পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ভোক্তা পণ্য খাতের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের ব্যবসায় চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। বিক্রি কমার পাশাপাশি আর্থিক আয় হ্রাস পাওয়ায় কোম্পানির মুনাফাও কমেছে।
কোম্পানির অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে মোট বিক্রি হয়েছে প্রায় ৮৭ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল প্রায় ৯৫ কোটি টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে ব্যবসা কমেছে প্রায় ৮ কোটি টাকা বা সাড়ে ৮ শতাংশের মতো।
শুধু মূল ব্যবসাই নয়, ব্যাংকে জমা অর্থ থেকে পাওয়া সুদসহ অন্যান্য আর্থিক আয়েও বড় পতন দেখা গেছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে এই খাত থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৬ কোটি টাকা, যেখানে আগের বছর একই সময়ে আয় ছিল প্রায় ৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ আর্থিক আয় কমেছে এক-তৃতীয়াংশের বেশি।
এই দুই খাতে আয় কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে কোম্পানির মুনাফায়। প্রান্তিক শেষে কর-পরবর্তী নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ কোটি টাকা বা ১৪ শতাংশের বেশি কম।
তবে ব্যবসা কমে যাওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে খরচ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। পরিচালন ব্যয় কমে প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকায় নেমেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২ কোটি টাকা কম। কিন্তু উৎপাদন খরচ কিছুটা বেড়েছে। চলতি প্রান্তিকে মোট বিক্রির প্রায় ৭০ শতাংশ ব্যয় হয়েছে উৎপাদনে, যা কোম্পানির ব্যয় কাঠামোর ওপর চাপ তৈরি করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিক্রি ও আর্থিক আয় একসঙ্গে কমে যাওয়ায় কোম্পানির লাভজনকতা চাপে পড়েছে। যদিও পরিচালন ব্যয় কমানো হয়েছে, তবে উৎপাদন খরচ বাড়ার কারণে মোট মুনাফায় ইতিবাচক প্রভাব সীমিত হয়েছে।
বাংলাদেশের বাজারে কোম্পানিটি পুষ্টি ও খাদ্যপণ্যের বিভিন্ন পরিচিত ব্র্যান্ড বাজারজাত করে থাকে। কয়েক বছর আগে একটি আন্তর্জাতিক কোম্পানির কাছ থেকে এই ব্যবসা অধিগ্রহণের পর নতুন নামে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সব মিলিয়ে, প্রথম প্রান্তিকে আয় ও মুনাফা কমে যাওয়ায় ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের আর্থিক পারফরম্যান্সে চাপ স্পষ্ট হয়েছে। বাজার পরিস্থিতি ও ভোক্তা চাহিদার ওপর নির্ভর করেই আগামী প্রান্তিকগুলোতে কোম্পানির ফলাফলের গতি নির্ধারিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

