দেশের পুঁজিবাজারে বুধবার সূচক ও লেনদেন—দুটিতেই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। দিনের শুরুতে কিছুটা ঊর্ধ্বগতি থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যেই বিক্রির চাপ বাড়তে থাকে, ফলে দিনশেষে সূচক পড়ে যায়। বাজার বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ব্যাংক খাতের কয়েকটি শেয়ারের রেকর্ড ডেট-পরবর্তী মূল্য সমন্বয় এই পতনে বড় ভূমিকা রেখেছে।
প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ-এ সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ১০ দশমিক ৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৬৭ পয়েন্টে, যা আগের কার্যদিবসে ছিল ৫ হাজার ২৭৮ পয়েন্ট। একই সময়ে নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ প্রায় ৬ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৭ পয়েন্টে নেমে এসেছে। তবে শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএস উল্টো প্রায় ৬ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৬০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
দিনের শুরুতে সূচক ইতিবাচক থাকলেও প্রথম ১৫ মিনিট পর থেকেই বিক্রির চাপ বাড়তে থাকে। বিশেষ করে ব্যাংক ও বড় মূলধনী কোম্পানির শেয়ারে দরপতন সূচককে নিচের দিকে টেনে আনে। বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে সিটি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, এনসিসি ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া এবং গ্রামীণফোনের শেয়ারদর।
লেনদেনের দিক থেকেও দিনটি দুর্বল ছিল। মোট লেনদেন আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৮৩২ কোটি টাকায়। বাজারে লেনদেন হওয়া ৩৯৩টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১০৭টির, বিপরীতে কমেছে ২২৭টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৫৯টির।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ওষুধ ও রসায়ন খাত ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ লেনদেন নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ব্যাংক খাতের দখলে ছিল ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ। এছাড়া প্রকৌশল, বস্ত্র ও সাধারণ বীমা খাতও উল্লেখযোগ্য লেনদেন ধরে রেখেছে।
রিটার্নের ক্ষেত্রে অধিকাংশ খাতেই নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। জীবন বীমা খাতে সবচেয়ে বেশি ১ দশমিক ৩ শতাংশ দরপতন হয়েছে। পাশাপাশি চামড়া, সেবা ও আবাসন এবং ব্যাংক খাতেও দর কমেছে। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে সিরামিক খাতে ২ দশমিক ৮ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এছাড়া কাগজ ও মুদ্রণ এবং ওষুধ খাতেও সামান্য ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ-এ সূচকে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। সিএসসিএক্স সূচক ১৭ পয়েন্ট বেড়ে ৯ হাজার ১১০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে এবং সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩২ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৮১৬ পয়েন্টে উঠেছে। তবে এই বাজারেও লেনদেন কিছুটা কমে ১৫ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।
সার্বিকভাবে বাজার পরিস্থিতি ইঙ্গিত করছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্ক মনোভাব বিরাজ করছে। বিশেষ করে ব্যাংক খাতের শেয়ারের মূল্য সমন্বয় এবং বড় কোম্পানিগুলোর দরপতন বাজারে স্বল্পমেয়াদি চাপ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, আস্থা ফিরে পেতে হলে বাজারে স্থিতিশীলতা এবং ইতিবাচক প্রাতিষ্ঠানিক অংশগ্রহণ বাড়ানো জরুরি।

