একসময় উন্নয়নের প্রচলিত ধারণা ছিল—উন্নত দেশগুলো যে পথে এগিয়েছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোও সেই পথ অনুসরণ করলেই একদিন তাদের সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারবে কিন্তু বর্তমান বাস্তবতা দেখাচ্ছে, উন্নয়নের এই সরল ধারণা সব ক্ষেত্রে কার্যকর নয়। বরং অনেক দেশের জন্য সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি হতে পারে প্রচলিত ধাপ এড়িয়ে নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকে কাজে লাগানোর মাধ্যমে।
গবেষণায় দেখা যায়, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য রয়েছে এক ধরনের ‘ক্যাচ-আপ প্যারাডক্স’ অর্থাৎ শুধু উন্নত দেশগুলোর পুরোনো মডেল অনুসরণ করে এগোলে তাদের সঙ্গে ব্যবধান কমানো কঠিন। কারণ যারা আগে এগিয়ে গেছে, তারা সাধারণত পুরোনো প্রযুক্তি ও অবকাঠামোর ওপর বড় ধরনের বিনিয়োগ করে ফেলে। ফলে নতুন প্রযুক্তির পরিবর্তনের সময় তারা অনেক ক্ষেত্রে পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে সমস্যায় পড়ে।
এই পরিস্থিতিতে পিছিয়ে থাকা দেশগুলোর জন্য বড় সুযোগ তৈরি হয় নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের মাধ্যমে। অর্থনীতির ভাষায় যাকে বলা হয় ‘লিপফ্রগিং’—অর্থাৎ প্রচলিত কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করে সরাসরি উন্নত পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়া। এর উদাহরণ দেখা গেছে টেলিযোগাযোগ খাতে। অনেক উন্নয়নশীল দেশ দীর্ঘ সময় ধরে প্রচলিত ল্যান্ডলাইন টেলিফোন অবকাঠামো গড়ে তোলার পথে না গিয়ে সরাসরি মোবাইল যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রবেশ করেছে। এতে তারা তুলনামূলক কম সময়ে আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তির সুবিধা নিতে পেরেছে।
তবে প্রকৃত অর্থে লিপফ্রগিংয়ের বড় উদাহরণ তৈরি হয়েছে আর্থিক প্রযুক্তিতে। আফ্রিকার কিছু দেশ, বিশেষ করে কেনিয়া, প্রচলিত ব্যাংকিং কাঠামো বা ক্রেডিট কার্ডভিত্তিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে মোবাইল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এর মাধ্যমে তারা শুধু পুরোনো প্রযুক্তিকে এড়িয়ে যায়নি, বরং একটি নতুন আর্থিক বাজারের নেতৃত্বও তৈরি করেছে।
প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের এই দৌড়ে এগিয়ে যাওয়ার আরেকটি উদাহরণ দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটি ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত গ্রহণের মাধ্যমে এমন অবস্থানে পৌঁছেছে, যেখানে একসময় প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকা জাপানের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম হয়েছে।
ডিজিটাল টেলিভিশনের বাজারে দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করে। বিপরীতে জাপানের সনি দীর্ঘদিন অ্যানালগ প্রযুক্তিতে অর্জিত সাফল্যের ওপর নির্ভর করে সেই ধারাই ধরে রাখার চেষ্টা করে। পুরোনো প্রযুক্তিতে তাদের শক্ত অবস্থান একসময় বড় সুবিধা দিলেও প্রযুক্তির পরিবর্তনের সময়ে সেটিই হয়ে ওঠে বড় বাধা।
একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের মটোরোলা। অ্যানালগ মোবাইল প্রযুক্তিতে দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দেওয়া প্রতিষ্ঠানটি সেই প্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগ ও অভিজ্ঞতার কারণে ডিজিটাল প্রযুক্তিতে দ্রুত রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তা যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেনি। ফলে প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে একসময় প্রতিযোগিতার দৌড়ে পিছিয়ে পড়ে।
এই অভিজ্ঞতা দেখায়, উন্নয়নের পথে শুধু প্রতিষ্ঠিত পথ অনুসরণ করলেই সফলতা আসে না। অনেক সময় নতুন প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও পরিবর্তনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রচলিত ব্যবধান অতিক্রম করাই দ্রুত অগ্রগতির সবচেয়ে কার্যকর উপায় হয়ে উঠতে পারে। ভবিষ্যতের অর্থনীতিতে এগিয়ে থাকবে তারাই, যারা শুধু অন্যদের অনুসরণ করবে না; বরং নতুন সম্ভাবনার ক্ষেত্র তৈরি করতে পারবে। যেসব দেশ তুলনামূলকভাবে দেরিতে উন্নয়নের যাত্রা শুরু করেছে, তাদের জন্য দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম শর্ত হলো নতুন প্রযুক্তির সম্ভাবনা সময়মতো চিহ্নিত করা এবং প্রচলিত উন্নয়ন পথের বাইরে বিকল্প কৌশল তৈরি করা।
অর্থনীতিবিদ হা-জুন চ্যাং ২০০২ সালের এক গবেষণায় দেখিয়েছিলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান বা অর্থনীতি একবার বাজারে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারলে তারা অনেক সময় পরবর্তী প্রতিযোগীদের জন্য সুযোগ সংকুচিত করে দেয়। পেটেন্ট, ট্রেডমার্ক এবং অন্যান্য মেধাস্বত্ব সুরক্ষার মাধ্যমে তারা নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করে এবং নতুনদের প্রবেশের পথ কঠিন করে তোলে।
এর সঙ্গে বিদ্যমান উৎপাদন সক্ষমতা, বড় পরিসরের বাজার, উন্নত অবকাঠামো এবং দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাও প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোর বাড়তি সুবিধা তৈরি করে। ফলে নতুন প্রতিযোগীদের জন্য একই পথে এগিয়ে সমপর্যায়ে পৌঁছানো অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। এর পাশাপাশি বিদ্যমান উৎপাদন সক্ষমতা, বড় বাজার, উন্নত অবকাঠামো এবং দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা আরও বাড়িয়ে দেয়। ফলে নতুনদের জন্য একই পথে এগিয়ে তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে।
এই বাস্তবতায় ‘লিপফ্রগিং’ বা ধাপ অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার কৌশল অনেকটা এমন একটি বিকল্প পথ, যা প্রচলিত সিঁড়ি ছাড়াই উচ্চতায় পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করে। তবে এর জন্য প্রয়োজন নির্দিষ্ট সক্ষমতা, দক্ষ জনবল, বিনিয়োগ এবং পরিবর্তনের সুযোগ কাজে লাগানোর প্রস্তুতি।
প্রযুক্তিগত রূপান্তরের সময়, বৈশ্বিক সংকট বা ‘সৃজনশীল ধ্বংস’-এর মতো পরিস্থিতিতে নতুন প্রযুক্তির উত্থান পিছিয়ে থাকা দেশগুলোর সামনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেয়। কারণ তখন পুরোনো শক্তিশালী অবস্থান অনেক সময় দুর্বল হয়ে পড়ে এবং নতুন প্রতিযোগীদের জন্য বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়। তবে সুযোগ থাকলেই সফলতা নিশ্চিত হয় না। কোন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করা হবে, নতুন বাজার তৈরি করতে কতটা ঝুঁকি নেওয়া হবে এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি সামলানোর সক্ষমতা কতটা রয়েছে—এসব সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই বাস্তবতা উন্নত ও উন্নয়নশীল—দুই ধরনের অর্থনীতির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা। বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে অগ্রণী অবস্থান তৈরি করা প্রতিষ্ঠানটি শুরুর দিকে বড় ধরনের আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছিল। সরকারি সহায়তা, বিনিয়োগকারীদের আস্থা এবং আর্থিক বাজারের সমর্থন না পেলে প্রতিষ্ঠানটির টিকে থাকা কঠিন হয়ে উঠতে পারত।
তবে সরকারি সহায়তা পেলেই কোনো নতুন প্রযুক্তি বা প্রতিষ্ঠান সফল হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। যুক্তরাষ্ট্রের সৌর প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সোলিনড্রার অভিজ্ঞতা তার উদাহরণ। প্রতিষ্ঠানটি প্রচলিত সিলিকনভিত্তিক সৌর প্যানেলের বিকল্প হিসেবে পাতলা স্তরের প্রযুক্তিনির্ভর নতুন ধরনের সৌর প্যানেল বাজারে আনার উদ্যোগ নিয়েছিল। ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের কাছ থেকে ৫৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের ঋণ নিশ্চয়তাও পেয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু প্রত্যাশিত বাজার সাফল্য না পাওয়ায় লোকসান বাড়তে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত ২০১১ সালে দেউলিয়া হওয়ার আবেদন করতে হয়।
এই ঘটনা দেখায়, নতুন প্রযুক্তির বাজারে প্রথম প্রবেশকারী হওয়ার কৌশলে যেমন বড় সম্ভাবনা থাকে, তেমনি থাকে উচ্চ ঝুঁকিও। দীর্ঘ সময় ধরে আর্থিক চাপ সামলানোর সক্ষমতা না থাকলে এই ধরনের উদ্যোগ টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এই কারণেই অনেক প্রতিষ্ঠান সরাসরি প্রথম সারির উদ্ভাবক হওয়ার পরিবর্তে ‘সমান্তরাল অগ্রযাত্রা’ কৌশল গ্রহণ করে। অর্থাৎ বর্তমান প্রযুক্তির বাজার ধরে রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় প্রযুক্তিতেও একই সময়ে বিনিয়োগ চালিয়ে যায়।
গাড়ি শিল্পে এর উদাহরণ দেখা যায়। জার্মানির ভক্সওয়াগেন দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত গাড়ি শিল্পের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। অন্যদিকে চীনের বিওয়াইডি বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে দ্রুত অগ্রসর হয়ে প্রযুক্তিগত ধাপ অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।
একই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই ভিন্ন কৌশল গ্রহণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রচলিত জ্বালানি ইঞ্জিনচালিত গাড়ির পাশাপাশি বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রযুক্তিতেও বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। ফলে তারা একদিকে বর্তমান বাজারের সক্ষমতা ধরে রেখেছে, অন্যদিকে ভবিষ্যতের প্রযুক্তির জন্যও নিজেদের প্রস্তুত করেছে।
এই অভিজ্ঞতা দেখায়, উন্নয়নের প্রতিযোগিতায় শুধু দ্রুত এগিয়ে যাওয়াই যথেষ্ট নয়; বরং গুরুত্বপূর্ণ হলো পরিবর্তনের সঠিক সময় বুঝে উপযুক্ত কৌশল গ্রহণ করা। নতুন প্রযুক্তির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারলে পিছিয়ে থাকা দেশ বা প্রতিষ্ঠানও অনেক সময় প্রতিষ্ঠিত শক্তিশালী প্রতিযোগীদের সঙ্গে ব্যবধান কমিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারে। চীনের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পেছনে শুধু অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নয়, ভূরাজনৈতিক বাস্তবতাও আংশিকভাবে কাজ করেছে। বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় নানা বাধার মুখে পড়ে দেশটি অনেক ক্ষেত্রে বিকল্প পথ অনুসরণ করছে।
সম্প্রতি চীনের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে ‘টাও স্কেলিং আইন’ নামে একটি নতুন চিপ নকশা নীতি প্রকাশ করেছে। প্রচলিত মুরের সূত্র অনুযায়ী চিপের ভেতরের ক্ষুদ্র উপাদান বা ট্রানজিস্টরের আকার ছোট করার পরিবর্তে নতুন এই পদ্ধতিতে ইলেকট্রনিক ব্যবস্থার বিভিন্ন অংশের মধ্যে যোগাযোগের গতি ও কার্যকারিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এই পরিবর্তনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি নিষেধাজ্ঞার প্রভাবও রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার কারণে নেদারল্যান্ডসের চিপ নির্মাণ যন্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এএসএমএল চীনের কাছে তাদের অত্যাধুনিক ‘চরম অতিবেগুনি রশ্মি ভিত্তিক আলোকচিত্র প্রযুক্তি’ যন্ত্র রপ্তানি করতে পারছে না। ফলে চীনকে সীমাবদ্ধতার মধ্যেই নতুন প্রযুক্তিগত সমাধান খুঁজে নিতে হচ্ছে।
চিপ প্রযুক্তিতে এই পরিবর্তন আসলে উন্নয়ন নিয়ে চীনের বৃহত্তর চিন্তাধারার প্রতিফলন। দেশটি কখনোই পশ্চিমা উন্নয়ন মডেল পুরোপুরি অনুসরণ করেনি। বরং নিজেদের বাস্তবতা অনুযায়ী আলাদা কৌশল তৈরি করেছে।
চীনের নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরেই বুঝেছে, যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি একই প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক পথে এগিয়ে গিয়ে তাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তাই তারা বিকল্প সক্ষমতা গড়ে তোলা এবং নতুন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নিজস্ব অবস্থান তৈরির দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও দুই দেশের কৌশলে পার্থক্য দেখা যায়। চীন তুলনামূলকভাবে সবার ব্যবহারের উপযোগী উন্মুক্ত উৎসের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল তৈরিতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক প্রতিষ্ঠান নিজেদের নিয়ন্ত্রিত ও উন্নত প্রযুক্তিভিত্তিক মডেল তৈরির দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।
ধাপ অতিক্রম করে দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার কৌশল অতীতে অনেক দেশের উন্নয়নের ভিত্তি তৈরি করেছে এবং ভবিষ্যতেও এর গুরুত্ব থাকবে। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবর্তনের সময়ে উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজেদের সক্ষমতা, সম্পদ ও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন সুযোগ খুঁজে বের করা।
কোনো দেশ বা প্রতিষ্ঠান চাইলে নতুন বাজারে প্রথম প্রবেশ করে বড় ঝুঁকি নিতে পারে। আবার অনেকে তুলনামূলক সতর্কভাবে বিদ্যমান প্রযুক্তির পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তিতেও বিনিয়োগ করে সমান্তরাল অগ্রগতির পথ বেছে নিতে পারে। সফলতার জন্য উভয় কৌশলেই প্রয়োজন সঠিক সিদ্ধান্ত, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা। তবে এই অভিজ্ঞতা উন্নত অর্থনীতিগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে। কোনো প্রতিষ্ঠান বা দেশ একসময় যত শক্তিশালীই হোক না কেন, পুরোনো সাফল্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা তাকে পরিবর্তিত বাস্তবতা থেকে পিছিয়ে দিতে পারে।
প্রতিষ্ঠিত অবস্থানের আত্মতুষ্টি অনেক সময় সবচেয়ে বড় দুর্বলতায় পরিণত হয়। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের যুগে টিকে থাকতে হলে বর্তমান অবস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতের পরিবর্তন আগেভাগে বুঝে নতুন পথ তৈরি করার সক্ষমতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
- কিয়ুন লি: দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের জাতীয় অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের সাবেক সহসভাপতি। তিনি বর্তমানে সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অর্থনীতির অধ্যাপক।
বি: দ্র: প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব; এর দায়ভার সিটিজেন্স ভয়েস কর্তৃপক্ষ বহন করে না এবং এটি পত্রিকার সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নাও হতে পারে।

