পুঁজিবাজারে বিধিবহির্ভূত বিনিয়োগের ঘটনায় একটি মিউচুয়াল ফান্ড থেকে ২০ কোটি টাকার বেশি অর্থ ফেরত দিতে নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ ফেরত না দিলে বড় অঙ্কের জরিমানার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এক সিদ্ধান্তে জানিয়েছে, একটি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের পরিচালিত ফান্ডে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করে বিনিয়োগ করা হয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সংস্থাটি মনে করছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে মোট ২০ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ফান্ডে ফেরত দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই অর্থ জমা না দিলে ২২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা জরিমানা গুনতে হবে।
তদন্তে উঠে এসেছে, ২০১৩ সালে একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বাজারমূল্যের তুলনায় উচ্চ দামে শেয়ার কিনে ফান্ড থেকে অর্থ বিনিয়োগ করা হয়, যা প্রচলিত নিয়মের পরিপন্থী। একইভাবে ২০১৭ সালেও আরেকটি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিধিমালা মানা হয়নি বলে প্রমাণ পেয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
প্রথম ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগের বিপরীতে ৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকা এবং দ্বিতীয় ঘটনায় ১৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ফান্ডে ফেরত দিতে বলা হয়েছে। এই দুই অঙ্ক মিলিয়েই মোট ফেরতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ কোটি টাকার বেশি।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হলে জরিমানার অর্থ অতিরিক্ত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। এরপরও ব্যর্থ হলে প্রতিদিন অতিরিক্ত জরিমানা আরোপ করা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অনিয়ম পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ক্ষুণ্ন করে। তাই ফান্ড ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা মনে করছেন।

