Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice শুক্র, আগস্ট 7, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » কাগুজে হিসাবেই কি সীমাবদ্ধ ব্যাংক শাখার কার্যক্রম
    সম্পাদকীয়

    কাগুজে হিসাবেই কি সীমাবদ্ধ ব্যাংক শাখার কার্যক্রম

    নিউজ ডেস্কআগস্ট 6, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আর্থিক স্থিতিশীলতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। জনগণের সঞ্চয় নিরাপদে সংরক্ষণ, উৎপাদনশীল খাতে অর্থায়ন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণে ব্যাংকের ভূমিকা অপরিসীম। আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে গত দুই দশকে ব্যাংক শাখা, উপ-শাখা, এজেন্ট ব্যাংকিং ও ডিজিটাল সেবার ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটেছে। এর ফলে ব্যাংকিং সেবা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় সাধারণ মানুষের জন্য আরও সহজলভ্য হয়েছে।

    তবে এই ইতিবাচক অগ্রগতির পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে কিছু উদ্বেগজনক প্রবণতাও সামনে এসেছে। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন, নিরীক্ষা কার্যক্রম এবং গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে কিছু ব্যাংকের শাখা ও উপ-শাখায় প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রমের তুলনায় অস্বাভাবিক বা কৃত্রিম লেনদেন প্রদর্শনের অভিযোগ উঠে এসেছে। একই অর্থ বারবার বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তর, সম্পর্কিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অস্বাভাবিক লেনদেন কিংবা প্রকৃত অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন হিসাব পরিচালনার মতো বিষয়গুলো ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। যদিও প্রতিটি অস্বাভাবিক লেনদেনই অনিয়মের প্রমাণ নয়, তবুও এ ধরনের প্রবণতা কার্যকর তদারকি, শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ এবং উন্নত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তাকে আরও স্পষ্ট করেছে।

    বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং খাত খেলাপি ঋণ, তারল্য ব্যবস্থাপনা, মূলধন সক্ষমতার বৈষম্য এবং করপোরেট সুশাসনের মতো একাধিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। এ অবস্থায় কোনো ব্যাংক বা শাখার প্রকৃত আর্থিক অবস্থার পরিবর্তে কাগজে-কলমে লেনদেনের আকার বড় দেখানোর প্রবণতা শুধু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য নয়, পুরো আর্থিক ব্যবস্থার জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ একটি ব্যাংকের প্রকৃত সক্ষমতা নির্ধারিত হয় তার সম্পদের গুণগত মান, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, সেবার মান এবং আর্থিক শৃঙ্খলার মাধ্যমে; কেবল শাখার সংখ্যা বা লেনদেনের পরিমাণ দিয়ে নয়।

    ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি, অন-সাইট ও অফ-সাইট পরিদর্শন, অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ (AML/CFT) কাঠামো, গ্রাহক পরিচিতি যাচাই (KYC) এবং সন্দেহজনক লেনদেন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবস্থার ব্যবহারও ধীরে ধীরে বাড়ানো হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, শীর্ষ ব্যবস্থাপনা, অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগ এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামোকেও সমানভাবে কার্যকর হতে হবে।

    একটি শক্তিশালী ব্যাংকিং ব্যবস্থা কেবল নতুন শাখা উদ্বোধনের মাধ্যমে গড়ে ওঠে না; বরং প্রতিটি শাখায় বাস্তব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, সঠিক হিসাবরক্ষণ, কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং গ্রাহকের আস্থা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই তার ভিত্তি সুদৃঢ় হয়। তাই বর্তমান বাস্তবতায় শাখা সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রতিটি শাখার কার্যক্রমের গুণগত মান, লেনদেনের স্বচ্ছতা এবং নিয়ন্ত্রক নির্দেশনার যথাযথ অনুসরণ নিশ্চিত করাই সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার।

    ব্যাংকিং খাতে কাগজে-কলমে বা কৃত্রিমভাবে লেনদেনের পরিমাণ বাড়িয়ে দেখানোর প্রবণতা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি সাধারণত দুর্বল করপোরেট সুশাসন, অপর্যাপ্ত অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি এবং জবাবদিহির অভাবের ফল। যখন একটি ব্যাংকের শাখা বা উপ-শাখায় কার্যকর তদারকি, নিয়মিত নিরীক্ষা এবং তথ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষণ দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন প্রকৃত আর্থিক কার্যক্রমের পরিবর্তে হিসাবের খাতায় লেনদেনের পরিমাণ বাড়িয়ে দেখানোর সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে ব্যাংকের প্রকৃত আর্থিক অবস্থার পরিবর্তে একটি বিভ্রান্তিকর চিত্র তৈরি হয়, যা নীতিনির্ধারণ, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং বিনিয়োগ সিদ্ধান্তকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু ক্ষেত্রে শাখার ব্যবসায়িক কর্মক্ষমতা, আমানত সংগ্রহ বা লেনদেনের পরিমাণ বাস্তবের তুলনায় বেশি দেখানোর প্রবণতা দেখা যায়। একই অর্থ একাধিক হিসাবে স্থানান্তর, সম্পর্কিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অস্বাভাবিক লেনদেন অথবা প্রকৃত ব্যবসায়িক ভিত্তি ছাড়া হিসাব পরিচালনার মতো কার্যক্রমের মাধ্যমে কোনো কোনো শাখার আর্থিক অবস্থাকে কাগজে শক্তিশালী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হতে পারে। যদিও প্রতিটি বড় অঙ্কের বা ঘন ঘন লেনদেন অনিয়মের নির্দেশক নয়, তবুও ধারাবাহিকভাবে অস্বাভাবিক লেনদেন হলে তা গভীরভাবে পর্যালোচনার প্রয়োজন হয়।

    কিছু ক্ষেত্রে সমস্যাগ্রস্ত ঋণ বা আর্থিক দুর্বলতার প্রকৃত চিত্র আড়াল করার চেষ্টাও অনিয়মের ঝুঁকি বাড়ায়। ঋণ পুনঃতফসিল, হিসাব সমন্বয় বা সম্পর্কিত পক্ষের মধ্যে লেনদেন—এসবই বৈধ ব্যাংকিং কার্যক্রমের অংশ হতে পারে; তবে সেগুলো যদি প্রকৃত আর্থিক অবস্থাকে আড়াল করার উদ্দেশ্যে অপব্যবহার করা হয়, তাহলে তা ব্যাংকের স্বচ্ছতা ও আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। একইভাবে অর্থপাচার প্রতিরোধে গ্রাহক পরিচিতি যাচাই (KYC), লেনদেন পর্যবেক্ষণ এবং সন্দেহজনক কার্যক্রম শনাক্তকরণে কোনো দুর্বলতা থাকলেও ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।

    আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং মানদণ্ড অনুযায়ী একটি শক্তিশালী করপোরেট গভর্ন্যান্স কাঠামো, স্বাধীন অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা, কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ একটি সুস্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থার পূর্বশর্ত। এ কারণে বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশ তথ্য বিশ্লেষণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক পর্যবেক্ষণ, রিয়েল-টাইম লেনদেন বিশ্লেষণ এবং স্বয়ংক্রিয় ঝুঁকি শনাক্তকরণ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে। বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি ব্যবস্থার প্রসার ঘটছে, যা অস্বাভাবিক লেনদেন দ্রুত শনাক্ত করতে সহায়তা করতে পারে।

    তবে প্রযুক্তি একাই সমস্যার সমাধান নয়। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের কার্যকর ভূমিকা, দক্ষ ও স্বাধীন নিরীক্ষা ব্যবস্থা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেশাগত নৈতিকতা, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ—এসব বিষয়ও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সুশাসন দুর্বল হলে আধুনিক প্রযুক্তিও কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে পারে না।

    সব মিলিয়ে কৃত্রিম লেনদেনের প্রবণতা কেবল হিসাবগত অনিয়মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা, আর্থিক শৃঙ্খলা এবং জনআস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। তাই শাখা সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রতিটি শাখার বাস্তব ব্যবসায়িক কার্যক্রম, লেনদেনের যৌক্তিকতা এবং নিয়ন্ত্রক নির্দেশনার যথাযথ অনুসরণ নিশ্চিত করাই এখন সময়ের প্রধান দাবি।

    কাগজে-কলমে বা কৃত্রিমভাবে লেনদেনের পরিমাণ বাড়িয়ে দেখানোর প্রবণতা একটি ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সমস্যা হলেও এর প্রভাব ধীরে ধীরে পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও জাতীয় অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। একটি ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদন যদি প্রকৃত অবস্থার প্রতিফলন না করে, তাহলে আমানতকারী, বিনিয়োগকারী, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং নীতিনির্ধারকদের জন্য সঠিক ঝুঁকি মূল্যায়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ কঠিন হয়ে পড়ে। এতে ব্যাংকের প্রকৃত আর্থিক সক্ষমতা সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ধারণা সৃষ্টি হয় এবং আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

    এ ধরনের অনিয়মের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় জনআস্থার ওপর। ব্যাংকিং ব্যবস্থা মূলত গ্রাহকের বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত। কোনো ব্যাংকে অস্বাভাবিক লেনদেন, আর্থিক অনিয়ম বা জবাবদিহির ঘাটতির খবর প্রকাশ পেলে সাধারণ আমানতকারীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। এর ফলে নতুন আমানত সংগ্রহে গতি কমতে পারে, বিদ্যমান গ্রাহকদের আস্থাও দুর্বল হতে পারে এবং ব্যাংকের স্বাভাবিক তারল্য ব্যবস্থাপনার ওপর চাপ সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। একই সঙ্গে ব্যাংকের ঋণ বিতরণ, বিনিয়োগ এবং সামগ্রিক আর্থিক কার্যক্রমও প্রভাবিত হতে পারে।

    আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব হলো প্রকৃত আর্থিক ঝুঁকি আড়ালে থেকে যাওয়া। কৃত্রিম লেনদেনের কারণে সমস্যাগ্রস্ত ঋণ, দুর্বল সম্পদ ব্যবস্থাপনা কিংবা অন্যান্য আর্থিক অসঙ্গতি সময়মতো শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে প্রয়োজনীয় সংস্কার বিলম্বিত হয় এবং সমস্যার গভীরতা আরও বাড়তে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নয়, পুরো আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতার জন্যও ঝুঁকি তৈরি করে।

    বর্তমান বিশ্বে একটি দেশের ব্যাংকিং খাতের সুশাসন আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ পরিবেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ঘাটতি বিদেশি বিনিয়োগকারী, উন্নয়ন সহযোগী এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আস্থাকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ, আন্তর্জাতিক অর্থায়ন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপরও পরোক্ষ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।

    এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রথমেই নিয়ন্ত্রক তদারকি আরও কার্যকর করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি, অন-সাইট ও অফ-সাইট পরিদর্শন, সন্দেহজনক লেনদেন পর্যবেক্ষণ এবং অর্থপাচার প্রতিরোধ কাঠামোকে আরও শক্তিশালীভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোর তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, নিয়মিত নিরীক্ষা এবং ঝুঁকি মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে।

    শাখা বা উপ-শাখা অনুমোদনের ক্ষেত্রেও কেবল সংখ্যাগত সম্প্রসারণ নয়, সংশ্লিষ্ট এলাকার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, গ্রাহকের চাহিদা, ব্যবসায়িক সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ, রিয়েল-টাইম লেনদেন পর্যবেক্ষণ, কেন্দ্রীভূত ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং Early Warning System-এর ব্যবহার বাড়ালে অস্বাভাবিক লেনদেন দ্রুত শনাক্ত করা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি আগেভাগেই মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

    পাশাপাশি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, স্বাধীন অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নৈতিকতা ও দক্ষতা উন্নয়নে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ অপরিহার্য। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ, নিরীক্ষা বিভাগ এবং গ্রাহক—সবার সমন্বিত ভূমিকা নিশ্চিত করা গেলে কাগজে-কলমে লেনদেনের মতো অনিয়ম অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

    বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তাই শাখা ও উপ-শাখার সংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে প্রতিটি শাখার কার্যক্রম কতটা বাস্তবভিত্তিক, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক—সেই বিষয়টিকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। কাগজে-কলমে লেনদেনের কৃত্রিম চিত্র সাময়িকভাবে কোনো প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থাকে ইতিবাচক দেখাতে পারলেও তা কখনোই টেকসই ব্যাংকিং ব্যবস্থার বিকল্প হতে পারে না।

    বর্তমান প্রেক্ষাপটে ব্যাংকিং খাতের প্রতি জনআস্থা পুনরুদ্ধার করতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি আরও কার্যকর করার পাশাপাশি প্রতিটি ব্যাংকে করপোরেট সুশাসন, স্বাধীন নিরীক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে শাখা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে সংখ্যার প্রতিযোগিতার পরিবর্তে সেবার মান, আর্থিক সক্ষমতা এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।

    একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও টেকসই ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ, পরিচালনা পর্ষদ এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। কারণ একটি শক্তিশালী ব্যাংকিং খাত কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভিত্তিই নয়, দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগের আস্থা এবং টেকসই উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সম্পাদকীয়

    অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ অনুমোদন কি খেলাপির মূল কারণ

    আগস্ট 5, 2026
    সম্পাদকীয়

    অর্থনীতির আসল গতি ফেরাতে ব্যাংক ও পুঁজিবাজারের ভারসাম্য রক্ষা প্রয়োজন

    আগস্ট 4, 2026
    সম্পাদকীয়

    সহজ শর্তে ঋণ নয়, আধুনিক প্রযুক্তিতে দীর্ঘমেয়াদি পুঁজি গঠন হোক মূল লক্ষ্য

    জুলাই 30, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.