Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice বৃহস্পতি, জুলাই 9, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » জলমহাল হবে ইজারামুক্ত, উপকৃত হবে জেলে ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠী
    মতামত

    জলমহাল হবে ইজারামুক্ত, উপকৃত হবে জেলে ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠী

    নিউজ ডেস্কজুলাই 9, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতির মূল স্পন্দন লুকিয়ে আছে এর পলল মাটি আর জলরাশিতে। নদী-মাতৃক এই ভূখণ্ডের কৃষি ও মৎস্য খাত কেবল জিডিপির খতিয়ান নয়, বরং কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার প্রধানতম অবলম্বন। দীর্ঘকাল ধরে এ দেশের মুক্ত জলাশয়, বিল, হাওর ও বাঁওড়গুলো সাধারণ মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বেঁচে থাকার প্রধান উৎস হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে।

    কিন্তু বিগত দশকগুলোতে ‘ইজারা প্রথা’ নামক এক ঔপনিবেশিক আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার গ্যাঁড়াকলে পড়ে এই প্রাকৃতিক সম্পদগুলো কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল। আশার কথা হলো, বর্তমান সরকার দীর্ঘদিনের এই বৈষম্যমূলক ইজারা প্রথার অবসান ঘটিয়ে দেশের সব উন্মুক্ত জলাশয় প্রকৃত মৎস্যজীবী ও সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

    বিল ও জলাশয় বলতে মূলত জলমহালকেই বোঝানো হয়। সরকারি নথিপত্র ও নীতিমালা অনুযায়ী, হাওর, বাওড়, বিল, ঝিল, নদী ও জলাভূমি, যেখানে সারা বছর বা বছরের নির্দিষ্ট একটি সময় পানি জমে থাকে এবং যেখান থেকে মাছ আহরণ করা হয়, সেগুলোকে জলমহাল বলা হয়। সাধারণত বিল বা জলাশয়গুলোর নিয়ন্ত্রণ ও মৎস্য আহরণের অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সমবায় সমিতি বা ব্যক্তির নামে ইজারা বা লিজ প্রদান করে থাকে।

    ইজারা প্রথার বিলুপ্তি বা সংস্কার বলতে এই জলমহালগুলো নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা প্রভাবশালী সমিতির কাছে ইজারা দেওয়ার প্রথা বাতিলের বিষয়টিই আজকের আলোচ্য বিষয়। দেশব্যাপী বিল ও জলাশয়ে ইজারা প্রথার অবসান এবং ‘জাল যার, জলা তার’ নীতির এই সফল বাস্তবায়ন মূলত প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের দূরদর্শী ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ এরই এক অনন্য ও জনকল্যাণমুখী প্রতিফলন। সরকারের এই যুগান্তকারী পদক্ষেপকে আমরা সাধুবাদ জানাই। এটি কেবল একটি প্রশাসনিক বা আইনি প্রজ্ঞাপন নয়, বরং গ্রামীণ শোষণের বিরুদ্ধে এক নীরব ও ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক বিপ্লবের সূচনা।
    সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতি ও আইনি কাঠামো

    আইনি ও তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সরকারের এই উন্মুক্ত জলাশয় নীতি মূলত আমাদের মহান সংবিধানে বর্ণিত রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিগুলোর এক বাস্তব ও সময়োপযোগী প্রতিফলন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩(খ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দেশের সকল প্রাকৃতিক সম্পদের চূড়ান্ত মালিক এ দেশের জনগণ, রাষ্ট্র কেবল জনগণের পক্ষে এর ট্রাস্টি বা অভিভাবক মাত্র।

    তাছাড়া, সংবিধানের ১৪ অনুচ্ছেদে কৃষক ও শ্রমিকের এবং অবধারিতভাবে মৎস্যজীবীদের—সকল প্রকার শোষণ থেকে মুক্তি দেওয়ার স্পষ্ট অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, ১৮এ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রকে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, বিশেষ করে জলাশয় ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তার বিধান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    অন্যদিকে, ‘মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন’ এবং ‘জাতীয় মৎস্য নীতি’র মূল স্পিরিটই হলো প্রকৃত মৎস্যজীবীদের চিরায়ত অধিকার রক্ষা এবং জলাশয়ের প্রাকৃতিক বাস্তুসংস্থান সুসংহত করা। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণা ও বিশ্বব্যাংকের টেকসই মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বারবার বলা হয়েছে, জলাশয় যখন স্থানীয় সম্প্রদায়ের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তখন তার জীববৈচিত্র্য ও উৎপাদনশীলতা দুটোই বৃদ্ধি পায়। ফলে, যারা ভুয়া সমবায়ের সাইনবোর্ড সর্বস্ব নাম ব্যবহার করে কিংবা স্থানীয় পেশীশক্তি ও ক্ষমতার দাপটে বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী জলাশয় ও বিলগুলো জিম্মি করে রেখেছে, তারা কেবল প্রান্তিক জেলেদের পেটেই লাথি মারছে না, বরং দেশের প্রচলিত আইন ও পবিত্র সংবিধানকেও চরমভাবে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে।

    মুক্ত জলাশয় কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একক সম্পত্তি নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের দূরদর্শী ‘আই হ্যাভ এ প্লান’ এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বৈষম্যমূলক ইজারা প্রথার অবসান ঘটছে। এখন সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, মাঠপর্যায়ের কুখ্যাত সিন্ডিকেট ও শোষকদের হাত থেকে দেশের প্রতিটি বিল ও জলাশয় মুক্ত করে ‘জাল যার, জলা তার’ নীতির সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা! তাহলেই দেশি মৎস্য ও কৃষিজ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলবায়ুর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমরা সক্ষম হব।”

    ইজারা প্রথার অন্ধকার দিক ও শোষণের চালচিত্র:

    দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ইজারা ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় কুফল ছিল মধ্যস্বত্বভোগী ও স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের অশুভ দৌরাত্ম্য। কাগজে-কলমে অনেক সময় প্রান্তিক মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নামে জলাশয় বরাদ্দ বা লিজ দেওয়ার সরকারি নিয়ম থাকলেও, পর্দার আড়ালে রাজনৈতিক লেবাসধারী ও অর্থলোভী চক্র পুরো ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিত।

    এর ফলে যারা বংশানুক্রমিকভাবে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল, সেই প্রকৃত জেলেরা নিজেদের অধিকার থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হচ্ছিলেন। প্রভাবশালীরা জলাশয়গুলো কুক্ষিগত করে সাধারণ মানুষকে সেখানে নামতে বাধা দিত, এমনকি সামান্য মাছ ধরার অপরাধে চলতো অমানুষিক নির্যাতন ও মামলা-হামলার হয়রানি। বিলপাড়ের মানুষদের ব্যক্তিগত (বিলের ঘাটে গোসল, কাপড় কাঁচা), সামাজিক (আনন্দের বশে দলবেঁধে মাছধরা, দলবেঁধে সাঁতার কাটা, খেয়াঘাট পারাপার) ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম (বিয়ে-শাদিতে নদীর ঘাটে পান কাঁটা ও কালসী কাঁখে গীত গাওয়া) ব্যাহত হচ্ছে! সাধারণ কৃষকের নিত্যদিনের কৃষি কার্য, কৃষি পণ্য পরিবহন ও পশুপালন বাধাগ্রস্ত, নাব্যতা নষ্ট এবং জমির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে! উৎপাদন কমছে! বৈষম্য বাড়ছে!

    এই ইজারা ব্যবস্থার কারণে গ্রামীণ মৎস্যজীবীরা ক্রমান্বয়ে তাদের নিজস্ব জাল, নৌকা ও আজন্মের স্বাধীনতা হারিয়ে দিনমজুরে পরিণত হয়েছেন। যে জেলেরা একসময় মুক্ত মনে নিজের ডিঙি নৌকা নিয়ে বিল-হাওরে মনের আনন্দে জাল ফেলতেন, আজ তারা আড়ৎদার ও ইজারাদারদের অত্যাচারে সবকিছু হারিয়ে সকালে আড়ৎ থেকে চড়া দামে মাছ কিনে এনে গ্রামে গ্রামে ফেরি করে বিক্রি করার মতো ভাসমান শ্রমিকে রূপান্তরিত হয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, এই শোষক চক্রের ভয়ে বিল সংলগ্ন জমির প্রকৃত মালিকেরা পর্যন্ত নিজেদের প্লাবিত জমিতে বর্ষাকালে মাছ ধরতে পারেন না।

    গ্রামীণ নারীরা বাড়ির পাশে দুটো হাঁস পালন করবেন বা গৃহস্থালির প্রয়োজনে একটু জল ব্যবহার করবেন, সেই মৌলিক অধিকারটুকুও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এই তথাকথিত ইজারাদারদের বাণিজ্যিক লালসার কারণে। প্রতি মাসে সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম করে বিপুল পরিমাণ অর্থ অবৈধভাবে হাতিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে এই সিন্ডিকেট গ্রামীণ সমতাভিত্তিক অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিচ্ছিল।

    একটি কেইস স্টাডি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাঞ্ছারামপুরের সকল বিল ও জলাশয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের দখলে:

    সরকারের এই কেন্দ্রীয় ও জনকল্যাণমুখী সিদ্ধান্তকে যখন দেশব্যাপী সর্বস্তরের মানুষ স্বাগত জানাচ্ছে, তখন মাঠপর্যায়ে এর সফল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় কিছু নির্মম বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ আমাদের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। উদাহরণ হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী জলাশয় ও বিলের কথাই ধরা যাক। রূপসদী ইউনিয়নে চাপিলা মাছের জন্য বিখ্যাত ‘বারিয়াদহ বিল’ (বাইরাধরের বিল) এবং সুস্বাদু দেশি কৈ মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত ‘গলাচিপা বিল’, কিংবা সলিমাবাদ ইউনিয়নে শোল ও গজার মাছের জন্য একসময়ের বিখ্যাত ‘সাতদোনা বিল’ সহ অন্যান্য জলাশয় ও বিল দীর্ঘকাল ধরে স্থানীয় এক শ্রেণীর রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের সিন্ডিকেটের কবলে জিম্মি হয়ে আছে।

    বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় গলাচিপা গ্রুপ ফিসারী, চন্দ্রিভাঙ্গা ফিসারী, সাতদোনা গ্রুপ ফিসারী, বারিয়াদহ গ্রুপ ফিসারী, সোনারামপুর গ্রুপ ফিসারী, ইছাপুর গ্রুপ ফিসারী, বাঞ্ছারামপুর ফিসারী, মায়ারামপুর ফিসারী, পাহাড়িয়াকান্দি ভেড়া বিল ফিসারী ও চন্দন ফিসারী এবং দুলারামপুর মধ্যপাড়া জলাশয়, পূর্ব ভেলানগর বিল, মিঠাকোর ফিসারী, পাহাড়িয়াকান্দি পুকুর, ফতেপুর ভাসান বিল, কানাইনগর বিল, রূপসদী খাস পুকুর বর্তমানে জলমহাল হিসেবে ইজারাধীন আছে। কাগজে কলমে ইজারাদার থাকলেও বাস্তবে বেশিরভাগই সিন্ডিকেটের দখলে।

    আশ্চর্যের বিষয় হলো, এসব সিন্ডিকেটে সর্বদলীয় আত্মীয়-স্বজন ও সুবিধাবাদীরা নিজেদের অর্থ ভাগাভাগির স্বার্থে একই নীতি ধারণ করে ধন্য হন! এই অবৈধ অর্থলোভ ও অন্ধ স্বার্থের কারণেই সেখানে ‘বাঘে-মহিষে একই ঘাটে পানি খেতে’ কোনো অসুবিধা হয় না। কাগজে-কলমে এই বিলগুলো সাধারণ মৎস্যজীবীদের কল্যাণে বরাদ্দ থাকার কথা থাকলেও, বাস্তবে গুটি কয়েক প্রভাবশালী ব্যক্তি পুরো প্রাকৃতিক জলাভূমিকে নেট-বাঁশ দিয়ে ঘিরে নিজেদের ব্যক্তিগত পুকুরে পরিণত করে রেখেছে। কৃত্রিম বাধ তৈরি ও নিষিদ্ধ জালের মাধ্যমে প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মৎস্য চাষ করা হচ্ছে, যা জলাশয়ের নিজস্ব ইকোসিস্টেম ও দেশীয় মাছের বংশবৃদ্ধিকে চরম হুমকির মুখে ফেলেছে।

    যতদূর মনে পড়ে ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট রূপসদী ইউনিয়নের হোগলাকান্দি গ্রামে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় অত্র এলাকার গলাচিপা, সাতদোনা ও বারিয়াদহ বিলসহ সকল জলাশয় জবরদখলমুক্ত করার স্পষ্ট রাজনৈতিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই উন্মুক্ত নীতির আলোকেই আজ স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ ও মৎস্যজীবী সমাজ নতুন করে আশার আলো দেখছেন। রূপসদীর সাধারণ মানুষ ও নিপীড়িত জেলেরা, বিশেষত প্রান্তিক হিন্দু দাস বা জলদাস সম্প্রদায়, আজ অনতিবিলম্বে ‘বারিয়াদহ বিল’, ‘গলাচিপা বিল’ ও ‘সাতদোনা বিল’ এর অবৈধ নিয়ন্ত্রণ ও তথাকথিত ইজারা বাতিল করে তা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার তীব্র দাবি তুলছেন।

    একই সাথে এই শোষণের নেপথ্যে থেকে যারা বছরের পর বছর ধরে কোটি কোটি টাকার অবৈধ চাঁদাবাজি করেছে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের মুখোশ উন্মোচন করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, বিশেষ করে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী কমিশনার বা এসি ল্যান্ড এর এই বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

    অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুদূরপ্রসারী প্রভাব:

    উন্মুক্ত জলাশয় নীতি কেবল প্রান্তিক জেলেদের অধিকারই ফিরিয়ে দেবে না, বরং এটি দেশের সামগ্রিক মৎস্য উৎপাদন এবং গ্রামীণ পুষ্টির চাহিদা পূরণে এক বিশাল মাইলফলক হিসেবে প্রমাণিত হবে। যখন মধ্যস্বত্বভোগীদের অতিরিক্ত খাজনা বা ইজারার খরচের বোঝা জেলেদের ওপর থাকবে না, তখন মাছের উৎপাদন ও আহরণ খরচ অনেকাংশে কমে আসবে। মুক্ত জলাশয়ের দেশি মাছ যখন সিন্ডিকেটের হাত থেকে মুক্ত হয়ে সরাসরি বাজারে আসবে, তখন সাধারণ ভোক্তারা অনেক কম মূল্যে পুষ্টিকর দেশীয় মাছ কিনতে পারবেন।

    প্রান্তিক জেলেদের আয় বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ক্যাশ-ফ্লো বা অর্থের প্রবাহ বাড়বে, যা সামগ্রিক টেকসই গ্রামীণ উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে। এছাড়া, সরকার অকাল বন্যা ও জলাবদ্ধতা থেকে বোরো ফসল রক্ষার্থে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নদী ও খাল খনন কর্মসূচি জোরদার করছে, যা কৃষিখাত ও মৎস্যখাত উভয়কেই এক অভূতপূর্ব যুগলবন্দীতে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

    বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ ও আমাদের করণীয়:

    সরকারের এই মহৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের পথে প্রধান ও অন্যতম চ্যালেঞ্জ হলো স্থানীয় পর্যায়ে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক ও পেশীচালিত সিন্ডিকেটের প্রচ্ছন্ন প্রতিরোধ। কেন্দ্রীয়ভাবে নীতিগত সিদ্ধান্ত হলেও মাঠপর্যায়ে ইজারামুক্ত বিলগুলোতে যেন নতুন কোনো নামে বা নতুন কোনো রাজনৈতিক ব্যানারে চাঁদাবাজি বা ‘টোল’ আদায় শুরু না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ ও কঠোর হতে হবে।

    প্রতিটি উপজেলার উন্মুক্ত জলাশয়, নদী ও বিলের একটি সঠিক ও হালনাগাদকৃত ডিজিটাল তালিকা তৈরি করে তা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত বা পাবলিক নোটিশ আকারে ঘোষণা করতে হবে। প্রকৃত মৎস্যজীবীদের একটি জাতীয় ডাটাবেজ বা আইডি কার্ডের ব্যবস্থা নিশ্চিত করে তাদের প্রবেশাধিকার সুসংহত করা প্রয়োজন, যাতে কোনো প্রভাবশালী চক্র পুনরায় ভিন্ন উপায়ে বা ছদ্মনামে জলাশয় জিম্মি করতে না পারে। এজন্য স্থানীয় প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কঠোর ‘নজরদারি সেল’ গঠন করা যেতে পারে। এই মহৎ কর্মযজ্ঞে দেশের সংবাদপত্র, প্রেসক্লাব ও সাংবাদিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও সত্য সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে গ্রামীণ শোষকদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে।

    পরিশেষে, মুক্ত জলাশয় কিংবা বহমান নদী কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একক সম্পত্তি নয়; এটি প্রতিটি নাগরিকের অবিকল্প প্রাকৃতিক অধিকার। ‘জাল যার, জলা তার’ এই অবিনাশী স্লোগানকে কেবল ফাইলের পাতায় বা কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে বাঞ্ছারামপুরের বারিয়াদহ, সাতদোনা ও গলাচিপা থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি প্রান্তিক হাওর, নদী ও বিলে এর পূর্ণ ও দৃশ্যমান প্রতিফলন ঘটাতে হবে।

    মহান স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী গণমুখী রাজনীতির ধারাবাহিকতায়, প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কার্যকর বাস্তবায়নই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ও চ্যালেঞ্জ। অবমুক্ত হোক দেশি মাছের পোনা, ভেঙে যাক শোষণের সকল অদৃশ্য খাঁচা। মুক্ত হোক আমাদের বিল-জলাশয়, ফিরে আসুক মেহনতি জেলেদের হারিয়ে যাওয়া সুদিন।

    • লেখক: অ্যাডভোকেট মীর হালিম, আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও পাবলিক পলিসি অ্যানালিস্ট।
    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সম্পাদকীয়

    ব্যাংক ও পুঁজিবাজারের সেতুবন্ধন: অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার আধুনিক কৌশল

    জুলাই 9, 2026
    ব্যাংক

    দুর্বল ব্যাংক বাঁচাতে কী পথ দেখালেন অর্থনীতিবিদ?

    জুলাই 9, 2026
    মতামত

    সমৃদ্ধির পথে বাংলাদেশের অদৃশ্য বাধা দুর্নীতি ও অর্থ পাচার

    জুলাই 9, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    দুর্বল মানিপাচার প্রতিরোধে ঝুঁকিতে বাণিজ্য ও ব্যাংকিং

    ব্যাংক জুলাই 9, 2026

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram
    ‘হাম ব্যবস্থাপনায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সমূহ কি পর্যাপ্ত ছিল, আপনি কি মনে করেন?

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.