রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব কতটা গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে, তার একটি বিস্ময়কর উদাহরণ সামনে এসেছে একটি ডেথ রেফারেন্স মামলার শুনানিকে ঘিরে।
গত তিন সপ্তাহ ধরে ডেথ রেফারেন্স কোর্টে দায়িত্ব পালনকালে শেরপুরের আট বছর বয়সী শিশু বিথী দেওয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলার শুনানি হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মামলাটির রায়ও ঘোষণা করেন হাইকোর্ট বিভাগ। রায়ে আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখা হয়। অর্থাৎ আদালত আসামির ফাঁসির দণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমেও রায়ের সংবাদ প্রকাশিত হয়।
তবে রায় ঘোষণার পর একটি চমকে দেওয়া তথ্য সামনে আসে। বিকেলে এক সাংবাদিকের মাধ্যমে জানা যায়, মামলার ওই আসামি প্রায় পাঁচ বছর আগেই কারাগারে মৃত্যুবরণ করেছেন।
ঘটনাটি বিচারিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিস্ময়ের সৃষ্টি করে। কারণ মামলাটি নিয়ে টানা দুই দিন শুনানি হয়েছে। হাইকোর্টের দুই বিচারপতি মামলার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করেছেন। আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মামলার কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষের ব্যবস্থাপনায় স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং তিনিও মামলায় দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু রায় ঘোষণার পর জানা গেল, যার বিরুদ্ধে এই বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে, তিনি বহু বছর আগেই মারা গেছেন।
এই ঘটনা রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয়ের ঘাটতির বিষয়টি নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। জানা যায়, কারাগার থেকেই ওই আসামির পক্ষে জেল আপিল করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আসামির মৃত্যু হলেও সে তথ্য আদালতকে জানানো হয়নি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কারাগারে কোনো আসামির মৃত্যু হলে তা দ্রুত আদালতকে অবহিত করা জেল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। ফলে একটি মৃত ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে বিচারিক কার্যক্রম চলেছে এবং রাষ্ট্রের মূল্যবান সময়, জনবল ও অন্যান্য সম্পদের ব্যবহার হয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ঘটনাটির আরেকটি দিক আরও উদ্বেগজনক। যদি মামলার রায়ে আসামি খালাস পেতেন, তাহলে বিচারিক সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর জানা যেত যে তিনি বহু আগেই মৃত্যুবরণ করেছেন। সেক্ষেত্রে পুরো পরিস্থিতি আরও বিব্রতকর ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠতে পারত।
(ফেসবুকে প্রকাশিত একটি পোস্ট থেকে সংগৃহীত)

