সব সংসদ সদস্যই নিজ নিজ এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বর্তমানে দেশে ৫৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় আছে। আমরা আগামীতে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিশ্ববিদ্যালয় বৃদ্ধি করে জনগণের চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করব। একটা শিক্ষিত জাতি গঠনের জন্য আমরা আগামী দিনে এ চিন্তাভাবনা করব।” – শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
ক্ষুব্ধ মুসলমানদের শান্ত করতে লর্ড হার্ডিঞ্জের ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় খোলার প্রস্তাব করেন। এই প্রস্তাবে কলকাতার এলিটদের মধ্যে অনেকের বিরোধিতার মুখে লর্ড হার্ডিঞ্জ একবার আশুতোষ মুখার্জীকে গাড়ি পাঠিয়ে তার অফিসে আমন্ত্রণ জানিয়ে নিয়ে আসেন (সূত্র: রমেশ চন্দ্র মজুমদারের আত্মজীবনীমূলক বই)। সেই সময় লর্ড হার্ডিঞ্জ স্পষ্ট করে আশুতোষ মুখার্জীকে বলে দেন ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় হবেই।
এরপর তিনি বলেন এখন কি করলে বা কি পেলে আপনি বা আপনারা এর বিরোধিতা করবেন না, তা জানালে আমি দেবার চেষ্টা করব। আশুতোষ মুখার্জী তৎক্ষণাৎ বললেন ঠিক আছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪টি অধ্যপক পদ দিন আমি চুপ থাকবো। আশুতোষ মুখার্জী ও হার্ডিঞ্জের সাথে এই ডিলে আরো যোগ দেন রাশ বিহারী ঘোষ ও গুরুদাস বেনার্জী প্রমুখ। তাহলে বুঝতে পারছেন একটি বিশ্ববিদ্যালয় সৃষ্টির প্রসব বেদনা কতটুকু। আর একটি অধ্যাপক পদ কতটা মূল্যবান?
স্বাধীনতার পূর্বে বাংলাদেশে মোট বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল ৬টি। ১৯৭১ থেকে ১৯৯১ এই ২০ বছরে আরও ৩টি বিশ্ববিদ্যালয় যোগ হয়ে মোট বিশ্ববিদ্যালয় হয় ৯টি। ১৯৯১ থেকে ২০০১ এই ১০ বছরে নতুন ৭টি বিশ্ববিদ্যালয় যোগ হয়। ২০০২ থেকে ২০১২ এর মধ্যে ১৪টি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় যোগ হয় আর ২০১৩ থেকে ২০২৫ এর মধ্যে ১৮টি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় যোগ হয়ে এখন ৫৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়।
আওয়ামীলীগ আমলে স্লোগান ছিল জেলায় জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় আর এখন মনে হচ্ছে স্লোগান হতে যাচ্ছে ৩৩০টি সংসদীয় আসনে ৩৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ই খোলা হচ্ছে। শিক্ষকরা কেমন, শিক্ষকরা কতটা কমিটেড, ছাত্ররা কেমন পরিবেশে থাকে ইত্যাদির খোঁজ কেউ নেয় না। একটি ছোট্ট পরিসংখ্যান দেই। বাংলাদেশ সরকার ৫৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য চলতি অর্থ বছরে মোট ১.০৭ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেয়। আর শুধু হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় একার বরাদ্দই ৭ বিলিয়নের বেশি। No wonder that আমাদেরগুলো শুধু নামেই বিশ্ববিদ্যালয়, কাজে না। আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দিন দিন বাংলাদেশের সরকারি প্রাইমারি স্কুলের ভাগ্য বরণ করতে যাচ্ছে।
লেখক: কামরুল হাসান মামুন: অধ্যাপক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

