি। কিন্তু চুক্তিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাকে প্রকাশ্যে নাকচ না করে জাতীয় স্বার্থের আলোকে বিষয়টি বিবেচনার কথা বলা হয়েছে।
এই একটি অবস্থানই দিল্লির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। কারণ এতদিন দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ও কৌশলগত সমীকরণে বাংলাদেশকে ভারতীয় প্রভাববলয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। এখন ঢাকা যদি সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে কোনো ধরনের অর্থনৈতিক বা নিরাপত্তা কাঠামোয় যুক্ত হয় তাহলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির পরিসর অনেক বড় হয়ে যাবে। এটি ভারতবিরোধী জোটে যোগ দেওয়া হবে- এমন সিদ্ধান্ত এখনো নয়। কিন্তু ভারতের বাইরে বাংলাদেশের কৌশলগত বিকল্প বাড়ছে, সেটি অস্বীকার করার সুযোগও নেই।
আর এখানেই বদলে যাচ্ছে পুরোনো হিসাব।
ভারতের জন্য বাংলাদেশের গুরুত্ব কেবল দুই দেশের চার হাজার কিলোমিটারের বেশি সীমান্তের কারণে নয়। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, বঙ্গোপসাগর এবং আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ফলে ঢাকার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও স্থিতিশীল সম্পর্ক ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে বাংলাদেশের জন্যও ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক অপরিহার্য- বাণিজ্য, সীমান্ত, নদীর পানি, জ্বালানি, যোগাযোগ, নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক রাজনীতির কারণে। তাই নতুন বাংলাদেশের কূটনীতি ভারতকে বাদ দেওয়ার কৌশল নয়; বরং ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের শর্ত ও ভারসাম্য নতুন করে নির্ধারণের চেষ্টা হিসেবে দেখা বেশি যুক্তিযুক্ত।
হুমায়ুন কবিরের সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলোতে এই পরিবর্তনের ভাষাটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ভারতের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কোনো আন্তর্জাতিক সম্মেলনের পার্শ্ববৈঠকের সুযোগ হিসেবে দেখছেন না।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সফরের আগে পারস্পরিক আস্থা, সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান, কূটনৈতিক আলোচনা এবং সম্মানজনক আমন্ত্রণের পরিবেশ তৈরি হওয়া প্রয়োজন। এমনকি তিনি বলেছেন, জাতীয় স্বার্থের বাইরে গিয়ে শীর্ষ পর্যায়ের সফরে তাড়াহুড়োর কোনো যুক্তি নেই।
কূটনীতির ভাষায় এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।
কারণ এখানে ঢাকা বলছে না যে দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক প্রয়োজন নেই। বরং বলা হচ্ছে, সম্পর্ক হবে কিন্তু সম্পর্কের ভিত্তি হবে সমতা। ভারত বড় দেশ- এটি একটি বাস্তবতা। কিন্তু বড় দেশ হওয়ার অর্থ প্রতিবেশী দেশের সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করার অধিকার পাওয়া নয়। বাংলাদেশের নতুন অবস্থান যদি সত্যিই এই জায়গায় স্থির হয় তাহলে ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হবে এখানেই।
আরও একটি বিষয় ভারতের জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারে- বাংলাদেশ এখন একাধিক শক্তির সঙ্গে একসঙ্গে সম্পর্ক বাড়াচ্ছে। জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরগুলোর একটি ছিল চীন ও মালয়েশিয়া। একই সময়ে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে যোগাযোগও বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারের আলোচনা চলছে। অর্থাৎ ঢাকা কোনো একটি শক্তির ছাতার নিচে যাওয়ার বদলে একাধিক কেন্দ্রের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করছে।
এটি আসলে বাংলাদেশের জন্য একটি ‘বিকল্প তৈরির কূটনীতি’।
যে দেশের যত বেশি অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা অংশীদার থাকবে, তার কূটনৈতিক দর-কষাকষির ক্ষমতাও তত বাড়বে। বাংলাদেশের সামনে এখন সেই সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভারতকে যেমন প্রয়োজন, তেমনি চীনকে অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবে প্রয়োজন। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বাংলাদেশের শ্রমবাজার, রেমিট্যান্স ও বিনিয়োগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও বাণিজ্যের বড় অংশীদার। তুরস্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের সম্ভাবনা রয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের দূরত্ব কমানোর উদ্যোগও চলছে।
তাই ঢাকার নতুন কৌশলকে ‘ভারতবিরোধী’ বলে সরলীকরণ করলে মূল বিষয়টি আড়ালে পড়ে যাবে। বরং এটি হতে পারে ‘এক দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর’ চেষ্টা।
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রশ্নটি অবশ্য এখানেই সবচেয়ে স্পর্শকাতর। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের চুক্তি সাধারণ কোনো কূটনৈতিক প্ল্যাটফর্ম নয়। এতে যৌথ নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং এক সদস্য আক্রান্ত হলে সম্মিলিত প্রতিক্রিয়ার ধারণা রয়েছে। ফলে বাংলাদেশ যদি ভবিষ্যতে কোনোভাবে এই কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হয় তাহলে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হবে।
তবে এটিকে এখনই ‘ইসলামিক ন্যাটোতে বাংলাদেশের যোগদান’ বলা ঠিক হবে না। বাংলাদেশ এখনো সদস্য হয়নি এবং চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তও ঘোষণা করেনি। গণমাধ্যমে ব্যবহৃত ‘ইসলামিক ন্যাটো’ শব্দবন্ধটিও চুক্তির আনুষ্ঠানিক নাম নয়। ফলে এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো- ঢাকা সম্ভাবনাটিকে নাকচ করেনি এবং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে।
তবে দিল্লির জন্য বিষয়টি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ, সেটিও বোঝা দরকার।
পাকিস্তান ভারতের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী। তুরস্কের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক থাকলেও আঙ্কারা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। আর সৌদি আরব ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হওয়ার পাশাপাশি পাকিস্তানেরও ঘনিষ্ঠ মিত্র। এখন যদি বাংলাদেশের মতো ভারতের পূর্ব সীমান্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশীও এই বিস্তৃত নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক নেটওয়ার্কে প্রবেশ করে তাহলে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় কৌশলগত হিসাব অবশ্যই নতুন করে করতে হবে।
কিন্তু এখানেও একটি সূক্ষ্ম বিষয় আছে।
বাংলাদেশের সম্ভাব্য নতুন অংশীদারিত্বকে ভারতের বিরুদ্ধে সামরিক অবস্থান হিসেবে দেখলে দিল্লি ভুল হিসাব করতে পারে। কারণ ঢাকার বক্তব্যে এখনো ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের দরজা বন্ধ করার কোনো ইঙ্গিত নেই। বরং হুমায়ুন কবির বলেছেন, ভারত যদি সত্যিই সম্পর্ক নতুন করে শুরু করতে চায় তাহলে তাকে বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতা বুঝতে হবে। অর্থাৎ ঢাকার বার্তা হলো- দূরত্ব নয়, নতুন শর্তে সম্পর্ক।
এই অবস্থানটি বাংলাদেশের জন্যও ঝুঁকিমুক্ত নয়।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হলে সীমান্ত বাণিজ্য, পণ্য পরিবহন, বিদ্যুৎ, পানি, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক যোগাযোগে চাপ তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে অতিরিক্তভাবে পাকিস্তান, তুরস্ক বা মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক নিরাপত্তা কাঠামোর দিকে ঝুঁকে পড়লেও বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত ও অন্যান্য শক্তির সম্পর্ক জটিল হতে পারে। তাই ঢাকার সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে- কীভাবে নতুন অংশীদারিত্ব তৈরি করেও ভারসাম্য ধরে রাখা যায়?
এখানে হুমায়ুন কবিরের কূটনৈতিক ভাষার গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।
তাঁর বক্তব্যে এখন পর্যন্ত যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান তা হলো- বাংলাদেশ সম্পর্ক চায়, কিন্তু নির্ভরশীলতা চায় না। ভারতকে চায়, কিন্তু ভারতের ছায়ায় থাকতে চায় না। চীনকে চায়, কিন্তু চীনের ওপর নির্ভর করতে চায় না। পশ্চিমের সঙ্গে সম্পর্ক চায়, কিন্তু পশ্চিমের শর্তে নিজের কৌশল নির্ধারণ করতে চায় না। মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা চায়, কিন্তু তার অর্থ কোনো একটি সামরিক ব্লকে নিজেকে আবদ্ধ করা নয়।
এই ভারসাম্য ধরে রাখতে পারলে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি বাস্তবে একটি কার্যকর কূটনৈতিক কৌশলে পরিণত হতে পারে। কিন্তু সেটি ব্যর্থ হলে একই নীতি পরিণত হতে পারে অতিরিক্ত শক্ত অবস্থানের কারণে একাধিক অংশীদারের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনায়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনটি তাই হুমায়ুন কবিরের ব্যক্তিত্বে নয়, নীতির কাঠামোয় খুঁজতে হবে।
কোনো একটি বক্তব্য দিয়ে ভারতের প্রভাব শেষ হয়ে যায় না। কয়েকটি কঠোর বাক্যে সাউথ ব্লকের কূটনৈতিক শক্তিও ভেঙে পড়ে না। আবার বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও একটি মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা ঘোষণা করলেই রাতারাতি দেশের কৌশলগত অবস্থান বদলে যায় না।
কিন্তু ধারাবাহিকভাবে যদি ঢাকা জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে সম্পর্ক নির্ধারণ করে, ভারতের সঙ্গে অসম সম্পর্কের বদলে সমতার ভিত্তিতে আলোচনা করে এবং একই সঙ্গে চীন, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, তুরস্ক, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাস্তব স্বার্থভিত্তিক সম্পর্ক বাড়ায় তাহলে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক মানচিত্রে একটি বড় পরিবর্তন ঘটতে পারে।
সেই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় সংকেত ইতোমধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে।
ঢাকা এখন আর শুধু দিল্লির প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে না। বরং সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ঢাকার নিজের স্বার্থ কী?- সেটিই সামনে আনা হচ্ছে।
এটাই হয়তো বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে বড় পরিবর্তন।
একসময় প্রশ্ন ছিল- ভারত কী ভাবছে?
এখন প্রশ্নটি ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে— এখন
বাংলাদেশ কী চায়?
আর এই প্রশ্নের উত্তর যদি সত্যিই ‘বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ’ হয়, তাহলে আগামী কয়েক বছরে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের পুরোনো সমীকরণ আর আগের জায়গায় থাকবে না।
দিল্লির জন্য এটিই সবচেয়ে বড় বার্তা।
বাংলাদেশ ভারতের শত্রু হতে চায় না। কিন্তু বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কূটনীতির মূল শর্তও আর শুধু ভারতকে সন্তুষ্ট রাখা নয়।
সম্পর্ক থাকবে,
দরজা খোলা থাকবে,
আলোচনাও চলবে, কিন্তু সিদ্ধান্ত হবে ঢাকার স্বার্থে।
দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে এই পরিবর্তনটিই এখন সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে।

