টানা দুই সপ্তাহের পতনের পর অবশেষে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে পুঁজিবাজারে। গত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৬৬২ পয়েন্টে। আগের দুই সপ্তাহে এই সূচক কমেছিল ২১৮ পয়েন্ট। অর্থাৎ, দীর্ঘ পতনের পর বাজার কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তবে এই পুনরুদ্ধারকে খুব বেশি বাড়াবাড়ি করে দেখার সুযোগ নেই কারণ সূচকের এই বৃদ্ধি নগণ্য, কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো লেনদেন বাড়ার ইঙ্গিত। সপ্তাহের প্রথম দুই দিন পতন দেখা গেলেও শেষ তিন দিনে বাজার ইতিবাচক ছিল।
লেনদেনের দিকে তাকালে চিত্রটা আরও পরিষ্কার হয়। গত সপ্তাহে ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় উল্লেখযোগ্য। সপ্তাহজুড়ে মোট লেনদেন হয়েছে ৩ হাজার ৪৪ কোটি টাকা। বাজার মূলধনও সামান্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৮ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকায়। লেনদেন বাড়ার এই প্রবণতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
এই পুনরুদ্ধারের পেছনে প্রধান কারণ নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছ থেকে আসা ইতিবাচক বার্তা। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান ঘোষণা দিয়েছেন, বাজারের স্বাভাবিক গতিপথে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হস্তক্ষেপ করবে না। পাশাপাশি ডাইরেক্ট লিস্টিং বিধিমালার খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে, যা বড় কোম্পানিগুলোর জন্য আইপিও ছাড়াই বাজারে আসার পথ খুলে দিচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা এই সংস্কার উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন। তবে জ্বালানি সংকট ও করপোরেট মুনাফায় পতনের আশঙ্কা এখনও বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ইবিএল সিকিউরিটিজের মতে, দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কারের প্রতিশ্রুতিই বাজারকে কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণ বলছে, গত সপ্তাহে বস্ত্র খাতের আধিপত্য ছিল চোখে পড়ার মতো। ডিএসইর মোট লেনদেনের ৩৩ দশমিক ২ শতাংশই এসেছে এই খাত থেকে। সায়হাম কটন, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ ও মালেক স্পিনিং, লেনদেনের শীর্ষে ছিল এই তিন কোম্পানি। সায়হাম কটনের শেয়ার দর ১৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেড়েছে। সাধারণ বীমা খাত দ্বিতীয় অবস্থানে (১২ শতাংশ) এবং ওষুধ ও রসায়ন খাত তৃতীয় (১১ দশমিক ৩ শতাংশ)।
অন্যদিকে ব্যাংক খাতের লেনদেন কমেছে। সেবা খাতে ২ দশমিক ১ শতাংশ, টেলিযোগাযোগ খাতে ১ দশমিক ১ শতাংশ এবং ব্যাংক খাতে ০ দশমিক ৯ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সপ্তাহজুড়ে ৩৮৭টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ১৮৭টির, কমেছে ১৭০টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩০টির। অর্থাৎ, দর বাড়া ও কমার সংখ্যা প্রায় সমান, যা সূচকে বড় ধরনের উত্থান না হওয়ার কারণ।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) গত সপ্তাহে ইতিবাচক প্রবণতা ছিল। সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ০.০৪ শতাংশ এবং সিএসসিএক্স সূচক ০.০৭ শতাংশ বেড়েছে।
পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়ানোর এই ইঙ্গিত বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বস্তির হলেও এখনও বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। জ্বালানি সংকট ও করপোরেট মুনাফার অনিশ্চয়তা কাটিয়ে বাজার স্থিতিশীল হতে সময় লাগবে। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সংস্কার উদ্যোগ এবং বিনিয়োগকারীদের নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি হওয়া ভবিষ্যতের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে।

