দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা গেছে। সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে অধিকাংশ শেয়ার ও ইউনিটের দরবৃদ্ধির ফলে বাজারে সূচক ও লেনদেন—দুটিতেই ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দিনের শুরু থেকেই বেশিরভাগ শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়তে থাকে এবং দিনজুড়ে এই ধারা অব্যাহত থাকে। শেষ পর্যন্ত ৩৮৯টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নেয়, যার মধ্যে অধিকাংশের দাম বৃদ্ধি পায়। এতে বাজারে ক্রয়চাপ স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
দিনশেষে ডিএসইর প্রধান সূচক সামান্য বেড়ে ৫ হাজার ২৫৭ পয়েন্টে পৌঁছায়। শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলোর সূচকেও সামান্য ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে, পাশাপাশি নির্বাচিত ৩০টি কোম্পানির সূচকেও অল্প বৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়।
লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মঙ্গলবার ডিএসইতে মোট লেনদেন দাঁড়ায় ৯২৯ কোটি টাকার বেশি, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় একশ কোটি টাকারও বেশি বৃদ্ধি। এর ফলে সাত কার্যদিবস পর বাজারে লেনদেন আবার ৯০০ কোটি টাকার ঘর অতিক্রম করে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার কিছুটা উন্নতি এবং নির্দিষ্ট কিছু খাতে ক্রয়চাপ বৃদ্ধির কারণে লেনদেনে এই উত্থান দেখা গেছে। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, এই ধারা কতটা স্থায়ী হবে তা নির্ভর করবে সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও কর্পোরেট পারফরম্যান্সের ওপর।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই দিনে সূচকে সামান্য ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। তবে সেখানে লেনদেন আগের দিনের তুলনায় কিছুটা কমেছে। মোট ২১৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অধিকাংশের দাম পরিবর্তন হলেও বাজারটি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অবস্থায় ছিল। সব মিলিয়ে, শেয়ারবাজারে লেনদেন ও সূচকে সাম্প্রতিক এই ঊর্ধ্বগতি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়েছে, যদিও বাজারের ভবিষ্যৎ প্রবণতা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

