বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীদের একজন শাকিরা। তার স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বরই আজ তাকে অন্য সবার থেকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। তবে এই কণ্ঠস্বরের কারণেই শৈশবে তাকে তীব্র সমালোচনা ও উপহাসের মুখে পড়তে হয়েছিল।
কলম্বিয়ার বারানকিয়ায় বেড়ে ওঠা শাকিরা ছোটবেলায় স্কুলের কোরাস দলে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু শিক্ষকরা তাকে সেই দলে সুযোগ দেননি। তাদের ধারণা ছিল, তার কণ্ঠস্বর অন্য শিক্ষার্থীদের তুলনায় অনেক বেশি ভিন্ন। শুধু তাই নয়, কয়েকজন সহপাঠী তাকে বিদ্রূপ করে বলত, তার গলার আওয়াজ নাকি ছাগলের মতো। তবে এসব মন্তব্য তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। বরং নিজের আলাদা কণ্ঠস্বরকেই তিনি শক্তিতে রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত নেন।
বাবার অনুপ্রেরণায় নিয়মিত গান শেখা ও অনুশীলন চালিয়ে যান শাকিরা। অল্প বয়স থেকেই তিনি গান লেখা শুরু করেন। সেই ধারাবাহিক পরিশ্রমের ফল হিসেবে মাত্র ১৩ বছর বয়সেই নিজের প্রথম রেকর্ডিং চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
এরপর তার সংগীতজীবন এগিয়ে যেতে থাকে সাফল্যের পর সাফল্যে। ‘হোয়েনএভার, হোয়্যারএভার’, ‘হিপস ডোন্ট লাই’, বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গান এবং সুপার বোল হাফটাইম শোতে অংশগ্রহণের মতো অর্জনের মাধ্যমে তিনি লাতিন সংগীতের সীমা পেরিয়ে বিশ্বসংগীতের অন্যতম প্রভাবশালী শিল্পীতে পরিণত হন।
যে কণ্ঠস্বরকে একসময় অস্বাভাবিক বলে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল, পরবর্তীতে সেই কণ্ঠই কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসা অর্জন করে। আর যারা একসময় তাকে কটাক্ষ করেছিল, সময়ের সঙ্গে তাদের কথা হারিয়ে গেছে।
শাকিরার জীবনের এই অধ্যায় মনে করিয়ে দেয়, যে বৈশিষ্ট্যের জন্য একজন মানুষ কোনো এক সময়ে সমালোচিত হন, ভবিষ্যতে সেই বৈশিষ্ট্যই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিতে পারে।

