দেশের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। সরকার বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন-এর বর্তমান চেয়ারম্যানকে অপসারণের পরিকল্পনা করছে, তবে তার আগে সংশ্লিষ্ট আইনে সংশোধন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বিদ্যমান আইনে চেয়ারম্যানের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৬৫ বছর নির্ধারিত থাকলেও তা কমিয়ে ৬০ বছর করার চিন্তাভাবনা চলছে। একইসঙ্গে কমিশনারদের ক্ষেত্রেও একই সীমা প্রযোজ্য করার প্রস্তাব রয়েছে। এ লক্ষ্যে আইন সংশোধনের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
শুধু পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাই নয়, বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ-এর ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে সংস্থাটির চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বয়সসীমা ৬৭ বছর থাকলেও তা কমিয়ে ৬০ বছরে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আইন সংশোধনের পরই বর্তমান চেয়ারম্যানকে অপসারণ করে নতুন নেতৃত্ব আনা হবে। একইসঙ্গে কমিশনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদেও পরিবর্তন আসতে পারে। বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাতেও নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত নেতৃত্ব দিয়ে কার্যক্রম চলছে।
পুঁজিবাজারে সাম্প্রতিক অস্থিরতা এবং বিনিয়োগকারীদের অসন্তোষও এই পরিবর্তনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাজারে দরপতনের প্রেক্ষাপটে দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি উঠে আসছিল।
নীতিনির্ধারকদের মতে, আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোতে কাঠামোগত সংস্কার আনা এখন সময়ের দাবি। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন আনা হয়েছে, এবং একই ধারাবাহিকতায় পুঁজিবাজার ও বিমা খাতেও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইন সংশোধন চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে না। আলোচনার ভিত্তিতে বয়সসীমা ও অন্যান্য বিষয় কিছুটা পরিবর্তিতও হতে পারে। সার্বিকভাবে, এই উদ্যোগকে পুঁজিবাজারকে আরও স্থিতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

