আজানের জবাব দেওয়ার ফজিলত নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য। তবে নারীদের মনে একটি প্রশ্ন প্রায়ই আসে, পিরিয়ড চলাকালে তাঁরা আজানের জবাব দিতে পারবেন কি না। এ প্রশ্নের উত্তরে ঢাকা থেকে প্রকাশিত ইসলামী গবেষণা পত্রিকা মাসিক আল কাউসার জানিয়েছে, পিরিয়ড চলাকালেও নারীরা আজানের জবাব দিতে পারবেন। কারণ, আজানের জবাব দেওয়ার জন্য পবিত্র অবস্থায় থাকা জরুরি নয়।
নির্দিষ্ট কয়েকটি বাক্য উচ্চারণের মাধ্যমে নামাজের দিকে আহ্বান করাকে আজান বলা হয়। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের জন্য মুয়াজ্জিন এই আহ্বান জানান। এটি ইসলামী জীবনপদ্ধতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নামাজের যেমন গুরুত্ব আছে, আজানেরও তেমন গুরুত্ব আছে। এ কারণেই যিনি আজান দেন, ইসলাম তাঁকে মর্যাদার আসনে বসিয়েছে।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, মুয়াজ্জিনের আজানের আওয়াজ যত দূর পৌঁছায়, তত দূর পর্যন্ত তাঁর গোনাহ মাফ করা হয়। অর্থাৎ ওই পুরো জায়গা গোনাহে ভরা থাকলেও তাঁর সব গোনাহ ক্ষমা করা হবে। এ ছাড়া মুয়াজ্জিনের আজান শুনতে পায়, এমন প্রতিটি প্রাণী ও নিষ্প্রাণ বস্তু তাঁর পক্ষে সাক্ষ্য দেবে। হাদিসটি সুনানে আবু দাউদে বর্ণিত হয়েছে।
আজানের জবাব দিলেও মুয়াজ্জিনের সমান সওয়াব পাওয়া যায়। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, একজন সাহাবি নবীজি (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, মুয়াজ্জিনরা তো আমাদের চেয়ে বেশি ফজিলত পাচ্ছেন, আমরা কীভাবে তাঁদের সমান সওয়াব পেতে পারি। নবীজি (সা.) উত্তরে বলেন, মুয়াজ্জিন যা বলেন, তুমিও তা-ই বলবে। আজান শেষ হলে আল্লাহর কাছে দোয়া করবে। তাহলে তুমিও একই রকম সওয়াব পাবে। এটিও সুনানে আবু দাউদের বর্ণনা।
এই ফজিলতপূর্ণ আমলের ক্ষেত্রে পিরিয়ডের সময় নারীদের করণীয় নিয়ে আল কাউসারের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এ সময় নারীদের জন্য কোরআন তিলাওয়াত নিষিদ্ধ। তবে দোয়া ও জিকির করা বৈধ। আজানের বাক্যগুলো উচ্চারণ করাও বৈধ। এ মতের পক্ষে পত্রিকাটি মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, ফাতাওয়া সিরাজিয়া, উমদাতুল কারী, আদ্দুররুল মুখতারসহ বিভিন্ন গ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়েছে।
আজানের জবাব দেওয়ার পদ্ধতিও জানানো হয়েছে। মুয়াজ্জিন প্রতিটি বাক্য বলে থামার পর শ্রোতা সেই বাক্যটি একইভাবে বলবেন। তবে মুয়াজ্জিন যখন ‘হাইয়্যা আলাস সালাহ’ ও ‘হাইয়্যা আলাল ফালাহ’ বলবেন, তখন শ্রোতা বলবেন ‘লা হাওলা ওয়া লা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’। এটিই বিশুদ্ধ অভিমত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই নিয়ম সহিহ মুসলিমের হাদিসে এসেছে। তবে তাবারানির কোনো কোনো বর্ণনায় ওই দুই বাক্যের সময়ও মুয়াজ্জিনের মতো করে বলার অনুমতি পাওয়া যায়।
সব মিলিয়ে বিষয়টির সারকথা হলো, আজানের জবাব দেওয়ার জন্য ওজু বা পবিত্রতা শর্ত নয়। তাই পিরিয়ড চলাকালেও নারীরা আজানের জবাব দিয়ে এই সওয়াবের অংশীদার হতে পারবেন। তবে এ সময় কোরআন তিলাওয়াত নিষিদ্ধ থাকায় আজান-পরবর্তী দোয়া ও জিকিরের ক্ষেত্রে সেগুলো কোরআনের অংশ কি না, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা দরকার। কোনো বিষয়ে সন্দেহ থাকলে নির্ভরযোগ্য আলেম বা মুফতির পরামর্শ নেওয়াই উত্তম।
সূত্র: কাল বেলা

