বিশ্বখ্যাত অর্থনীতিবিদ এবং নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা এবং শেখ হাসিনা সরকারের কার্যক্রম নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনের ফাঁকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ বিষয়ে খোলামেলা মত প্রকাশ করেন।
অধ্যাপক ইউনূস সরাসরি অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা সরকারের সময় বাংলাদেশের উচ্চ প্রবৃদ্ধি নিয়ে যেসব দাবি করা হয়েছিল, তা ছিল “জালিয়াতি”। তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা বলেছিলেন, আমাদের প্রবৃদ্ধির হার অন্য সবার চেয়ে বেশি। এটা একেবারে জালিয়াতি।” তবে এই জালিয়াতি প্রসঙ্গে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্পর্কে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে অধ্যাপক ইউনূস জানান, তিনি প্রবৃদ্ধির হারকে সবকিছুর মানদণ্ড হিসেবে দেখতে চান না। তার মতে, “আমি চাই একেবারে প্রান্তিক পর্যায় থেকে প্রতিটি মানুষের উন্নত জীবনমান নিশ্চিত হোক। এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তোলার প্রয়োজন, যেখানে সম্পদ পুঞ্জীভূত হওয়ার পরিবর্তে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা হবে।”
এছাড়া সম্পদের বৈষম্য কমানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, দেশের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য এমন ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। যা সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে।
শেখ হাসিনা সরকারের কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরব ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন অধ্যাপক ইউনূস। তিনি বলেন, “তিনি (শেখ হাসিনা) দাভোসে এসে দেশ কীভাবে চালাতে হয়, সে কথা সবাইকে বলেছিলেন। কিন্তু কেউ প্রশ্ন করেননি। এটা মোটেও ভালো বিশ্বব্যবস্থা নয়।”
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার শাসন ব্যবস্থা স্বৈরাচারী হয়ে ওঠার পেছনে পুরো বিশ্বের দায় রয়েছে। “এটা যে ঘটেছে, এর জন্য পুরো বিশ্ব দায়ী। তবে এটা বিশ্বের জন্য একটি শিক্ষা।”
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশ এবং ভারতের সম্পর্ক যতটা সম্ভব শক্তিশালী হওয়া উচিত। বাংলাদেশের মানচিত্র ছাড়া ভারতের মানচিত্র আঁকা সম্ভব নয়।” তবে চীনকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে ব্যথিত করে।
রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার বিষয়ে অধ্যাপক ইউনূস স্পষ্টভাবে জানান, তার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কোনো আগ্রহ নেই। বরং তিনি দেশের উন্নয়নে নীতি প্রণয়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গঠনের ওপর গুরুত্ব দিতে চান।
অধ্যাপক ইউনূসের এই বক্তব্যে বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক নীতি-নির্ধারকদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁর মন্তব্যগুলো বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।

