পরিবেশ ও নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের মূল্যায়ন, মাইলস্টোন কলেজ দুর্ঘটনার সঙ্গে অপরিকল্পিত নগরায়ণের সংযোগসহ সাম্প্রতিক নানা ইস্যু নিয়ে কথা বলেছেন ড. আদিল মুহাম্মদ খান।
প্রশ্ন: নগরীতে কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটলে সুষ্ঠু পরিকল্পনার বিষয়টি আলোচনায় আসে। সম্প্রতি মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির পরও উত্তরার বিশাল প্রাকৃতিক জলাভূমি ভরাট করা নিয়ে কথা উঠেছে। উত্তরার ভূমি ব্যবহার বদলে যাওয়ার কারণ ও এর পেছনে দায় সম্পর্কে জানতে চাই।
ড. আদিল: ১৯৯৫ সালে ঢাকা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান বা ডিএমডিপি তৈরি করা হয়। সে প্ল্যানে উত্তরা-দিয়াবাড়ি এসব এলাকা লো-লায়িং এরিয়া (নিম্নাঞ্চল) হিসেবে সংরক্ষণের প্রস্তাব ছিল। উদ্দেশ্য ছিল ঢাকার শহরের প্রাকৃতিক পানি ধারণের ক্ষমতা বাড়ানো এবং পানি নিষ্কাশনের পথ সহজ রাখা। আরেকটি বড় উদ্দেশ্য হলো, পাশেই বিমানবন্দর রয়েছে। বিমান ওঠানামার সময় যদি কোনো জরুরি অবস্থা দেখা দেয় তাহলে যেন জলাধারটি রক্ষাকবচের ভূমিকা পালন করে। দুঃখজনক ব্যাপার হলো, পরবর্তী সময়ে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এ এলাকাগুলো ভরাট করে উত্তরা স্যাটেলাইট টাউন, উত্তরা থার্ড ফেজ প্রকল্প করেছে। উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে যে সুউচ্চ আবাসন ভবনগুলো নির্মাণ হয়েছে, তার বেশির ভাগই জলাশয়-জলাধার ভরাট করে হয়েছে।
রাজউক নিজেই যখন এ এলাকাগুলো ভরাট করল তখন আশপাশে যে ব্যক্তিগত জমি ছিল সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভরাট হতে থাকে। কোথাও ব্যক্তি উদ্যোগে, কোথাও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে এসব লো লায়িং জমি ভরাট করে আবাসন, অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ হতে থাকে। সব মিলিয়ে এ পুরো এলাকা নিয়ে ডিএমডিপির যে পরিকল্পনা ছিল—জলাধার, সবুজ এলাকা; রাজউক প্রথম নষ্ট করেছে। রাজউকের দেখাদেখি আশপাশের মানুষজন সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে এটাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। আমরা এখনো যদি গুগল আর্থ ইমেজ বিশ্লেষণ করি তাহলে দেখব, উত্তরার অধিকাংশ এলাকাই জলাধার বা সবুজ ছিল। এখন এটা পুরোপুরি নগর হয়ে গেছে। এ নগরায়ণের পুরোটাই হয়েছে অনিয়ন্ত্রিত-অপরিকল্পিত। এক্ষেত্রে রাজউক শুধু একটা বিষয় বিবেচনায় নিয়েছে—উচ্চতার বিধিনিষেধ। বিমানবন্দরের আশপাশে ফ্লাইংজোনে হাইরাইজ ভবন নির্মাণ করা যাবে না। কিন্তু রাজউকের উচিত ছিল উচ্চতার পাশাপাশি ভূমি ব্যবহারও নিয়ন্ত্রণ করা। কোথায় জলাধার থাকবে, কোথায় থাকবে না এটা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন ছিল।
প্রশ্ন: বিভিন্ন কারণে আমাদের বৈদেশিক যোগাযোগ কয়েক গুণ বেড়েছে। নানা কারণেই মানুষ বিদেশে আসা-যাওয়া করছে। সামনের বছরগুলোয় কুর্মিটোলার পাশাপাশি অন্য আরো বিমানবন্দর নির্মাণের প্রয়োজন হবে। সে বিষয়টি নিয়ে এখনই কি নীতিনির্ধারকদের ভাবা প্রয়োজন বলে মনে করেন?
ড. আদিল: অবশ্যই আমাদের বিকল্প বিমানবন্দর দরকার। আমাদের অর্থনীতি বড় হচ্ছে। চাহিদা বাড়ছে। নতুন বিমানবন্দরের বিষয়ে চিন্তা করার পাশাপাশি আমাদের বিদ্যমান যে কয়েকটি বিমানবন্দর পড়ে আছে, ঈশ্বরদীতে আছে, ঠাকুরগাঁয়ে আছে—এগুলো কীভাবে রি-ডিজাইন করা যায় তা নিয়ে কাজ করা জরুরি। এক্ষেত্রে অবশ্যই বিমানবন্দরের অ্যাপ্রোচ এরিয়ায় ল্যান্ডজোনিং, হাইট জোনিং যেন সঠিকভাবে মানা হয়।
প্রশ্ন: আগের সরকার কিন্তু বিকল্প বিমানবন্দর নিয়ে কাজ করেছেন। সেক্ষেত্রে তারা আড়িয়ল বিলের মতো সমৃদ্ধ জলাধারকে বাছাই করেছিল। পরবর্তীতে স্থানীয়দের প্রতিরোধে সেটা আর হয়নি। এরপর আর বিকল্প বিমানবন্দর নিয়ে সেভাবে কথা হয়নি কেন?
ড. আদিল: বিকল্প বিমানবন্দর খুঁজতে গিয়ে যখন আমরা আড়িয়ল বিল নির্বাচন করলাম, ভুলটা তখনই হয়েছে। পরিবেশগত বিবেচনায় বিল খুবই সেনসিটিভ এলাকা। বিকল্প বিমানবন্দরের জন্য যখন বিলের কথা ভাবা হয় সংগত কারণেই স্থানীয় জনগণ এবং দেশের পরিবেশবিদরা এর বিরোধিতা করেন। এর মানে এই নয় যে আড়িয়ল বিল ছাড়া আর বিকল্প কোনো এলাকা নেই। অনেক বিকল্প এলাকা আছে, হয়তো ঢাকা থেকে একটু দূরেও হতে পারে, কিন্তু বিল ভরাট করে বিমানবন্দর নির্মাণের কোনো যৌক্তিকতা নেই। পৃথিবীতে কোথাও বিল ভরাট করে বিমানবন্দর করার নজির নেই। একান্ত প্রয়োজনে কৃষিজমি ভরাট করা যেতে পারে। বিলের তুলনায় কৃষিজমি ভরাট করলে পরিবেশের ক্ষতি কম হবে। এজন্য আমাদের বিকল্প পছন্দগুলো ঠিক করতে হবে। যাতে কর কোনো প্রশ্ন তৈরি না হয়।
প্রশ্ন: গত এক বছরে অনেক সংস্কারের কথা শুনছি। ঢাকা এবং দেশের বড় শহরগুলো যেভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, এগুলো সঠিক পথে নিয়ে আসার বিষয়ে কোনো কথা তেমন শোনা যাচ্ছে না কেন?
ড. আদিল: এটা খুব বিস্ময়কর যে দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ নগর এলাকায় বাস করে। নগর এলাকায় বসবাস দিনদিনই চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে। আবাসন, যানবাহন, পরিবেশ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা—সবই চ্যাঞ্জের মুখে। এই যে গণ-আন্দোলন হলো, সবই নগরকেন্দ্রিক। পরিসংখ্যান বলছেন, নগরীর শ্রমজীবীরাই বেশি আত্মদান করেছে। এ শ্রমজীবীসহ সমগ্র নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়নের জন্য সরকার দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। কোনো সংস্কার কমিশন হয়নি। কোনো কমিটি হয়নি। বরং আমরা উল্টো দেখেছি। ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর প্রবল চাপে রাজধানীর বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) সংশোধন করে ঢাকায় আরো বেশি ভবন, আরো বেশি মানুষ সংস্থানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নগরীর পরিবেশ, পার্ক, মাঠ বাড়ানোর কোনো আলাপ নেই। ভূমিকম্প, অগ্নিদুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানোর কোনো আলোচনা নেই।
যেহেতু নগর ব্যবসার কেন্দ্র, তাই ব্যবসায়ীরা এখনো সরকারের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কীভাবে ব্যবসা বাড়ানো যায়, লাভ বাড়ানো যায় সে চেষ্টায় আছে। আমরা আশা করেছিলাম, গত দুই দশকে নগরীর খাল, নদী নির্বিচারে দখল করে বড় বড় আবাসিক এলাকা গড়ে উঠেছে। এ দখল এবং শিল্প দূষণ নিয়ে সরকার একটা কমিশন করতে পারত। শুধু ঢাকায় নয়, অন্যান্য বড় শহরগুলোয় ভূমি ও জলাশয় নিয়ে যে নৈরাজ্য হয়েছে সেগুলো নিয়ে কাজ করতে পারত। সরকার কিছুই করেনি। সরকার যদি আসলেই নগর নিয়ে আন্তরিক হতো, বাংলাদেশে যতগুলো পাবলিক খেলার মাঠ আছে, সব উন্মুক্ত করতে এক মাস যথেষ্ট ছিল। ক্লাব বা অন্যান্য গোষ্ঠীর দখলে থাকা মাঠ নিয়ে সরকার কোনো পদক্ষেপই নেয়নি। উল্টো দখলদার পরিবর্তন হয়েছে, কোথাও দখলদারদেরকেই ইজারা দিয়ে দেয়া হয়েছে।
প্রশ্ন: বিগত সময়ে যারা নগর ও পরিবেশ রক্ষায় সামনের সারিতে ছিলেন, তাদের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ এখন সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে রয়েছেন। তারা ইচ্ছা করলেই দখল হওয়া খাল, নদী, মাঠ ও পার্ক উদ্ধার করতে পারতেন। তাদের মাঝে সে সদিচ্ছা দেখা যাচ্ছে না কেন?
ড. আদিল: যদি খেলার মাঠের কথা বলি, সেই পুরনো দখলদাররাই আছে। ধানমন্ডি ৮ নম্বরে শেখ জামাল নামে মাঠটি দখল ছিল, এখন নাম হয়েছে ধানমন্ডি মাঠ। সেই আগের দখলদাররাই আছে। এখনো ধানমন্ডির মাঠে সাধারণ মানুষ প্রবেশ করতে পারে না। গুলশান এলাকার মাঠগুলো নতুন করে সিটি করপোরেশন ইজারা দেয়ার বন্দোবস্ত করেছে। যে মাঠ সংস্কারের জন্য রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে, সে মাঠ ইজারা নিয়ে ক্লাবগুলো ঘণ্টায় ভাড়া দিচ্ছে। অথচ এসব মাঠে বিনা বাধায় বিনা টাকায় খেলা নগরবাসীর অধিকার। কিন্তু সে অধিকার খর্ব করা হচ্ছে নানা অজুহাতে। তার মানে কী দাঁড়াল? রাষ্ট্রের চরিত্র তো বদলায়নি। চরিত্র না বদলালে তো জনপ্রত্যাশা পূরণ হবে না।
অনেক ক্ষেত্রে আমরা উপদেষ্টাদের ভূমিকা দেখে শঙ্কিত এবং দুঃখিত হয়েছি। এ উপদেষ্টারাই অতীতে মাঠ-পার্ক-পরিবেশ রক্ষায় আন্দোলন করেছেন, এখন তারা দায়িত্বে গিয়ে সেই আগের সুবিধাভোগীদের পক্ষ নিয়েছেন। এটা জুলাই অভ্যুথানের সঙ্গে সরাসরি বেইমানি। জনগণ বারবার রাস্তায় নামে না। নামলে কিন্তু শেখ হাসিনার যে পরিণতি হয়েছে, সে পরিণতির কথা সবার মনে রাখা উচিত। এখনো যদি শাসকরা গণমানুষের কথা না ভেবে ব্যবসায়ীদের স্বার্থকে বড় করে দেখেন তার পরিণতি কারো জন্য ভালো হবে না। নতুন সরকারের কাছে জনগণ ভালো নগর, ভালো গণপরিবহন, ভালো ফুটপাত প্রত্যাশা করেছিল। এগুলো তাদের অধিকার। কিন্তু জনগণকে বারবার বঞ্চিত করা হয়েছে।
প্রশ্ন: আমরা লক্ষ করেছি, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যত সরকারই এসেছে, তারা পরিকল্পনাবিদদের কথা সেভাবে গুরুত্ব দেয় না। অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষেত্রে একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। খোদ ড্যাপের মিটিংয়েও নগর পরিকল্পনাবিদ না রাখার উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে। এ উপেক্ষার কারণ কী?
ড. আদিল: পরিকল্পনাবিদরা গণমানুষের কথা বলেন। গণমানুষের ভাষা আর ব্যবসার ভাষা সবসময় বিপরীত। খেলার মাঠ বা পার্কের মতো জনগণের সম্পত্তিগুলো যখন ব্যবসায়ীরা ইজারার নামে দখল করে নিতে চায় তখন জনগণ বলে মাঠ বা পার্ক ইজারা দেয়ার বিষয় নয়। এসব রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এরই মধ্যে নগরবাসী করপোরেশনকে ট্যাক্স দেয়। বর্তমান সরকার কিংবা আগের সরকারগুলো জনগণের এ ভাষা না বুঝে ব্যবসায়ীদের ভাষায় বোঝার চেষ্টা করছেন। কখনো ব্যবসার দৃষ্টিতে, কখনো আপসের দৃষ্টিতে, কখনো টাকার লেনদেনের ভিত্তিতে বিচারের চেষ্টা করছেন। পরিকল্পনাবিদরা সবসময় জনগণের কথা বলেন। আপনার বাসায় কীভাবে আলো-বাতাস ঢুকবে এ আলাপ পরিকল্পনাবিদের। আর ব্যবসায়ীর আলাপ হলো, আলো-বাতাস বাদ দিয়ে কীভাবে বর্গফুট বাড়ানো যায়। যে কারণে ব্যবসায়ীরা জনগণকে বাদ দিয়ে কখনো উপদেষ্টা, কখনো সচিব, কখনো-বা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন।
এটা দুঃখজনক যে, আমাদের সরকার সবসয় জনগণের ভাষা না বুঝে ব্যবসায়ীদের ভাষা বুঝে আসছে। এ সরকারের ক্ষেত্রেও আমরা তাই দেখতে পাচ্ছি। সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, আমলাতন্ত্রে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। অথচ এত বড় অভ্যুত্থানের পর আমরা আমলাতন্ত্রের পরিবর্তন নিয়ে কথা বলেছিলাম। আমলাতন্ত্র জানে কীভাবে আপস করতে হয়। দু-তিন দশক আগেও সরকারগুলো পেশাজীবী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মতামতে গুরুত্ব দিত। কিন্তু এখন সর্বত্র ব্যবসায়ীদের জয়জয়কার। এখন ব্যবসায়ীরা পলিসিমেকিংয়ের টেবিলে চলে গেছেন। বিশ্বের কোথাও এভাবে কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট (স্বার্থের দ্বন্দ্ব) গোষ্ঠী নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বসার সুযোগ পায়নি। বাংলাদেশে বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এটা বেশি দেখা যাচ্ছে। পলিসিমেকিং টেবিলে যখন ব্যবসায়ীরা ঢুকে যান, তখন বোঝা যায় আপসের পর্যায় কোন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।
প্রশ্ন: স্থানীয় সরকার কমিশনের প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?
ড. আদিল: স্থানীয় সরকার কমিশন তারা একটি বড় প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সেখানে অনেক ধরনের প্রস্তাবনা আছে। অনেকগুলো বাস্তবায়ন করতে লম্বা সময় লাগবে। কিন্তু স্থানীয় সরকার কমিশনের প্রস্তাবগুলো নিয়ে সে অর্থে পাবলিক ফোরামে তেমন আলোচনাই হচ্ছে না। পেশাজীবী হিসেবে আমরা জানি, কিন্তু জনগণ জানে না এখানে সিটি গভর্মেন্টের প্রস্তাব দেয়া আছে। সিটি গভর্মেন্ট নিয়ে কি সরকারের কোনো উদ্যোগ আছে? শুরুর দিকে ঢাকা বিকেন্দ্রীকরণের কথা শোনা গিয়েছিল, সে আলাপও ক্ষীণ হয়ে এসেছে। ঢাকা বা অন্যান্য বড় শহরের যতগুলো সেবা সংস্থা আছে সব এক ছাতার নিচে আনার কোনো আলাপ তো শুনছি না। সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলো আরো বেশি ফাংশনাল করার কোনো উদ্যোগ আমরা দেখছি না।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও কোনো আলাপ হয়নি। তাহলে কি স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি ছাড়াই অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত রাষ্ট্র চলবে? যদি সেটা হয় তাহলে তো জনগণ তাদের মৌলিক সেবাগুলো থেকে বঞ্চিত থাকবে। স্থানীয় সরকার নিয়ে অনেক কাজ করার আছে। দুর্ভাগ্যজনভাবে দু-একজন প্রশাসক দিয়ে বা অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে স্থানীয় সরকারের মতো জটিল জায়গা পরিচালন করা সম্ভব নয়। সরকারকে অবশ্যই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।
- ড. আদিল মুহাম্মদ খান, অধ্যাপক, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
ড. আদিল মুহাম্মদ খান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সভাপতি এবং ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক। পরিবেশ ও নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের মূল্যায়ন, মাইলস্টোন কলেজ দুর্ঘটনার সঙ্গে অপরিকল্পিত নগরায়ণের সংযোগসহ সাম্প্রতিক নানা ইস্যু নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তায়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আল ফাতাহ মামুন।

