দুই মাসের বেশি সময় পর দেশের প্রধান পুঁজিবাজারে দৈনিক লেনদেন আবারও হাজার কোটি টাকার ঘর অতিক্রম করেছে। বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে অধিকাংশ শেয়ার ও ইউনিটের দাম বৃদ্ধির ফলে বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায় এবং সূচকগুলোও ঊর্ধ্বমুখী হয়। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আস্থা ফিরে আসার ইঙ্গিত মিলেছে।
দিনের শুরু থেকেই বাজারে ক্রয়চাপ বেশি ছিল। অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর বাড়তে থাকায় লেনদেনের গতি ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়। যদিও দিনের শেষ ভাগে কিছুটা মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়, তবুও সামগ্রিকভাবে বাজার ইতিবাচক অবস্থান ধরে রাখে।
লেনদেনের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোট ৩৯১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। এর মধ্যে ২১৩টির দর বেড়েছে, ১২১টির দর কমেছে এবং ৫৭টির দর অপরিবর্তিত ছিল। বাজারে দরবৃদ্ধির সংখ্যা বেশি থাকায় সামগ্রিক সূচকগুলোও উপরের দিকে ওঠে।
প্রধান সূচক প্রায় ৪১ পয়েন্ট বেড়ে পাঁচ হাজার ২৯৯ পয়েন্টে পৌঁছায়। শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলোর সূচকও সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে এক হাজার ৬৬ পয়েন্টে দাঁড়ায়। বাছাইকৃত ত্রিশটি কোম্পানির সূচকও প্রায় ২০ পয়েন্ট বেড়ে দুই হাজার পাঁচ পয়েন্টের কাছাকাছি অবস্থান করে।
লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বুধবার মোট লেনদেন দাঁড়ায় এক হাজার ৫৬ কোটি টাকার বেশি, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় প্রায় ১২৭ কোটি টাকা বেশি। এর মাধ্যমে প্রায় দুই মাস পর আবারও বাজারে হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন ফিরে আসে। সর্বশেষ এত উচ্চ লেনদেন হয়েছিল ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমুখী লেনদেন ও অনিশ্চয়তার পর এই উত্থানকে স্বল্পমেয়াদি ইতিবাচক সিগন্যাল হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে তারা সতর্ক করে বলছেন, শুধু এক দিনের উত্থান দিয়ে বাজারের স্থায়ী গতি নির্ধারণ করা যায় না। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে ধারাবাহিক লেনদেন ও স্থিতিশীল নীতিগত পরিবেশ প্রয়োজন।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই দিনে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। সেখানে প্রধান সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয় এবং অধিকাংশ কোম্পানির দরও বৃদ্ধি পায়। তবে লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের তুলনায় কিছুটা কমেছে, যা বাজারের আংশিক সতর্ক অবস্থান নির্দেশ করে।
সামগ্রিকভাবে বুধবারের বাজার চিত্রে উত্থান ও লেনদেন বৃদ্ধির সমন্বয় দেখা গেলেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এখনও পূর্ণ আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়নি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, টেকসই উন্নতির জন্য ধারাবাহিক ইতিবাচক ধারা জরুরি, নাহলে এই ধরনের উত্থান সাময়িক হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।

