রাজনীতিতে সময়ের সঠিক ব্যবহারই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। ভুল সময়ে নেওয়া সিদ্ধান্তের মাশুল দিতে হয়েছে ইতিহাসের বহু নেতাকে। পাকিস্তানের দুই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ও ইমরান খান এ বিষয়ে দুঃখজনক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। ১৯৯৯ সালের অক্টোবরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ যখন সেনাপ্রধান পারভেজ মোশাররফকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেন, তখন মোশাররফ বিদেশ সফর শেষে দেশে ফিরছিলেন। সেনাবাহিনীর প্রতিক্রিয়ায় নওয়াজ শরিফকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়।
২০১৯ সালের জুনে ইমরান খান তৎকালীন আইএসআই প্রধান জেনারেল আসিম মুনিরকে বদলি করলে কিছুদিনের মধ্যেই রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়। এর চূড়ান্ত ফলস্বরূপ ২০২২ সালে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন।
২০২৪ সালের ২১ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নির্বাচনকে সামনে রেখে ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের পক্ষে সরে দাঁড়ান। তবে দেরিতে নেওয়া সিদ্ধান্তের কারণে ডেমোক্র্যাট দল প্রেসিডেন্ট পদ হারায়, যা ইতিহাসে এক চরম রাজনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।
গাজায় হত্যাযজ্ঞ ও জিম্মি সংকট-
১৯৭৯ সালে ইরানের মার্কিন দূতাবাস দখলের পর এক বছরেরও বেশি সময় ৫২ জন মার্কিন নাগরিক জিম্মি ছিলেন। সে সময় প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের উদ্ধার অভিযান ব্যর্থ হয় এবং ১৯৮০ সালের নির্বাচনে তিনি রোনাল্ড রিগানের কাছে পরাজিত হন।
৪৫ বছর পর, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরাইলে হামলা চালিয়ে ২৫০ জনকে জিম্মি করে। এর পাল্টা জবাবে ইসরাইল ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে, যা ১৫ মাস ধরে চলেছে। এই সময়ের মধ্যে ৪৭,৫০০ ফিলিস্তিনি নিহত, ১,১০,০০০ আহত এবং গাজার অবকাঠামো প্রায় ধ্বংস হয়ে যায়।
২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি, ট্রাম্পের শপথ গ্রহণের পাঁচ দিন আগে, হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে চুক্তি হয়। প্রথম ধাপে হামাস ৯৮ জন জিম্মির মধ্যে ৩৩ জনকে মুক্তি দিতে সম্মত হয়, বিনিময়ে ইসরাইল ১,০০০ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেয়। মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ইসরাইলি নাগরিক ছাড়াও থাইল্যান্ড, নেপাল, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক ছিলেন।
ইসরাইলের গোপন অভিযান ও হামাস নেতৃত্বের হত্যা-
গত এক বছরে ইসরাইল হামাসের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করেছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার, ইসমাইল হানিয়া, মোহাম্মদ দেইফ ও মারওয়ান ইসাকে হত্যা করা হয়।
১৯৯৭ সালে ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ হামাস নেতা খালেদ মাশালের ওপর বিষ প্রয়োগের চেষ্টা করে। তৎকালীন জর্ডান রাজা হুসেইন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের চাপ প্রয়োগে ইসরাইলকে প্রতিষেধক সরবরাহে বাধ্য করেন।
ফিলিস্তিনিদের ভূমি ও জীবনের বিনিময়ে রাজনৈতিক চুক্তি-
এক ইসরাইলি-ব্রিটিশ জিম্মি জানান, গাজায় তাদেরকে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থার (UNRWA) স্থাপনায় বন্দি রাখা হয়েছিল। ট্রাম্প ক্ষমতায় এসেই এই সংস্থার অর্থায়ন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেন, ইসরাইলও একে নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করেছে।
এক সময় ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ যুদ্ধের পর শিমলা চুক্তিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী পাকিস্তানের জুলফিকার আলী ভুট্টোর কাছে ৫,০০০ বর্গমাইল ভূমি ও ৯৩,০০০ যুদ্ধবন্দির মধ্যে একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেন। ভুট্টো ভূমি ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, কারণ তিনি জানতেন যে ভারত যুদ্ধবন্দিদের অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রাখতে পারবে না।
কিন্তু ফিলিস্তিনিদের এমন কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি। তারা হারিয়েছে তাদের ভূমি, আর লাখ লাখ মানুষ হারিয়েছে তাদের জীবন।
লেখক- একজন সাহিত্যিক; www.fsaijazuddin.pk সূত্র: DAWN. ভাষান্তর- এফ.আর. ইমরান

