দেশের অটোমোবাইল খাতে বড় ধরনের বিদেশি বিনিয়োগ এলো নতুন এক চুক্তির মাধ্যমে। জাপানের মিতসুবিশি করপোরেশন বাংলাদেশের র্যাংকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড-এর ২৫ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণে সম্মত হয়েছে, যা স্থানীয়ভাবে গাড়ি উৎপাদন ও বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ঢাকায় স্বাক্ষরিত এই কৌশলগত অংশীদারত্বের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের অটোমোবাইল শিল্পকে আমদানিনির্ভরতা থেকে ধীরে ধীরে উৎপাদনমুখী পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই বিনিয়োগের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষতা এবং বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা স্থানীয় শিল্পে যুক্ত হবে।
এই চুক্তির ফলে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, উন্নত বিপণন ব্যবস্থা এবং গ্রাহকসেবার মানোন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিষ্ঠিত একটি প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা চুক্তিটিকে ইতিবাচক বিনিয়োগ পরিবেশের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এটি বর্তমান সময়ে বড় আকারের প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগগুলোর একটি, যা ভবিষ্যতে আরও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সহায়ক হবে।
এছাড়া এই অংশীদারত্বকে দেশের শিল্পায়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। দীর্ঘমেয়াদে এটি হালকা প্রকৌশল খাতের বিকাশেও ভূমিকা রাখবে।
জাপানি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এই উদ্যোগে তাদের বৈশ্বিক অটোমোবাইল খাতের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যুক্ত করবে। অন্যদিকে স্থানীয় অংশীদারদের মতে, দেশীয় বাজার সম্পর্কে অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক দক্ষতার সমন্বয় শিল্পটিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত র্যাংকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজ দেশে বহুব্র্যান্ডের গাড়ি সংযোজন ও উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত। ইতোমধ্যে তারা স্থানীয়ভাবে মিতসুবিশি এক্সপ্যান্ডার উৎপাদন শুরু করেছে, যা বাজারে জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
এই বিনিয়োগের ফলে ভোক্তারা তুলনামূলক কম দামে গাড়ি কেনার সুযোগ পেতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিক্রয়-পরবর্তী সেবা সম্প্রসারণ, যন্ত্রাংশের সহজলভ্যতা এবং সারা দেশে বিপণন নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের অটোমোবাইল বাজার এখনও বিকাশমান হলেও ব্যক্তিগত গাড়ি ও এসইউভির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে বিদেশি বিনিয়োগ এবং স্থানীয় উৎপাদন বাড়লে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে, দাম কমবে এবং আমদানিনির্ভরতা হ্রাস পাবে। দীর্ঘমেয়াদে এটি দেশের শিল্পভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে।

