ধ্বংসস্তূপ, গোলাবর্ষণ আর বাস্তুচ্যুতির ভয়াবহতার মধ্যেও পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আয়োজন করেছেন গাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা। যুদ্ধের ক্ষত বুকে নিয়েই প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মদিন স্মরণ করেছেন তারা। ধ্বংস হয়ে যাওয়া ঘরবাড়ি ও আশপাশের শিবিরে এই আয়োজন যেন কয়েক ঘণ্টার জন্য হলেও তাদের জীবনে ফিরিয়ে আনে স্বাভাবিকতার অনুভূতি।
আল মাশতাল আল গারবি ও আল বারাকা শিবিরে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মদিন উপলক্ষে এই আয়োজন করা হয়। শিশু থেকে শুরু করে বয়স্করাও এতে অংশ নেন। কেউ নামাজ আদায় করেছেন, কেউ ধর্মীয় সংগীতে কণ্ঠ মিলিয়েছেন। আবার স্বেচ্ছাসেবকেরা আগুন জ্বালিয়ে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্য বিভিন্ন ধরনের খাবার রান্না করেছেন।
চারপাশে যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ থাকলেও আয়োজনজুড়ে ছিল ধর্মীয় আবহ। প্রার্থনার সুরে মুখর হয়ে ওঠে শিবিরের পরিবেশ। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই একসঙ্গে খাবার রান্না ও ভাগাভাগি করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে একে অন্যের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো।
তবে এই আয়োজনের আড়ালেই রয়েছে দীর্ঘদিনের কষ্ট, অনিশ্চয়তা ও হারানোর গল্প। গাজার বাসিন্দারা বলছেন, যুদ্ধের কারণে গত তিন বছর তারা ঈদে মিলাদুন্নবীর অনুষ্ঠান পালন করতে পারেননি। গোলাবর্ষণ, ধ্বংস আর এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বাস্তুচ্যুত হওয়ার কারণে ধর্মীয় উৎসব আয়োজনের মতো পরিস্থিতি ছিল না তাদের।
যুদ্ধ তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন কেড়ে নিয়েছে। অনেকেই হারিয়েছেন ঘরবাড়ি ও আপনজন। নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বারবার স্থান বদল করতে হয়েছে বহু পরিবারকে। এমন পরিস্থিতিতে উৎসবের আনন্দের কথা ভাবারও সুযোগ ছিল না। এবার তাই সেই ভয়াবহ বাস্তবতার মধ্যেই ধ্বংসস্তূপের মাঝে প্রিয় নবীর জন্মদিন স্মরণ করার উদ্যোগ নেন তারা।
আয়োজনে অংশ নেওয়া মানুষের কাছে এটি শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়। দীর্ঘদিনের যুদ্ধ, ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে এটি ছিল কিছু সময়ের জন্য একসঙ্গে হওয়ার একটি সুযোগ। শিশুদের অংশগ্রহণও আয়োজনটিকে প্রাণবন্ত করে তোলে। বড়দের পাশাপাশি তারাও ধর্মীয় পরিবেশে সময় কাটায় এবং উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেয়।
কয়েক ঘণ্টার এই আয়োজন যেন তাদের কিছু সময়ের জন্য ভুলিয়ে দেয় যুদ্ধের ভয়াবহ দিনগুলোর কথা। গোলাবর্ষণ ও ধ্বংসের মধ্যে প্রার্থনা, ধর্মীয় সংগীত এবং একসঙ্গে খাবার রান্নার দৃশ্য তাদের জীবনে সাময়িক স্বস্তি এনে দেয়।
গাজার বাসিন্দারা বলছেন, এত কষ্ট ও ক্ষত সত্ত্বেও তারা আশা হারাতে চান না। ঈদে মিলাদুন্নবীর এই দিনে তাদের প্রার্থনা-বিশ্বজুড়ে মানুষের মধ্যে শান্তি ও সহনশীলতা প্রতিষ্ঠিত হোক। সবাই যেন নিরাপদে ও শান্তির সঙ্গে বসবাস করতে পারে।
তাদের প্রত্যাশা, যুদ্ধের অবসান ঘটবে এবং দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন গাজার মানুষ। ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও তাই তাদের প্রার্থনায় উঠে এসেছে শান্তির আকাঙ্ক্ষা, স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যাশা এবং ভবিষ্যতের জন্য নতুন আশার কথা।

