মার্চ মাসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি দুর্বল থাকলেও কিছু লোকসানি ও তুলনামূলকভাবে দুর্বল মৌলভিত্তির শেয়ারে অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি দেখা গেছে। বিশেষ করে অবসায়ন–ঝুঁকিতে থাকা কয়েকটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) এই সময়ে শীর্ষ দরবৃদ্ধির তালিকায় উঠে আসে, যা বাজারে জল্পনা–নির্ভর লেনদেনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ডিএসইর মাসিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মার্চে শীর্ষ দরবৃদ্ধি পাওয়া শেয়ারের মধ্যে অর্ধেকের মতো ছিল এনবিএফআই খাতের। দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে থাকা ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের শেয়ারদর এ সময় দ্বিগুণ হয়ে ৩ টাকা ২০ পয়সায় পৌঁছায়। একই খাতে প্রিমিয়ার লিজিংয়ের শেয়ারদর ৮৩ শতাংশের বেশি বেড়ে ৩ টাকা ৩০ পয়সায় উন্নীত হয়।
এছাড়া পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্সের শেয়ারদর প্রায় ৭৬ শতাংশ করে বেড়ে ৩ টাকার কাছাকাছি অবস্থানে আসে। ফাস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের শেয়ারদরও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ৩ টাকা ৯০ পয়সায় দাঁড়ায়। এসব কোম্পানির বেশিরভাগই দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল আর্থিক অবস্থায় রয়েছে এবং কিছু প্রতিষ্ঠান অবসায়ন প্রক্রিয়ার মধ্যেও রয়েছে।
দরবৃদ্ধির তালিকায় শুধু এনবিএফআই নয়, কিছু স্বল্পমূল্যের টেক্সটাইল ও প্রকৌশল খাতের শেয়ারও ছিল। এর মধ্যে হামিদ ফ্যাব্রিকস, ফ্যামিলিটেক্স, অ্যাটলাস বাংলাদেশ এবং প্যাসিফিক ডেনিমসের মতো কোম্পানির শেয়ারেও উল্লেখযোগ্য ওঠানামা দেখা যায়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এসব শেয়ারের বড় অংশই স্বল্প মূলধনী এবং তুলনামূলকভাবে কম লেনদেন হওয়া কোম্পানি।
সামগ্রিকভাবে মার্চ মাসে ডিএসইতে ৩৯০টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৭৩টির, কমেছে ১৮৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩৪টির শেয়ার। ফলে বাজারে সামগ্রিকভাবে নিম্নমুখী প্রবণতাই বজায় ছিল বলে পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়।
লেনদেনের দিক থেকেও বাজারে উল্লেখযোগ্য কর্মকাণ্ড দেখা গেছে। মাসজুড়ে মোট লেনদেন হয়েছে ১০ হাজার ২১১ কোটি টাকা। এর মধ্যে উৎপাদন খাত সর্বোচ্চ অংশীদারত্ব ধরে রেখেছে, যা মোট লেনদেনের প্রায় ৪৭ শতাংশ। আর্থিক খাত—যার মধ্যে ব্যাংক, এনবিএফআই ও বিমা অন্তর্ভুক্ত—প্রায় ৩০ শতাংশ লেনদেনের অবদান রেখেছে। বাকি অংশ এসেছে সেবা ও অন্যান্য খাত থেকে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে দরপতনের কারণে অনেক দুর্বল কোম্পানির শেয়ারদর অতিমাত্রায় কমে যায়। সেই নিম্নমূল্যকে কেন্দ্র করেই কিছু ক্ষেত্রে আকস্মিক ক্রয়চাপ তৈরি হয়। তবে এসব লেনদেনের বড় অংশই মৌলভিত্তির পরিবর্তে স্বল্পমেয়াদি জল্পনা ও গুজবনির্ভর বলে তারা মনে করছেন। সব মিলিয়ে মার্চ মাসের বাজার পরিস্থিতি দেখায় যে সামগ্রিকভাবে বাজার দুর্বল থাকলেও কিছু নির্দিষ্ট খাতে অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাড়তি ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করছে।

