বেইজিংয়ে সরকারি সফরের সময় পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ জারদারি চীনের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্বের প্রতি তার দেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংসহ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) প্রকল্পের অধীনে নতুন সহযোগিতার দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা করেন।
সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হয় যখন পাকিস্তান অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবাদ ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, যা দুই দেশের সম্পর্কের দৃঢ়তা পরীক্ষা করছে। বিশেষ করে, বেলুচিস্তান ও সিন্ধু প্রদেশে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলায় চীনা নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যা চীনা বিনিয়োগ ও নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্বের শীর্ষে নিয়ে এসেছে।
রাষ্ট্রপতি জারদারি তার সফরে পাকিস্তানে চীনা বিনিয়োগ সুরক্ষিত করার পাশাপাশি সিপিইসি ২.০ বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন। যদিও ইসলামাবাদ ও বেইজিংয়ের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সম্পর্ক মজবুত, তবে নিরাপত্তা ঝুঁকি, ঋণ পরিশোধের অনিশ্চয়তা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা চীনা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়, পাকিস্তান চীনা নাগরিকদের সুরক্ষায় নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি তার চীনা প্রতিপক্ষ জননিরাপত্তা মন্ত্রী কি ইয়ানজুনের সঙ্গে বৈঠকে গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি ও সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হন। তবে, চীনের প্রত্যাশিত নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে এখনও অস্পষ্টতা রয়েছে- তারা কি সরাসরি নিরাপত্তা চায়, নাকি যৌথ নিরাপত্তা বাহিনী গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে?
চীনের দৃষ্টিকোণ থেকে, পাকিস্তানের পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। বেইজিং কখনোই পাকিস্তানের ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার বিরোধিতা করেনি, তবে চীন চায় না যে ইসলামাবাদ তাদের অংশীদারিত্বকে পশ্চিমাদের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের শিকার করুক।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকিস্তান বর্তমানে চীন ও পশ্চিমাদের মধ্যে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখতে কঠিন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন।
রাষ্ট্রপতি জারদারির সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বাড়ানো। পাকিস্তান সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা আশা করছেন যে চীন এ বছর দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প- কারাকোরাম হাইওয়ে ফেজ টু ও এমএল-১ প্রকল্প- বাস্তবায়নের কাজ শুরু করবে। তবে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে চীনা বিনিয়োগে গতি আনা কঠিন হতে পারে।
লেখক- নিরাপত্তা বিশ্লেষক; সূত্র: DAWN. ভাষান্তর- এফ. আর. ইমরান

