Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice সোম, সেপ্টে. 21, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • জলবায়ু ও পরিবেশ
      • লাইফস্টাইল
      • বিশ্লেষণ
      • বিশেষ বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » মক্কা চুক্তির পরীক্ষা: সৌদির জন্য কি যুদ্ধে জড়াবে পাকিস্তান?
    মতামত

    মক্কা চুক্তির পরীক্ষা: সৌদির জন্য কি যুদ্ধে জড়াবে পাকিস্তান?

    নিউজ ডেস্কসেপ্টেম্বর 21, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ছবি: রয়টার্স
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    মধ্যপ্রাচ্য আবার এক বিপজ্জনক মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। এবার আর বিষয়টি কোনো দূরবর্তী আশঙ্কা বা সম্ভাবনার সমীকরণ নয়, ঘোর বাস্তবতা। লোহিত সাগর উপকূলে কয়েক বছরের মধ্যে নিজেদের সবচেয়ে বড় সামরিক সাফল্য দেখিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা।

    বাব আল-মানদেব প্রণালির কাছাকাছি বৃহৎ ও ক্ষুদ্র হানিশ দ্বীপপুঞ্জ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর তারা এখন মোখা শহরের দিকে এগোচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে ইয়েমেনের এক দশক পুরোনো গৃহযুদ্ধ নতুন করে জ্বলে উঠেছে।

    একই সঙ্গে স্বাক্ষর করার মাত্র এক মাসের মাথায় পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে গঠিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’কেও ফেলেছে তাদের প্রথম বাস্তব পরীক্ষার মুখে।

    এ চুক্তির মূল কথাটি বেশ স্পষ্ট—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র আক্রমণ হলে তা বাকি দুই দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে।

    পাকিস্তান শুরু থেকেই বলে আসছে, চুক্তিটি নিছক আত্মরক্ষামূলক; কোনো যুদ্ধে জড়ানোর দাওয়াত নয়। এত দিন বিষয়টিকে কেবল কথার কথা মনে হলেও এখন তা আর কূটনৈতিক পরিভাষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ইসলামাবাদকে এখন বাস্তবে প্রমাণ করে দেখাতে হচ্ছে—তাদের এ অবস্থান আসলে কী বোঝায়।

    ছড়িয়ে পড়ছে সংকট

    হুতিদের অগ্রযাত্রার জবাবে গত দুই সপ্তাহে তীব্র আক্রমণ চালিয়েছে সৌদি আরব; পাঁচ দিনে করেছে প্রায় ৩০০টি বিমান হামলা। সীমান্তের দুই পারেই বাড়ছে প্রাণহানি। যুদ্ধের এই উত্তাপ সৌদি তেলের বাজারেও অস্থিরতা তৈরি করেছে।

    পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয় ১৬ সেপ্টেম্বর। ওই দিন মক্কা অভিমুখে আসা একটি হুতি ড্রোন আকাশে ধ্বংস করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। মক্কার আধ্যাত্মিক গুরুত্বের কারণে এই শহরের প্রতি যেকোনো হুমকিকে সর্বোচ্চ লাল দাগ হিসেবে দেখে রিয়াদ। পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া আসতেও সময় লাগেনি।

    পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ইসলামাবাদ চুক্তির বাধ্যবাধকতা পালনে প্রস্তুত। তাঁর ভাষায়, ‘মক্কা চুক্তি আমাদের ওপরও কার্যকর হয় এবং আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করব।’

    খাজা আসিফ মুখে যা-ই বলুন না কেন, এখানেই মূল খটকা—কথা ও কাজের পার্থক্যের মধ্যেই লুকিয়ে আছে আসল গল্প। আর এ বিষয়টিই আমাদের প্রশ্নের মূল উত্তর খুঁজে দেবে।

    পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর অতটা কড়া বক্তব্যের পরও ইসলামাবাদ সামরিকভাবে চুক্তিটিকে কার্যকর করার জন্য সক্রিয় কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ১০ সেপ্টেম্বরই পাকিস্তান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, তাৎক্ষণিক সামরিক প্রতিক্রিয়ার কথা ভাবছে না তারা; আপাতত নজর থাকবে কূটনীতিতেই।

    এমনকি ১৭-১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বার্তা সংস্থা এপিকে দেওয়া তথ্যমতে, তুর্কি ও পাকিস্তানি কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেন যে চুক্তির আওতায় রিয়াদ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সাহায্যই চায়নি। তবে ভেতরে–ভেতরে রিয়াদ হাত বাড়াচ্ছে অন্যদিকে।

    আপাতত ওমান ও মিসরই মূল কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ করছে। সৌদি কর্মকর্তাদের ভাবসাব দেখে মনে হচ্ছে, সরাসরি অন্য পথ ধরার আগে কূটনীতিকে আরও একটু সুযোগ দিতে চান তাঁরা।

    ধীরগতিতে হাঁটার জন্য তুরস্কের অবশ্য নিজস্ব অজুহাত আছে। অক্টোবরের আগে তুর্কি সংসদে চুক্তিটি অনুমোদিত হওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে আঙ্কারার মনে যা-ই থাকুক, তাদের চুক্তিটি এখন আইনি জটিলতার গ্যাঁড়াকলে ঝুলে আছে।

    তবে এই কালক্ষেপণ একদম নিখরচায় হচ্ছে না। নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে বিকল্প সমীকরণ খুঁজতে বাধ্য হচ্ছে সৌদি আরব। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে হুতিদের ওপর মার্কিন বিমান হামলার জন্য দুবার আহ্বান জানান বলে জানা গেছে।

    ট্রাম্প সরাসরি হামলা চালাতে না করলেও গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। রিয়াদ নাকি এখন ইসরায়েল ও ব্রিটেনের দরজাতেও নাড়া দিচ্ছে; কারণ, চুক্তির সঙ্গীদের থেকে সময়মতো কোনো কার্যকর সাড়া পাওয়া যায়নি।

    স্টিভেন এ কুকের মতো অনেক মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক এখন প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তুলছেন, চুক্তির পর সামরিক কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় সই করার এক মাসের মধ্যেই চুক্তিটির গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ল কি না।

    সমস্যার মূল জায়গাটি ঠিক এখানেই—ইসলামাবাদ যেটিকে তাদের দায়িত্বশীল সংযম হিসেবে দেখতে চাইছে, রিয়াদের চোখে তা একাকী ফেলে রেখে যাওয়ার শামিল।

    ইয়েমেনে একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত উড়োজাহাজের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন হুতি বিদ্রোহীরা। তাঁদের দাবি, এটি সৌদি আরবের একটি যুদ্ধবিমান। মারিব, ইয়েমেন, ১৬ সেপ্টেম্বর
    ইয়েমেনে একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত উড়োজাহাজের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন হুতি বিদ্রোহীরা। তাঁদের দাবি, এটি সৌদি আরবের একটি যুদ্ধবিমান। মারিব, ইয়েমেন, ১৬ সেপ্টেম্বর । ছবি: এএফপি

    প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা বাস্তবে যেমন দেখাচ্ছে

    পাকিস্তান কিছুই করেনি—এমনটা বলা অবশ্য পুরোপুরি ঠিক হবে না। চলমান সংকট শুরুর অনেক আগেই সৌদি আরবের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির অধীন পাকিস্তানের প্রায় ১৬টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং সেনাসদস্য সৌদি ভূখণ্ডে রাখা আছে।

    পাশাপাশি ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির রিয়াদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সরাসরি আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে।

    একদিকে রিয়াদের প্রতি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে হুতিদের লাগাম টানতে তেহরানের ওপর কূটনৈতিক চাপ তৈরি করতে ইসলামাবাদ ব্যবহার করছে চ্যানেলটি। এই মুহূর্তে ময়দানে অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর চেয়ে নেপথ্যের এই কূটনীতি হয়তো অনেক বেশি কাজ দিচ্ছে।

    পাকিস্তান মূলত এখানেই একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য তৈরি করতে চাইছে, তা প্রকাশ্যে বলুক আর না-ই বলুক। নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং সৌদি ভূখণ্ডে সেনা মোতায়েন রাখা এক বিষয়, আর ইয়েমেনের ভেতরে গিয়ে আক্রমণাত্মক সামরিক হামলায় অংশ নেওয়া সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।

    মক্কা চুক্তির ঘোষিত উদ্দেশ্যগুলোও—যেমন যৌথ প্রতিরোধ ব্যবস্থা, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সামরিক প্রযুক্তিতে সহযোগিতা—প্রথমটিকে সমর্থন করে, কিন্তু দ্বিতীয়টির বাধ্যবাধকতা তৈরি করে না।

    কূটনৈতিক ভারসাম্য

    সামরিক পরিকল্পনা দিয়ে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের যেমন সুগভীর সামরিক ও প্রতিরক্ষামূলক সম্পর্ক রয়েছে, ঠিক তেমনই প্রতিবেশী দেশ ইরানের সঙ্গেও ইসলামাবাদকে একটি সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলতে হয়।

    কোনো অবস্থাতেই ইয়েমেন যেন সৌদি-ইরান সরাসরি যুদ্ধের কারণ হয়ে না দাঁড়ায়, সেদিকে কড়া নজর পাকিস্তানের। আর ঠিক এ কারণেই আসিম মুনির ও আব্বাস আরাগচির এ কূটনীতি এত তাৎপর্যপূর্ণ।

    চীনের ভূমিকার দিকেও নজর রাখা দরকার। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে লোহিত সাগরে পণ্যবাহী জাহাজে হুতিদের হামলা কমাতে ইরানের ওপর চাপ তৈরি করেছিল চীন, হুমকি দিয়েছিল বাণিজ্যিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার।

    বৈশ্বিক বাণিজ্যে লোহিত সাগর ও সংলগ্ন প্রণালিগুলোর গুরুত্ব বিবেচনা করলে বেইজিং যে আবারও একই ধরনের উদ্যোগ নেবে, তা বলা বাহুল্য। ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি-ইরান সম্পর্কের বরফ গলার ঘটনাটি প্রমাণ করে যে সংকট কাটাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় বেইজিং বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।

    খতিয়ে দেখলে বোঝা যায়, বিভিন্ন দেশের স্বার্থের হিসাব এক রেখায় মিলছে না ঠিকই, তবে সেগুলোর কোনোটিই নতুন কোনো যুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে না। সৌদি আরব চায় তার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। ইরান চায় অঞ্চলে তার রাজনৈতিক প্রভাব টিকিয়ে রাখতে।

    চীনের দরকার বাণিজ্যিক নৌপথের নিরাপত্তা। পাকিস্তান চায় সৌদি আরবের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রেখেই ইরানের সঙ্গে নতুন কোনো সংঘাত এড়িয়ে চলতে।

    আর তুরস্ক চায় এ অঞ্চলে নিজের রাজনৈতিক ওজন বাড়াতে, যদিও সংসদীয় অনুমোদনের কারণে তারা এখন কিছুটা ধীরগতিতে হাঁটছে। লক্ষ্য ভিন্ন হলেও ওমান-মিসরের মধ্যস্থতা থেকে শুরু করে মুনির-আরাগচি যোগাযোগ স্পষ্ট করে, সব পক্ষই আপাতত পরিস্থিতিকে এই সীমিত পরিসরেই সামাল দিতে আগ্রহী।

    ইয়েমেন সংকটের একটি পাকিস্তানি দিকও রয়েছে, যা সাধারণত আলোচনায় কমই আসে। বাব আল-মানদেব প্রণালিটি সরাসরি গিয়ে মিশেছে আরব সাগরে। তার মানে জিন্নাহর করাচি বন্দর, সিপেকের প্রাণকেন্দ্র গওয়াদর কিংবা পাকিস্তানের নিজস্ব সমুদ্রসীমা মোটেও ইয়েমেন সংকট থেকে খুব একটা দূরে নয়।

    লোহিত সাগরে টানা জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে পণ্য পরিবহন খরচ ও ইনস্যুরেন্স প্রিমিয়াম একলাফে অনেক বেড়ে যায়, যা বিকল্প বাণিজ্যিক পথ খোঁজার তাগিদ তৈরি করে। সিপেকের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি গওয়াদর বন্দরের কৌশলগত গুরুত্ব অনেক বাড়ায় বটে, তবে একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের মনে ঝুঁকিও তৈরি করে।

    ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, ২৪ আগস্ট ২০২৬
    ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, ২৪ আগস্ট ২০২৬ / রয়টার্স

    ইয়েমেনে পা দেওয়ার বিপদ

    ইসলামাবাদের জন্য আসল কঠিন পরীক্ষাটি তখন আসবে, যদি রিয়াদ ইয়েমেনের মাটিতে হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নিতে পাকিস্তানকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করে বসে।

    ইয়েমেনের ভেতরে পাকিস্তানের সামরিক উপস্থিতি পাল্টা হামলার ঝুঁকি বাড়াবে, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কে ফাটল ধরাবে, ভেতরে উসকে দেবে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা এবং একটি প্রতিরক্ষামূলক জোটকে জড়িয়ে ফেলবে এক অনির্দিষ্টকালের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে।

    এর ফলে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান এখন যে কার্যকর কূটনৈতিক ভূমিকা পালন করছে, তা রাতারাতি ভেস্তে যাবে।

    তিনটি বিষয়কে এখানে আলাদা করে দেখা দরকার—সৌদি ভূখণ্ডের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা, চুক্তির সদস্যদের ওপর হামলা ঠেকানো এবং ইয়েমেনের ভেতরে ঢুকে যুদ্ধ করা। প্রথম দুটি কাজ পাকিস্তান এখনই করছে। আর তিন নম্বরটি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

    আসল পরীক্ষা

    মক্কা চুক্তির আসল পরীক্ষা কিন্তু ইয়েমেনের মাটিতে পাকিস্তানের সেনা নামানো না-নামানোর ওপর নির্ভর করছে না। পরীক্ষাটি হচ্ছে এখনই, একদম বাস্তব সময়ে—যুদ্ধে না জড়িয়েও বর্তমানে মোতায়েন থাকা বিমান স্কোয়াড্রন, আকাশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং ইরানের ওপর কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে পাকিস্তান ও তার সহযোগীরা একটি শক্তিশালী ও বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরক্ষাবলয় তৈরি করতে পারছে কি না।

    এখন পর্যন্ত ইসলামাবাদ সামরিকভাবে জড়ানোর চেয়ে সংযমকেই বেছে নিয়েছে। কিন্তু গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা রিয়াদের চোখে চিত্রটি ভিন্ন হতে পারে। ওয়াশিংটন, তেল আবিব আর লন্ডনে যখন ফোন ঘন ঘন বাজছে, তখন নিজেদের রক্তঘামের চুক্তির সঙ্গীদের চুপ থাকাটা সংযম নয়, বরং সময়ের প্রয়োজনে পাশে না পাওয়া বলেই মনে হতে পারে।

    একই পদক্ষেপের এই যে দুই ভিন্ন ব্যাখ্যা, তা ইয়েমেনের যুদ্ধক্ষেত্রের যেকোনো খবরের চেয়েও বেশি প্রভাব ফেলবে মক্কা চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে।

    ইতিহাস মনে রাখবে, এই সংকট কি পাকিস্তানকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল, নাকি এটি ছিল কেবল কাগজে-কলমে থাকা এক চুক্তি, যা প্রথম কঠিন পরীক্ষাতেই থমকে গিয়েছিল।

    • মনসুর কায়সার: ইসলামাবাদভিত্তিক পররাষ্ট্র ও কূটনীতিবিষয়ক লেখক। সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর
    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সম্পাদকীয়

    ডিজিটাল মুদ্রার যুগে কাগজের ব্যাংক: ঐতিহ্য বনাম অস্তিত্বের লড়াই

    সেপ্টেম্বর 20, 2026
    মতামত

    ‘বিশ্বকে অবশ্যই মুসলিম নারীদের ‘উদ্ধার’ করার চেষ্টা বন্ধ করতে হবে’

    সেপ্টেম্বর 20, 2026
    মতামত

    ট্রাম্পের ভিন্নমত দমনে মুসলমানদের ওপর পরীক্ষিত ক্ষমতা ব্যবহার

    সেপ্টেম্বর 20, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.