Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice শনি, আগস্ট 15, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » ব্যাংক খাতের কাঠামোগত সংস্কার ও আস্থার পুনর্গঠন অভিসম্ভাবী
    সম্পাদকীয়

    ব্যাংক খাতের কাঠামোগত সংস্কার ও আস্থার পুনর্গঠন অভিসম্ভাবী

    নিউজ ডেস্কআগস্ট 14, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    বাংলাদেশের অর্থনীতির আর্থিক ভিত্তির প্রধান স্তম্ভ ব্যাংক খাত। দেশের মোট আর্থিক সম্পদের প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে ব্যাংকের দুর্বলতা কেবল কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়; এর প্রভাব পড়ে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য, সঞ্চয়, সরকারি অর্থব্যবস্থা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর।

    বর্তমানে তাই ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু খেলাপি ঋণ বা মূলধন ঘাটতি নয়—আস্থার সংকট। এই সংকট থেকে উত্তরণে সাময়িক তারল্য সহায়তা, পুনঃতফসিল কিংবা কয়েকটি ব্যাংকের একীভূতকরণ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন স্বচ্ছ, সময়বদ্ধ ও গভীর কাঠামোগত সংস্কার।

    পরিস্থিতির গভীরতা সাম্প্রতিক তথ্যেই স্পষ্ট। বিশ্বব্যাংকের ২০২৬ সালের জুনের মূল্যায়ন অনুযায়ী, মার্চ ২০২৬ শেষে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের অনুপাত ৩২.৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যেখানে দক্ষিণ এশিয়ার ব্যাংকগুলোর গড় ছিল ৭.৯ শতাংশ। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থার মূলধন-ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদ অনুপাত ছিল ঋণাত্মক ২.৬ শতাংশ। দুর্বল করপোরেট সুশাসন, নিয়ন্ত্রক প্রভাব, সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ঋণ এবং দীর্ঘদিনের দুর্বল তদারকি এ সংকটকে গভীর করেছে।

    ব্যাংক খাতের বর্তমান দুরবস্থা দীর্ঘদিনের সুশাসন ঘাটতি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার ফল। ঋণ অনুমোদনে প্রভাবশালী মহলের প্রভাব, দুর্বল ঋণ যাচাই, সংশ্লিষ্ট পক্ষকে সুবিধা দেওয়া, পরিচালনা পর্ষদের অপর্যাপ্ত জবাবদিহি এবং ঋণ পুনঃতফসিলে অতিরিক্ত নমনীয়তা ব্যাংকের সম্পদের মান ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

    এখানে দৃষ্টিভঙ্গির মৌলিক পরিবর্তন জরুরি। প্রশ্ন হওয়া উচিত শুধু ‘কে ঋণ পাচ্ছে’ নয়, ঋণের ঝুঁকি কত এবং তা পরিশোধের সক্ষমতা কতটা। গ্রাহকের নগদ প্রবাহ, ব্যবসার সক্ষমতা, ঋণ পরিশোধের ইতিহাস, জামানতের প্রকৃত মূল্য এবং সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতার ভিত্তিতে ঋণ অনুমোদন করতে হবে।

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলও বাংলাদেশের জন্য একটি সমন্বিত ও সময়বদ্ধ ব্যাংক সংস্কার কৌশলের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংকের সুশাসন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, ব্যালান্সশিটের স্বচ্ছতা, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি এবং ২০২৭ সালের মধ্যে আইএফআরএস-৯ বাস্তবায়নের বিষয় রয়েছে।

    সংস্কারের প্রথম শর্ত হলো রোগের সঠিক নির্ণয়। কোনো ব্যাংকের প্রকৃত আর্থিক সক্ষমতা জানতে হলে তার সম্পদ, দায়, খেলাপি ও পুনর্গঠিত ঋণ, প্রভিশন ঘাটতি এবং প্রকৃত মূলধন স্বাধীনভাবে যাচাই করতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকসহ পুরো ব্যবস্থার জন্য পর্যায়ক্রমে অ্যাসেট কোয়ালিটি রিভিউ করা প্রয়োজন।

    এর ফলে কোন ব্যাংক নিজস্বভাবে পুনর্গঠিত হতে পারবে, কোনটির মূলধন বাড়াতে হবে এবং কোন প্রতিষ্ঠানকে একীভূত বা রেজল্যুশনের আওতায় আনতে হবে—তা তথ্যভিত্তিকভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। আইএমএফও সিস্টেমিক গুরুত্বপূর্ণ ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর ডায়াগনস্টিক মূল্যায়ন সম্প্রসারণের সুপারিশ করেছে।

    দুর্বল ব্যাংককে অনির্দিষ্টকাল ধরে কৃত্রিমভাবে টিকিয়ে রাখা কোনো সমাধান নয়। এতে আমানতকারীর তাৎক্ষণিক আতঙ্ক কমলেও দীর্ঘমেয়াদে ভালো ও দুর্বল ব্যাংকের মধ্যে পার্থক্য নষ্ট হয় এবং নৈতিক ঝুঁকি বাড়ে।

    তাই সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের জন্য সুস্পষ্ট ব্যাংক রেজল্যুশন কাঠামো প্রয়োজন। আইএমএফের ২০২৬ সালের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সবচেয়ে সমস্যাগ্রস্ত কয়েকটি ব্যাংক নিয়ে জাতীয়করণ ও একীভূতকরণের মতো পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং ব্যাংক রেজল্যুশন ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার উদ্যোগ রয়েছে।

    তবে একীভূতকরণকে দুর্বল ব্যাংক বাঁচানোর স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি বানানো যাবে না। সম্ভাব্য একীভূতকরণের আগে সম্পদের প্রকৃত মূল্য, দায়, মূলধন ঘাটতি, ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সম্ভাবনা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে হবে।

    খেলাপি ঋণ কমানোর ক্ষেত্রে শুধু পুনঃতফসিলের ওপর নির্ভরতা সমস্যাকে আড়াল করতে পারে। প্রকৃত সংস্কারের জন্য ঋণ পুনরুদ্ধারের আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত করা, জামানত বাস্তবায়নের জটিলতা কমানো এবং দীর্ঘদিন আটকে থাকা মামলা নিষ্পত্তির সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

    একই সঙ্গে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণের একটি নিয়ন্ত্রিত দ্বিতীয় বাজার গড়ে তোলার বিষয় বিবেচনা করা যেতে পারে। বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় এসব ঋণ গ্রহণ করে পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নিলে ব্যাংকের ব্যালান্সশিটে আটকে থাকা সম্পদ দ্রুত ব্যবস্থাপনার সুযোগ তৈরি হবে। এডিবির ব্যাংক খাত সংস্কার কর্মসূচিতেও বড় খেলাপি ঋণ নিষ্পত্তি, সম্পদের মান উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য তৈরিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    দুর্বল ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণ করতে হবে, কিন্তু নির্বিচারে সরকারি অর্থ ঢেলে নয়। প্রথমে নির্ধারণ করতে হবে—কোন ব্যাংক নিজস্ব মুনাফা ও নতুন বেসরকারি মূলধনের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে, কোনটির পুনর্গঠন প্রয়োজন এবং কোনটি আর্থিকভাবে অকার্যকর।

    সরকারি অর্থ ব্যবহার করতে হলে তার বিনিময়ে মালিক ও পরিচালনা পর্ষদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। লাভ ব্যক্তির, ক্ষতি রাষ্ট্রের—এমন ব্যবস্থায় ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘমেয়াদি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

    ব্যাংকের প্রকৃত শক্তি তার ভবন, প্রযুক্তি বা মূলধন নয়; আমানতকারীর আস্থা। মানুষ ব্যাংকে অর্থ রাখেন এই বিশ্বাসে যে প্রয়োজনের সময় তা নিরাপদে ফেরত পাবেন। তাই ছোট ও সাধারণ আমানতকারীর সুরক্ষা সংস্কারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

    আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে আমানত বিমার সীমা ১ লাখ টাকা থেকে ২ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের ২০২৬ সালের ৪৫০ মিলিয়ন ডলারের আর্থিক খাত সহায়তা কর্মসূচিতে আমানত সুরক্ষা তহবিল শক্তিশালী করা, জরুরি তারল্য সহায়তার কাঠামো গড়ে তোলা এবং ব্যাংক রেজল্যুশন সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    তবে আমানত সুরক্ষা কার্যকর করতে শুধু সীমা বাড়ানো যথেষ্ট নয়। সংকটে পড়া ব্যাংক দ্রুত শনাক্ত করা, আমানতকারীর দাবি দ্রুত নিষ্পত্তি এবং প্রয়োজনের সময় জরুরি তারল্য সহায়তার কার্যকর ব্যবস্থা থাকতে হবে।

    ব্যাংকের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার মধ্যে স্বার্থের সংঘাত নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে কোনো সংস্কারই স্থায়ী হবে না। পরিচালক বা তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর সীমা, স্বার্থের সংঘাত প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের লেনদেনে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।

    পরিচালনা পর্ষদে শুধু মালিকানার প্রতিনিধিত্ব নয়, ব্যাংকিং, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, হিসাব ও আইন সম্পর্কে পেশাগত দক্ষতাও নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যবস্থাপনার পেশাগত সিদ্ধান্তে অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করা জরুরি।

    রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সংস্কার ছাড়া পুরো ব্যাংক খাতের পুনর্গঠন অসম্পূর্ণ থাকবে। এসব প্রতিষ্ঠানে পেশাদার পরিচালনা পর্ষদ, যোগ্য ব্যবস্থাপনা, কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন এবং ঋণ বিতরণে প্রভাবমুক্ত সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

    বিশ্বব্যাংকের ২০২৬ সালের কর্মসূচিতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সংস্কারের জন্য পৃথক কৌশল তৈরির পাশাপাশি ব্যাংক রেজল্যুশন ও আর্থিক নিরাপত্তা কাঠামো শক্তিশালী করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যকর স্বাধীনতা আর্থিক খাতের বিশ্বাসযোগ্যতার অন্যতম ভিত্তি। তবে স্বাধীনতার সঙ্গে জবাবদিহি এবং পেশাগত সক্ষমতাও থাকতে হবে। ব্যাংক তদারকি যেন কেবল কাগজপত্র যাচাইয়ে সীমাবদ্ধ না থেকে সম্ভাব্য ঝুঁকি আগেই শনাক্ত করতে পারে, সে সক্ষমতা তৈরি করতে হবে।

    আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় তথ্যপ্রযুক্তি ও তথ্য বিশ্লেষণের ব্যবহার অপরিহার্য। বিশ্বব্যাংকের নতুন কর্মসূচিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইসিটি অবকাঠামো আধুনিকীকরণ, সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলা, তথ্যভিত্তিক তদারকি এবং ঝুঁকি বিশ্লেষণের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয় রয়েছে।

    বাংলাদেশের ব্যাংক খাত সংস্কারে উন্নয়ন সহযোগীদের ভূমিকা এখন গুরুত্বপূর্ণ। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ২০২৫ সালের জুনে ব্যাংক খাত স্থিতিশীল ও সংস্কারের জন্য ৫০০ মিলিয়ন ডলারের নীতিভিত্তিক ঋণ অনুমোদন করে। পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মসূচিতে তিনটি উপ-কর্মসূচির মাধ্যমে মোট ১.৫ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর লক্ষ্য ব্যাংকিং সুশাসন, নিয়ন্ত্রক তদারকি, সম্পদের মান, মূলধন পর্যাপ্ততা, তারল্য ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি শক্তিশালী করা।

    বিশ্বব্যাংকও ২০২৬ সালের জুনে ৪৫০ মিলিয়ন ডলারের আর্থিক খাত সহায়তা অনুমোদন করেছে। এর আওতায় আমানত সুরক্ষা, ব্যাংক রেজল্যুশন, জরুরি তারল্য সহায়তা, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সংস্কার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা উন্নয়নের উদ্যোগ রয়েছে।

    অর্থাৎ আন্তর্জাতিক সহায়তাকে শুধু বৈদেশিক অর্থের উৎস হিসেবে দেখলে চলবে না। এর মূল মূল্য হবে সংস্কারের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও নীতিগত কাঠামোকে দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে।

    ব্যাংক সংস্কারের প্রতিটি পর্যায়ে জনগণের কাছে যথাসম্ভব স্বচ্ছতা থাকা দরকার। কোন ব্যাংক কেন সমস্যায় পড়েছে, তার প্রকৃত মূলধন ঘাটতি কত, পুনর্গঠনে কত অর্থ প্রয়োজন এবং সেই ব্যয়ের দায় কে বহন করবে—এসব প্রশ্নের পরিষ্কার উত্তর থাকতে হবে। একই সঙ্গে দায়ী পরিচালক, মালিক ও ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগে দৃশ্যমান নিরপেক্ষতা জরুরি। বড় ঋণগ্রহীতা এবং সাধারণ ঋণগ্রহীতার জন্য আইনের প্রয়োগে পার্থক্য থাকলে আস্থা ফিরবে না।

    সংস্কারকে বিচ্ছিন্ন উদ্যোগে পরিণত করলে কাঙ্ক্ষিত ফল আসবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয়, আইন ও বিচার বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন। এতে সম্পদের মান যাচাই, মূলধন পুনর্গঠন, ব্যাংক রেজল্যুশন, খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সংস্কার, আমানত সুরক্ষা, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি এবং আইনি সংস্কারের নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকতে হবে।

    আইএমএফও একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি-সমন্বিত সংস্কার কৌশল, সিস্টেমজুড়ে মূলধন ঘাটতির হিসাব, আর্থিক সহায়তার কাঠামো, ব্যাংক পুনর্গঠন ও রেজল্যুশনের সময়বদ্ধ পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

    বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন এমন এক সময়ে প্রবেশ করেছে, যখন ব্যাংক খাতের দুর্বলতা দীর্ঘায়িত করার সুযোগ ক্রমেই কমছে। বিশ্বব্যাংক ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩.৯ শতাংশে নেমে আসার পূর্বাভাস দিয়েছে এবং একই সঙ্গে ব্যাংক খাতের উচ্চ খেলাপি ঋণ ও মূলধন দুর্বলতার কথা বলেছে।

    তাই সংস্কারের সাফল্য মাপতে হবে শুধু নতুন আইন, বৈদেশিক ঋণ কিংবা ব্যাংক একীভূত করার সংখ্যা দিয়ে নয়। দেখতে হবে—খেলাপি ঋণ প্রকৃতপক্ষে কমছে কি না, ব্যাংকের মূলধন শক্তিশালী হচ্ছে কি না, দুর্বল প্রতিষ্ঠানের সুশৃঙ্খল সমাধান হচ্ছে কি না, আমানতকারী নিরাপদ বোধ করছেন কি না এবং ভালো উদ্যোক্তারা স্বচ্ছ ও ন্যায্য প্রক্রিয়ায় ঋণ পাচ্ছেন কি না।

    ব্যাংক খাতে আস্থা কোনো ঘোষণায় ফিরে আসে না; ফিরে আসে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং দৃশ্যমান সংস্কারের ফলাফলে। অতএব এখন প্রয়োজন সাময়িক সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি ব্যাংকিং ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করার দৃঢ় সিদ্ধান্ত। রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সদিচ্ছা, স্বাধীন ও দক্ষ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং সময়বদ্ধ সংস্কার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে ব্যাংক খাত আবার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নির্ভরযোগ্য চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে। আর সেই কারণেই ব্যাংক খাতের কাঠামোগত সংস্কার এখন কেবল একটি আর্থিক খাতের কর্মসূচি নয়—এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির অপরিহার্য শর্ত

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সম্পাদকীয়

    ডিজিটাল ব্যাংক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থিক অন্তর্ভুক্তির বাস্তব চিত্র

    আগস্ট 14, 2026
    সম্পাদকীয়

    ব্যাংকিং খাতের ওপর সাধারণ মানুষের বিশ্বাস হারানোর বেদনা কি পুরো সমাজে প্রভাব পড়বে?

    আগস্ট 12, 2026
    সম্পাদকীয়

    ২৯ বছর পর সালমান শাহ হত্যা মামলা: পুনঃতদন্তের আইনি ভিত্তি কতটা শক্ত?

    আগস্ট 12, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.