ভোক্তা পণ্য খাতের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে মুনাফা কমেছে প্রায় ১২ শতাংশ। বিক্রি ধীরগতির পাশাপাশি মূল কোম্পানিকে আবার রয়্যালটি পরিশোধ শুরু হওয়ায় কোম্পানির আয় চাপে পড়েছে।
জানুয়ারি থেকে মার্চ সময়কালে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ কোটি ১০ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। একই সঙ্গে শেয়ারপ্রতি আয়ও কমে ৬ টাকা ২৯ পয়সায় নেমেছে, যা এক বছর আগে ছিল ৭ টাকা ১৬ পয়সা।
কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রযুক্তি ও ট্রেডমার্ক ব্যবহারের জন্য মূল কোম্পানিকে পুনরায় রয়্যালটি দেওয়া শুরু হওয়ায় ব্যয় বেড়েছে। এছাড়া গত বছর এককালীন কিছু আর্থিক সুবিধা পাওয়া গিয়েছিল, যা এবার না থাকায় তুলনামূলকভাবে মুনাফা কম দেখাচ্ছে।
বিক্রির ক্ষেত্রেও নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় মোট আয় প্রায় ৮ শতাংশ কমেছে। বিশেষ করে কোম্পানির প্রধান পণ্যগুলোর চাহিদা কিছুটা কমে গেছে। বাজারে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক ক্রেতা প্রয়োজনীয় পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন, ফলে ঐচ্ছিক পণ্যের বিক্রি চাপের মুখে পড়েছে।
কোম্পানির চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচনকালীন অনিশ্চয়তা এবং রমজান মাসে ভোক্তা আচরণের পরিবর্তন—সব মিলিয়ে বিক্রি ও মুনাফার ওপর প্রভাব পড়েছে। শিল্প সংশ্লিষ্টরাও বলছেন, ভোক্তা পণ্য খাতে বর্তমানে ব্যয় সংযমের প্রবণতা স্পষ্ট, যা পুরো বাজারকেই প্রভাবিত করছে।
তবে মুনাফা কমলেও কোম্পানির নগদ প্রবাহে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ আগের বছরের নেতিবাচক অবস্থান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ইতিবাচক হয়েছে। বড় অঙ্কের পূর্ববর্তী দায় পরিশোধের চাপ না থাকায় এ উন্নতি সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বার্ষিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কোম্পানির মোট মুনাফা বেড়ে প্রায় ৭৯ কোটি ৪০ লাখ টাকায় পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৯ শতাংশ বেশি। একই সময়ে মোট বিক্রিও কিছুটা বেড়েছে।
তবে বছরের জন্য ঘোষিত নগদ লভ্যাংশ আগের বছরের তুলনায় কমানো হয়েছে। কোম্পানির পর্ষদ ৪২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, যেখানে আগের বছর ছিল ৫২০ শতাংশ। সব মিলিয়ে, স্বল্পমেয়াদে মুনাফা চাপে থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কোম্পানির আয় পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

