দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে লেনদেন শুরু হয়েছে শক্তিশালী উত্থানের মধ্য দিয়ে। সোমবারের প্রথম ৩০ মিনিটেই অধিকাংশ শেয়ারের দাম বেড়ে বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল ১০টায় লেনদেন শুরু হওয়ার পরপরই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে অধিকাংশ তালিকাভুক্ত শেয়ার ও ইউনিটের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রথম আধা ঘণ্টায় লেনদেন হওয়া সিকিউরিটিজের মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের দাম বেড়েছে। এই সময়ে দাম কমা শেয়ারের তুলনায় বাড়া শেয়ারের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন গুণ বেশি ছিল। ফলে পুরো বাজারজুড়ে একটি ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়।
প্রথম ৩০ মিনিটের লেনদেনে বাজারের প্রধান সূচকগুলোও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক আগের দিনের তুলনায় প্রায় ১৯ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২৯১ পয়েন্টে দাঁড়ায়।একই সময়ে—ভালো ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত সূচক সামান্য বেড়ে অবস্থান করে ২ হাজার ৬ পয়েন্টে, শরিয়াহভিত্তিক সূচকও সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৬৭ পয়েন্টে।
উত্থান থাকলেও লেনদেনের গতি গতকালের তুলনায় কিছুটা কম ছিল। প্রথম আধা ঘণ্টায় মোট লেনদেন হয় প্রায় ১৫৮ কোটি টাকার, যা আগের দিনের একই সময়ের তুলনায় কিছুটা কম। গত কার্যদিবসে এই সময়েই লেনদেন হয়েছিল ১৭২ কোটি টাকার বেশি, আর পুরো দিনে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৮৩৭ কোটি টাকার বেশি।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্প সময়ের এই উত্থান বিনিয়োগকারীদের আস্থার কিছুটা পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিলেও এটি স্থায়ী প্রবণতা কি না, তা বুঝতে পুরো দিনের লেনদেন পর্যবেক্ষণ জরুরি। তারা মনে করছেন, বাজারে ধারাবাহিকতা না থাকলে এই ধরনের প্রাথমিক উত্থান দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত ।
সপ্তাহের শুরুতে শেয়ারবাজারে ইতিবাচক গতি লক্ষ্য করা গেলেও বিনিয়োগকারীদের জন্য এখনো বাজারে ওঠানামার ঝুঁকি রয়ে গেছে। দিনের বাকি লেনদেনই নির্ধারণ করবে এই উত্থান কতটা টেকসই।

