অর্থনীতিবিদ ও পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ আবু আহমেদ, যিনি বর্তমানে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান, দেশের অর্থনীতি ও বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
আবু আহমেদ অতীতে সরকারি মালিকানাধীন বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংকের—বর্তমানে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি—পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও সামলেছেন।
সাম্প্রতিক সময়ের তিনি দেশের নবনির্বাচিত সরকার ও তাদের কর্মপরিকল্পনার পাশাপাশি পুঁজিবাজার, ব্যবসা-বিনিয়োগ পরিবেশ এবং রাজস্ব ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে তার মূল্যবান মতামত দিয়েছেন। তিনি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ ব্যবস্থার যথাযথ শক্তি ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে সমালোচনামূলক দৃষ্টি উপস্থাপন করেছেন।
তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনের পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়েছে। রাজনৈতিক এ রূপান্তরকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
এটা আমাদের সৌভাগ্য, শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষ এবারের নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল। বয়স্ক থেকে শুরু করে তরুণ প্রজন্মের উল্লেখযোগ্য অংশ ভোট দিয়েছেন। সেনাবাহিনীও এখানে একটি ভালো ভূমিকা রেখেছে। আর দুই-তিনদিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশন ভোটগ্রহণসহ ফলাফল প্রকাশ করেছে। অর্থাৎ সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন আয়োজন করেছে; এটি একটি শুভ দিক। এখন আর অতীতের মতো অন্ধ দৃষ্টি কারো থাকবে না। গোটা রাষ্ট্রই পর্যবেক্ষণ করবে।
রাজনীতি, অর্থনীতি—সব ক্ষেত্রেই কে কী করছে সেদিকে মনোযোগ থাকবে সবার। গত ১৬ বছর মানুষ নানা ক্ষেত্রেই কথা বলার সুযোগ পায়নি। ভয়ভীতির এক ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি করা হয়েছিল। নির্বাচিত সরকারের কিছু সুবিধা আছে। তাদের পেছনে জনগণ থাকে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই আমরা দেখেছি, যেকোনো দাবিতেই মানুষ সড়ক অবরোধ করছে। যেকোনো দাবিতেই সড়কে নেমে পড়ার এক ধরনের সংস্কৃতি তৈরি হয়, যা যৌক্তিক তার বাইরে গিয়ে কিছু বাড়তি সুবিধা আদায়ের ওই সংস্কৃতি এখন আর থাকবে না বলে প্রত্যাশা।
নতুন সরকারের মন্ত্রিপরিষদ নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ কী?
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি দীর্ঘদিন রাজনৈতিক কারণে দেশের বাইরে ছিলেন। ফলে দেশের সব রাজনৈতিক পক্ষকে তিনি ঘনিষ্ঠভাবে নাও চিনতে পারেন। এমনকি তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হতে পারতেন এমন ব্যক্তিদেরও স্বল্প সময়ে নাও চিনতে পারেন। তার পরও তার খোঁজখবর নেয়ার একটা প্রক্রিয়া থাকার কথা। সেটা হয়তো তিনি অনুসরণ করেছেন। শতভাগ আদর্শ মন্ত্রিপর্ষদ না হলেও বেশ ভালো হয়েছে। কারণ এ মন্ত্রিপরিষদের এমন অনেকেই রয়েছেন যারা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে রাজনীতি করেছেন। অনেকে খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে ছিলেন। আবার পেশাজীবী গোষ্ঠীরও একাংশ তার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেদিক বিবেচনায় বলব একটা মিশ্র মন্ত্রিপরিষদ হয়েছে। দু-একজনকে মন্ত্রিত্ব দেয়া ঘিরে বিতর্কিত হতে পারে। তবে বিতর্কের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী দেখবেন আশা করি।
আমরা সামনে ফলাফল চাই। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এক্ষেত্রে সততা ও কঠোর পরিশ্রমের বিকল্প নেই। এ দুয়ের সমন্বয় করতে না পারলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয় না। নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার খুব বেশি সময় অতিবাহিত হয়নি। তাদের এখনো সময় দেয়া জরুরি। সামনে তারা কী ফল নিয়ে আসে তা দেখা জরুরি। এ কথা মানতে হবে, আমাদের সামনে খুব বেশি রাজনৈতিক বিকল্প নেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা পরিবর্তন করতে পারি, রাজনৈতিক ভারসাম্যকে আবার পরিবর্তন করতে পারি। এ পরিবর্তন নির্ধারণ করবে সময়। সংবাদমাধ্যম ও দেশের মানুষ এ-সংশ্লিষ্ট রায় দেবে।
সরকার এরই মধ্যে আগামী ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার বিষয়ে জোর দিয়েছে। এতে অর্থনীতির কোন চ্যালেঞ্জগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়া প্রয়োজন?
প্রায় সব সরকারই প্রথমদিকে পরিকল্পনা দিয়ে থাকে। এ মুহূর্তে অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতাগুলো সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। অর্থনীতি যদি প্রাণবন্ত করা না যায় তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হব আমরাই। বিগত সময়ে এক ধরনের কর্তৃত্ববাদী শাসনের অধীনে থাকায় আমাদের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বৈশ্বিক বাণিজ্যের সম্ভাবনা। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ওই কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটেছে। এরপর দায়িত্ব নিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। ক্ষমতাচ্যুত সরকার আমাদের ওপর বিশাল ঋণের বোঝা চাপিয়ে গেছে। সেটা অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ উভয়ই।
ওই ঋণের চাপ গত দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকার সেভাবে সামলাতে পারেনি। বরং এ সরকারকেও ঋণ নিতে হয়েছে, যার বেশির ভাগই অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নেয়া ছিল। অন্যদিকে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ বেড়েছে। এজন্য ডলার প্রয়োজন। আর এ ঋণ শোধ করতে না পারলে সুদ বাড়বে। যত সময় বাড়বে, তত সুদহার বাড়তে থাকবে। অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ গ্রহণও বেড়েছে। সব মিলিয়ে আমাদের ঋণের পরিমাণও বাড়তে থাকবে। পরিস্থিতি এক্ষেত্রে এতটাই জটিল যে অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন অর্থনৈতিক খাতের পরিচালন ব্যয়ের তুলনায় সুদ পরিশোধ ব্যয় অনেক বেশি হয়ে যায়। অতীত ইতিহাস ঘাঁটলে বিষয়টি বোঝা সহজ হবে।
বিদেশী ঋণের এ বিশাল বোঝা থেকে উত্তরণের উপায় কী?
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, শুধু আমাদের অর্থনীতিই কি এ ধরনের সংকটকালীন সময় পার করছে? না। আরো অনেক অর্থনীতির ক্ষেত্রেই এ কথা প্রযোজ্য। অতীতে আর্জেন্টিনা, নাইজেরিয়া, পাকিস্তানসহ আরো অনেক দেশের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে এমনটি দেখা যাবে। ঋণের বোঝা যেসব দেশ বাড়িয়েছে তারা নিজের গর্ত নিজেই খুঁড়েছে। এ ধরনের অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি ক্রমেই বেড়েছে। ঋণের শর্ত পূরণ করার জন্য তাদের অবাধে মুদ্রা ছাপাতে হয়েছে। ফলে স্থানীয় মুদ্রার মূল্যমান কমেছে। অর্থাৎ বৈদেশিক মুদ্রার সঙ্গে এর সুষম বিনিময় হার ধরে রাখা যায়নি। এখন এ নিয়ে যুক্তি উপস্থাপন করা যেতেই পারে। যেমন অর্থনীতিতে কিছু স্থির ব্যয় থাকে। বেতন-ভাতার মতো কিছু ব্যয় নির্বাহ করতে হচ্ছে। এসব বিষয়ে আসলে সহজ কোনো সমাধান নেই।
তবু প্রশ্ন থাকে, এসব ব্যয় পরিচালনার অর্থ কোত্থেকে আসবে? একটা সম্ভাব্য সমাধান হতে পারে রাজস্ব আহরণের মাধ্যমে। কিন্তু বাস্তবতা হলো সেটারও অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এরই মধ্যে আমরা বিশ্বের অন্যতম কর প্রদায়ী রাষ্ট্র বলে পরিচিত। ফলে এখানে ইচ্ছা করলেই রাজস্ব আয় বাড়ানো যাবে, এমন সম্ভাবনা অন্তত দেখি না। অর্থনীতি যদি প্রাণবন্ত হতে থাকে তাহলে মুনাফা বাড়বে। এর বিপরীতে অর্থনৈতিক কার্যক্রম যদি এখনকার মতো মন্থরগতিতে থাকে তাহলে রাজস্ব আয় বাড়বে না। উল্টো মানুষের ভোগান্তি বাড়বে। দেশের সর্বস্তরের মানুষ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) দিচ্ছেন। অন্যদিকে দেশে করপোরেট আয়কর বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। করপোরেট আয়কর যদি নিয়ন্ত্রণে রাখা না যায় তাহলে দেশী-বিদেশী কোনো ধরনের বিনিয়োগই আসবে না।
এখানেও প্রশ্ন থেকে যায়, আমরা তাহলে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতাকে কীভাবে ব্যালেন্স করব? সমাধানের পথ একটাই। সেটাও কঠিন পথ। বিষয়টি আর কেউ না বললেও আমি বলছি। সরকারের আকার নিয়ে ভাবতে হবে। গত ১৫ বছর সরকারের আকার বেড়েছে। আমাদের অর্থনীতির যে আকার, তা বিবেচনায় এত বড় সরকারের কোনো প্রয়োজন নেই। আরো ছোট সরকার বরং নিখুঁতভাবে কাজ করতে পারত। সেটা করতে গেলে কিছু মন্ত্রণালয়, সংস্থা কিংবা প্রতিষ্ঠান একেবারে বন্ধ করে দিতে হবে। এক্ষেত্রে সাহসিকতার সঙ্গে জনপ্রশাসন সংস্কারে গুরুত্ব দিতে হবে।
পরিচালন ব্যয় কমানো গেলে রাজস্ব উদ্বৃত্ত থাকার সুযোগ রয়েছে, যা উন্নয়ন বরাদ্দে দেয়া সম্ভব। আর উন্নয়নের মাধ্যমে আমরা যে মুনাফা আয় করতাম, সেখানেও তাহলে কিছুটা উদ্ধৃত্ত থাকত। কিন্তু বর্তমানে উন্নয়ন বরাদ্দের উদ্বৃত্ত সর্বোচ্চ ২০-৩০ শতাংশ। এ উদ্বৃত্ত দিয়ে ভবিষ্যতে সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় নির্বাহ করাই মুশকিল হবে। এ পরিস্থিতিতে উন্নয়ন বরাদ্দ বাড়াতে হলে রাজস্ব উদ্বৃত্ত চাই। এজন্য সরকারের পরিচালন ব্যয় কমাতে হবে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো সমাধান হলো সরকারের আকার কমিয়ে আনা।
বিষয়টি যদি আরো বিস্তারিত ব্যাখ্যা করতেন।
সম্প্রতি সরকার পে-স্কেল বাস্তবায়ন করেছে। এখন পে-স্কেল অনুযায়ী সরকার ঠিকই বেতন-ভাতা পরিশোধ করবে। কিন্তু এ অর্থের ফিরতি কোনো মান থাকবে না। কারণ এ ব্যয় বহন করা হবে মুদ্রা ছাপানোর মাধ্যমে। এসব খরচ এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বহন করছে। এ ব্যয় নির্বাহ করতে গিয়ে ঋণের এক ধরনের দুষ্টচক্রের মধ্যে আমরা আটকে পড়ছি। এসব সমস্যার আমরা কোনো সমাধান তখন আর পাব না। বরং এ সমস্যা আরো বাড়বে। এসব বিষয় আমাদের চিন্তা করে দেখতে হবে। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রের অংশীজন ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর সঙ্গেও আলোচনা করতে হবে। আমাদের রফতানি সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে বন্দর ব্যবস্থাপনা আরো সুসমন্বিত করতে হবে। পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এখানেও জরুরি। যে কাজটা অল্প খরচে করতে পারি, সেটার জন্য বাড়তি খরচ করা দুর্নীতির অন্যতম কারণ।
আমাদের নতুন করে বড় প্রকল্প নাইবা হলো। কিন্তু এখন যেসব অবকাঠামো রয়েছে, সেগুলোর সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব প্রকল্পের অবচয় বা ডেপ্রিসিয়েশন হবেই। সেটা যাতে কমিয়ে আনা যায় তার জন্য উদ্যোগ নিতে হবে। মুদ্রা ছাপিয়ে যদি আমরা অর্থায়ন বাড়াতে চাই তাহলে সেটি হবে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। সামগ্রিক অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে পুঁজিবাজার। গত দেড় বছরেরও বেশি সময়ে একটাও প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) আসেনি। এর প্রধান কারণ বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী নন। অতীতে কাগুজে কোম্পানিগুলো ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে এখানে বাণিজ্য করতে আসত। এসব বাস্তবতা দেখে অনেক বিনিয়োগকারী এখানে আসেননি। আবার পুঁজিবাজারে কিছু নিয়ম কঠিন করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ আসেনি। এজন্য অনেক আলোচনা করেছি। দেশী-বিদেশী, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তালিকাভুক্ত করার জন্য চেষ্টা চালিয়েছি। বহুজাতিক কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ তেমন সাফল্য পায়নি। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখানে না আসার অনেক কারণ খুঁজে বের করে। জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কিছু বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান এখানে আছে। তবে অধিকাংশই এখানে নেই। এমনকি ব্রাঞ্চ ব্যাংকিং সেবা দেয় এমন বহু বিদেশী আর্থিক প্রতিষ্ঠানও আছে। তারা প্রচুর অর্থ উপার্জন করছে। এসবে আপত্তি নেই। বেসরকারি খাত মুনাফা অর্জন করতেই পারে। কিন্তু মাত্র ৫ শতাংশ ইকুইটি তারা বহন করতে নারাজ। হয়তো অতীতের কোনো সরকারই যৌক্তিকভাবে বিষয়টি বেসরকারি সংস্থাগুলোকে জানায়নি। নতুন সরকারকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তি বাড়াতে উদ্যোগী হতে হবে। অর্থনীতির স্বার্থেই তা করতে হবে। অর্থনীতির অন্য খাত ও পুঁজিবাজারের এ সমন্বয়ের স্বার্থে বলতে হবে।
বিগত কয়েক বছরে পুঁজিবাজার সংকুচিত হয়েছে। এর কারণ কী এবং এক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগ আসলে কেমন হওয়া উচিত?
হ্যাঁ, বিগত বছরগুলোয় পুঁজিবাজার সংকুচিত হয়েছে। ব্যাংক প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে তাকালে বোঝা যাবে। ব্যাংক খাত, বীমা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সবখানেই আমরা দেখছি নানা সমস্যা। এখন আমরা যদি এমন এক অর্থনীতি চাই যা অংশগ্রহণমূলক এবং এর গভীরতা আছে তাহলে অবশ্যই পুঁজিবাজারের নিরাপত্তা জরুরি। বন্ড সিকিউরিটাইজেশন এক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করা যায়। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, পদ্মা সেতু বা অন্য বড় প্রকল্পগুলোকে এর আওতায় আনা যেত। তাহলে সরকার একসঙ্গে সব অর্থ সংগ্রহ করতে পারত। এখন এসব ধারণা সরকারের আছে বলেই মনে করি।
যদি এসব ধারণাকে বাস্তব রূপ দেয়া যায় তাহলে জনগণের আমানত বিনিয়োগে রূপ নিত। মানুষ আর সরকারি সঞ্চয়পত্রের নিরাপত্তার ওপর নির্ভর করত না। মানুষকে ইকুইটি বাজারে সংযুক্ত করা যেত। এমনটি করা যায়নি। বরং এমন কিছু প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে আসা হয়েছে তার কয়েকটি ছাড়া বেশির ভাগেরই আসার যোগ্যতা ছিল না। এসব প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেয়ার আগে তদারকি প্রতিষ্ঠানগুলো যাচাই-বাছাই করেনি। প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে কিনা, উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার পর্যাপ্ত অবকাঠামো রয়েছে কিনা—এসব বিবেচনা করেনি। বরং কাগজে-কলমে প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব দেখেই অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ ধরনের আইপিও কিন্তু বিনিয়োগকারীরা প্রত্যাশা করেন না। বিনিয়োগকারীরা গুণগত মানসম্পন্ন আইপিও চান। তাহলে সমস্যা কোথায়?
এক্ষেত্রে তদারকির দায়িত্ব থাকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ওপর। এসব প্রতিষ্ঠান নিয়ে যে মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠান কাজ করে তাদের নেতৃস্থানীয়রা কিন্তু দায়িত্ব নিতে চায় না। বরং এক ধরনের স্ট্যাটাস কো নিয়ে বসে থাকতে চায়। দায়িত্বশীলরাই বোর্ড গঠনের মাধ্যমে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এমনটির ঘাটতি রয়েছে। তাই অর্থ মন্ত্রণালয়কে এক্ষেত্রে দৃঢ় ভূমিকা রাখতে হবে। দৃঢ় পদক্ষেপ ছাড়া শেয়ারবাজার চাঙ্গা হবে এমন আশা রাখা যায় না। সূত্র: বণিক বার্তা

