ড. মোস্তফা কে মুজেরী, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক। ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখ্য অর্থনীতিবিদ।
এছাড়া বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ও সিরডাপের গবেষণা পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। সম্প্রতি তিনি নতুন সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটের নানা দিক নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের নানা দিক দেখে কী মনে হলো? এটি কি সংকট ব্যবস্থাপনার বাজেট নাকি অর্থনৈতিক রূপান্তরের বাজেট?
সরকার ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা নেয়ার পর এটিই তাদের প্রথম বাজেট। অর্থমন্ত্রীও এবারই প্রথম বাজেট ঘোষণা করলেন। কাজেই সবকিছু মিলিয়ে বাজেটে সংকট ব্যবস্থাপনা ও অর্থনৈতিক রূপান্তর দুটোরই সংমিশ্রণ কিন্তু দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। আগামীতে সরকার কোথায় যেতে চায় সেটিই বাজেটে রয়েছে। এখানে সরকারের কর্মপরিকল্পনা ও অগ্রাধিকারের বিষয় আছে। আবার একই সময়ে অর্থনৈতিক বাস্তবতাকেও তো অস্বীকার করা যায় না। সংকটকালীন এ সময়ে এগোতে হলে পরিস্থিতির উত্তরণ করতে হবে। তা না হলে এগোনো যাবে না। এজন্যই বাজেটের মধ্যে সংকট উত্তরণের পথরেখা সম্পর্কে কিছু চিন্তাভাবনা আছে। সবকিছু মিলিয়ে প্রথম বাজেট হিসেবে সরকার তাদের চিন্তাভাবনার ডালি খুলে ধরেছেন—এমনটিই মনে হচ্ছে।
বাজেট বাস্তবায়নে সরকারের কিছু লক্ষ্যমাত্রা ও কর্মপরিকল্পনার কথা আছে। তবে এগুলো কতটা বাস্তবসম্মত মনে হচ্ছে? আপনি নিজেই স্বীকার করেছেন এক্ষেত্রে অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। সরকার ২০৩৪ সাল নাগাদ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি অর্জনের পাশাপাশি বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যের কথা বলেছে। এ লক্ষ্য অর্জন করতে হলে এখন থেকেই কাজ শুরু করা জরুরি। কারণ ২০৩৪ সাল আসতে খুব বেশি সময় বাকি নেই। এটা অবশ্য অসম্ভব কিছু নয়। এ ধরনের অর্থনীতি অর্জনের সক্ষমতা আমাদের আছে। তবে এক্ষেত্রে সক্ষমতাকে সঠিকভাবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের যে ধ্যান-ধারণা রয়েছে সেগুলোয় পরিবর্তন আনতে হবে।
যেমন এখনকার উন্নয়ন দর্শন আমরা আগেও অনুসরণ করেছি। এটিকে আমরা ইংরেজিতে নিউ লিবারেল দর্শন বলতে পারি। নিউ লিবারেল বা নব্য উদারবাদী এ দর্শন আমাদের কোথায় নিয়ে গেছে সেটি দেখা জরুরি। আবার এ দর্শন বর্তমান সরকারের অর্জন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ কিনা সেটিও দেখতে হবে।
বিগত কয়েক দশকে আমরা উন্নতি করেছি এটি অস্বীকারের উপায় নেই। প্রবৃদ্ধি বেড়েছে, আমাদের সব খাতেই উন্নয়ন হয়েছে, সামাজিক খাতে উন্নয়ন হয়েছে এবং দারিদ্র্যও কমেছে। একই সময়ে বৈষম্যও বেড়েছে। এই যে আমরা নব্য উদারবাদী দর্শনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ ধারণা অনুসরণ করে এলাম, সেটাই কি আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য ছিল? স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ের তুলনায় এখনকার সমাজে বৈষম্য তুলনামূলক বেশি। এজন্যই এখন প্রশ্ন করার সময় এসেছে, আমরা কী এমন অর্থনীতিই গড়তে চেয়েছিলাম?
দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আমাদের প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। এবারের বাজেটে দীর্ঘদিনের প্রবৃদ্ধি বদলানোর মডেল কি এসেছে? নাকি আমরা অতীতের ধারাবাহিকতায়ই প্রবৃদ্ধি বাড়াতে চাচ্ছি?
সত্যি বলতে, প্রবৃদ্ধি বা অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারায় যে গুণগত পরিবর্তন দরকার সেটি বাজেটে স্বীকার করা হয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এ গুণগত পরিবর্তন আমরা কীভাবে আনব? এজন্য তো আমাদের পথরেখা আগে ঠিক করতে হবে। একটি বাজেটে তো আর সেটি সম্পন্ন হবে না। আমাদের আগে ওই পথরেখা চিহ্নিত করতে হবে। এজন্য কিছু কর্মপন্থা দরকার। আমাদের দুর্বলতা বুঝতে হবে। এজন্য সরকার কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে।
একটি বিশেষজ্ঞদের কমিটিও করা হয়েছে। এজন্য আমরা যদি গুণগত পরিবর্তন আনতে চাই তাহলে বর্তমানে অনুসরণীয় নীতি কাঠামো বা উন্নয়ন দর্শনের মধ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন দরকার। এ পরিবর্তন টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হবে। তবে এ ধরনের উন্নয়ন এ নব্য উদারবাদী দর্শন ও কাঠামোর মাধ্যমে সম্ভব নয়। এজন্য আমাদের ওই দর্শনের বাইরে গিয়ে সত্যিকারের মানবকেন্দ্রিক অর্থনীতির রূপরেখা বানাতে হবে। এখানে মানুষই সবকিছুর কেন্দ্রে থাকবে। আমরা প্রবৃদ্ধির পেছনে ছুটছি। এটি মানুষের উন্নয়নের একটি মাধ্যম, কিন্তু লক্ষ্য হতে পারে না।
তবে এটিকে আমরা লক্ষ্য বানিয়ে ফেলেছি। মানুষকে বানিয়েছি তার মাধ্যম। এ ধারণায় পরিবর্তন আনতে হবে। মানুষকে বানাতে হবে সব অর্থনৈতিক নীতি, পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য এবং প্রবৃদ্ধিকে করতে হবে তার একটা মাধ্যম। এই যে একটা দর্শনগত বড় পরিবর্তন, আমার মনে হয় এখন সময় এসেছে বাংলাদেশে এ বিষয়গুলোকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করার। তা না হলে বাজেট বড় হবে, আরো মেগা প্রকল্প হবে, মাথাপিছু আয় বাড়বে। কিন্তু সাধারণ মানুষের জীবনে স্বস্তি আসবে না।
দর্শনগত পরিবর্তনটি দীর্ঘমেয়াদে অর্জন করতে হবে। তবে অর্থনীতির বিদ্যমান সংকট অর্থাৎ উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগে ভাটা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ, বিনিময় হারের সংকট মোকাবেলার রূপরেখা বাজেটে কী প্রতিফলিত হয়েছে?
তাৎক্ষণিক সংকট সামাল দিতে না পারলে দীর্ঘমেয়াদি সংকট মোকাবেলার সুযোগ থাকবে না। এজন্যই সরকারকে এসব সংকট গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তব্যে এ সংকটগুলোর কথা স্বীকার করেছেন। তিনি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রিজার্ভের পতন রোধ করা, রাজস্ব আদায় বাড়ানোকে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এ অগ্রাধিকারগুলো অর্জন করার জন্য বাজেটে যেসব সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচক বা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, সেগুলো কতটা বাস্তবসম্মত? যেমন মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৬ শতাংশে নামিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে।
কয়েক মাস ধরে মূল্যস্ফীতি প্রায় ১০ শতাংশের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করছে। এ অবস্থা থেকে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৬ শতাংশে নামিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন কাজ। এজন্য যে ধরনের কঠোর মুদ্রানীতি ও একই সঙ্গে সংকোচনশীল রাজস্বনীতি দরকার, বাজেটের মধ্যে তার একটা আভাস দেয়া হয়েছে যে আমরা একটা সংকোচনশীল বাজেট করছি। তবে লক্ষ্যগুলো দেখা দরকার। যেমন ঘাটতি বাজেট জিডিপির ৪ দশমিক ৬ শতাংশ রাখা হয়েছে, যেটা গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম। কিন্তু এ ঘাটতি মেটানোর জন্য ব্যাংক খাত থেকে যে পরিমাণ ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, সেটা কিন্তু অনেক বড়। এত টাকা সরকার অভ্যন্তরীণ ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমবে।
আর বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ না হলে বিনিয়োগ হবে না, কর্মসংস্থান বাড়বে না। বিনিয়োগ আর কর্মসংস্থান না বাড়লে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা কীভাবে অর্জিত হবে? কাজেই এখানে এক ধরনের বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে। এ দুটো একসঙ্গে হওয়া কঠিন। কারণ মূল্যস্ফীতি কমাতে গেলে প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা মন্থর হবে, এটাই স্বাভাবিক। কাজেই আমার মনে হয় যে লক্ষ্যমাত্রাগুলো নির্ধারণের ক্ষেত্রে আরেকটু বাস্তবসম্মত হওয়া প্রয়োজন ছিল। এখন আমাদের যে বাজেটে ব্যয় করা দরকার, সেটা করতে পারছি কিনা? বাজেট বাস্তবায়নের হারও আশানুরূপ নয়।
কারণ সঠিকভাবে ব্যয় করা হচ্ছে না। তবুও আমরা আগের তুলনায় একটি বড় বাজেট বলছি এটিকে। আমরা এমন একটা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করেছি, যেটা কিন্তু অর্জন করতে গেলে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। যে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে তা বিদ্যমান বাস্তবতায় অর্জন সম্ভব নয়। এজন্য যে ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন করা দরকার, তা না করলে কোনো অবস্থাতেই এসব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা যাবে না।
এক্ষেত্রে পরিবর্তন বলতে কি প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের কথা বোঝাচ্ছেন?
শুধু প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাই নয়, গোটা ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তন আনা জরুরি। বর্তমানে রাজস্ব আদায়ের কাঠামোর দিকে তাকানো যাক। যিনি আয় করছেন তিনিই আহরণ করছেন। কর রাজস্বে প্রত্যক্ষ কর মাত্র তিন ভাগের এক ভাগ। বাকি দুই ভাগই পরোক্ষ কর। অথচ বিষয়টা উল্টো হওয়ার কথা। অর্থাৎ প্রত্যক্ষ কর হওয়া উচিত তিন ভাগের দুই ভাগ, আর পরোক্ষ কর হওয়া উচিত তিন ভাগের এক ভাগ। এ ধরনের কর কাঠামো থাকা দরকার যাতে অর্থ দিয়ে উন্নয়ন করা যায় আর বৈষম্য দূর করতে সহযোগিতা মেলে। আমাদের এ উল্টো কর কাঠামোটা কাম্য নয়।
এজন্য কর কাঠামোতে আমাদের বদল আনতে হবে। প্রত্যক্ষ কর আদায় বাড়াতে হবে। সত্যিকার অর্থে একটি বাস্তবমুখী এবং সমতা নিশ্চিত করে এমন কর কাঠামো এখন করতে পারব না। এজন্য কর কাঠামোর যে পরিবর্তনগুলো করতে হবে, যে সংস্কারগুলো করতে হবে, এটা শুধু কাঠামোগত পরিবর্তন করলেই হবে না। আর পরিবর্তন না করলে এই আমাদের যে লক্ষ্য তা অধরাই থেকে যাবে। অতীতে যেমন হয়েছে, কখনই আমরা লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারিনি। তাই রাজস্ব ব্যবস্থায়, কর কাঠামোতে, কর আদায় ব্যবস্থাসহ সবকিছুতেই যদি এ পরিবর্তনগুলো না করি তাহলে কিন্তু এটা সম্ভব হবে না।
বাজেটে এবার মূল্যস্ফীতি কমানোর লক্ষ্য আছে। বর্তমান বাস্তবতায় এগুলো অর্জন কঠিন। তবে প্রবৃদ্ধি বাড়ানো নাকি মূল্যস্ফীতি কমানো, কোনটি এখন বেশি কঠিন?
একটির সঙ্গে আরেকটির সম্পর্ক আছে। প্রবৃদ্ধির বিপরীতে মূল্যস্ফীতি বিষয়টি এমন নয়। একটি অর্জনের জন্য আরেকটি লাগবে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য এখন কী নীতি আমরা নিয়েছি? মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য। এখন বাংলাদেশ ব্যাংক প্রায় তিন বছর ধরেই নীতি সুদের হার ১০ শতাংশ রেখেছে। এটা অনেক। আবার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এটাই তো তাদের হাতিয়ার। পৃথিবীর প্রায় সব কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজস্বভাবে এ সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ব্যবহার করে মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে। বাংলাদেশ ব্যাংকও তাই করেছে। সঠিক কাজই করেছে এবং তারা কিন্তু এখনো সেই সঠিক কাজটাই করে যাচ্ছে। কিন্তু সত্যিকার অর্থে কি তার ফলাফলটা আমরা পেয়েছি? মূল্যস্ফীতি তো কমেনি।
মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী ধারা কিন্তু এখনো চলছে। সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি নেয়ার সুবিধা কেন্দ্রীয় ব্যাংক পায়নি। মানে কোনো প্রভাব মূল্যস্ফীতিতে পড়েনি। তাহলে পরবর্তী করণীয় কী তা আমাদেরই ঠিক করতে হবে। এজন্য মূল্যস্ফীতির মূল কারণগুলো আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। দেশে শুধু চাহিদার কারণে মূল্যস্ফীতি হয় এমন নয়। চাহিদা ছাড়াও ঘটে। যেমন সরবরাহর ক্ষেত্রে বিঘ্ন ঘটলে তাতে মূল্যস্ফীতি বাড়ে, জিনিসের দাম বাড়ে।
কাজেই সেটা মাথায় রেখেই আমাদেরকে করতে হবে। শুধু চাহিদা সংকুচিত করলে অর্থাৎ সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ব্যবহার করলে তাতে মূল্যস্ফীতির ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না, কারণ মূল সমস্যা অন্যখানে নিহিত। যেমন বাজার ব্যবস্থাপনায় যে সমস্যা আছে সেগুলোর মূলে কোনো সরকারই খুব একটা হাত দেয়নি। বিভিন্ন পণ্যের মূল্যের যে অস্থিরতা তা কী কারণে ঘটে, সেই কারণটাও উদ্ঘাটন করতে হবে। কারণটা যদি দূর করতে পারি তাহলেই বাজারে মূল্যের অস্থিরতাটা দূর হবে এবং তাহলে মূল্যস্ফীতির ওপর একটা সুফল তাতে আসতে পারে। তা সেইটা তো আমরা এখন পর্যন্ত করিনি।
বাজারে এ অস্থিরতার পেছনের কারণটি কী বলে মনে করেন?
পণ্যের মূল্যশৃঙ্খলে যে বিভিন্ন উপাদান আছে সেখানে, অর্থাৎ বাজারে অপক্ষমতা প্রয়োগের বিষয়টি ভাঙতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত এ প্রভাব না ভাঙা যাবে, কতিপয় ব্যবসায়ীর যে সিন্ডিকেট বা মনোপলি বা ওলিগোপলি বলেন; যা-ই বলা হোক না কেন, এদের দ্বারাই বাজার নিয়ন্ত্রিত হবে। এ গোষ্ঠী মুনাফা সর্বোচ্চ করার জন্য দাম বাড়াবে। সেখানে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি দিয়ে কিছু করা যাবে না। এজন্য বাজারের প্রতিযোগিতা বিবেচনা করে এমন ক্ষমতার অপপ্রয়োগ যাতে না হয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। বাজারকে শক্তিশালী ও সক্রিয় করতে হবে। অথচ প্রতিযোগিতা কমিশন যে রয়েছে, সেটি এখনো নিষ্ক্রিয় প্রতিষ্ঠান হিসেবেই আছে। তারা কোনো কার্যকর ভূমিকা নিতে পারছে না।
এদিকে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর আছে। তারা কিছু কিছু ক্ষেত্রে অভিযান চালায়, জরিমানা করে, কিন্তু এগুলো তো সাময়িক। তারা স্থায়ী কোনো সমাধান দিতে পারে না। স্থায়ী সমাধানের জন্য সরবরাহশৃঙ্খলের ভেতরের যে কাঠামোগত দুর্বলতা, যেখানে এ শক্তিগুলো কাজ করছে, সেগুলোকে চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে এবং বাজারে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে। এটা যদি আমরা করতে পারি, তাহলে বাজারে অস্থিরতা কমবে।
তাহলে মূল্যস্ফীতির ওপর এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। কাজেই আমার মনে হয়, শুধু মুদ্রানীতির ওপর ভরসা করে বসে না থেকে আমাদের এ কাঠামোগত সংস্কারগুলোর দিকেও নজর দেয়া দরকার। বাজেটে সুশাসনের বিষয়টি বাদ দেয়া যায় না। কারণ সমাজে প্রধান সমস্যা হচ্ছে বৈষম্য। এ বৈষম্য দূরীকরণকে প্রধান উদ্দেশ্য করতে হবে। সমাজে সুযোগের বৈষম্যটাকে দূর করতে হবে। একই কথা বাজারের ক্ষেত্রেও। প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করলেও সেখানে যেন বৈষম্য না থাকে।

