দেশের পুঁজিবাজারে টানা কয়েকদিনের পর আবারও চাঙ্গা ভাব ফিরেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে অধিকাংশ শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ায় প্রধান সূচকগুলো ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। একই সঙ্গে লেনদেনও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে ৯০০ কোটি টাকার সীমা অতিক্রম করেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দিনের শুরু থেকেই বাজারে ক্রেতাদের সক্রিয়তা লক্ষ্য করা যায়। লেনদেন শুরুর পর থেকেই বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়তে থাকে এবং এ ধারা শেষ পর্যন্ত বজায় থাকে। সারাদিনে মোট ৩৮৯টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ২১৫টির দাম বেড়েছে, ১০৮টির কমেছে এবং ৬৬টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
বাজারের এ ইতিবাচক প্রবণতায় প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স বেড়ে ৫ হাজার ২৫৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি শরিয়াহভিত্তিক সূচক এবং বাছাইকৃত বড় কোম্পানির সূচকও সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সামগ্রিক বাজারে আস্থার ইঙ্গিত দেয়।
লেনদেনের পরিমাণেও বড় উল্লম্ফন দেখা গেছে। দিনশেষে মোট লেনদেন দাঁড়িয়েছে ৯২৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১০৪ কোটি টাকার বেশি। প্রায় এক সপ্তাহ পর আবারও লেনদেন ৯০০ কোটির ঘরে ফিরেছে। এদিন লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে একটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি ব্যাংক, যার শেয়ারে প্রায় ২৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। এছাড়া কীটনাশক ও শিল্প খাতের কয়েকটি কোম্পানিও সক্রিয় লেনদেন তালিকায় ছিল।
দাম বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলোর শেয়ারের মূল্য প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে, যা বাজারে স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ার ইঙ্গিত দেয়। অন্যদিকে কিছু আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে দরপতন হয়েছে, যদিও সামগ্রিকভাবে বাজার ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। সেখানে সূচক কিছুটা বাড়লেও লেনদেন সামান্য কমেছে। অধিকাংশ শেয়ারের দাম বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণও ইতিবাচক ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে ক্রেতাদের আস্থা কিছুটা ফিরে আসার কারণেই এ উত্থান দেখা যাচ্ছে। তবে এ ধারা টেকসই করতে হলে নীতিগত স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

