দরপতন আর লেনদেনের মন্দায় আবারও চাপে পড়েছে দেশের শেয়ারবাজার। সদ্য শেষ হওয়া সপ্তাহজুড়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে। এতে প্রধান মূল্যসূচকের পাশাপাশি বাজার মূলধনেও বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে পাঁচ হাজার কোটির বেশি টাকা।
৩ থেকে ৭ মে পর্যন্ত পাঁচ কার্যদিবসের লেনদেন বিশ্লেষণে দেখা যায়, সপ্তাহের চার দিনই বাজারে নেতিবাচক ধারা ছিল। বিনিয়োগকারীদের বিক্রির চাপ বাড়ায় বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমে যায়। ফলে বাজারে আস্থার ঘাটতির চিত্র আরও স্পষ্ট হয়েছে।
সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, তার মধ্যে মাত্র ১৪১টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ২২২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর কমেছে। এছাড়া ২৯টি প্রতিষ্ঠানের দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি। সবশেষ কার্যদিবস শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭৯ হাজার ৯৯৪ কোটি টাকা। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ৬ লাখ ৮৫ হাজার ১১৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহেই বাজার থেকে প্রায় ৫ হাজার ১২৪ কোটি টাকার মূলধন হারিয়ে গেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা এবং নতুন বিনিয়োগের ঘাটতি বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অনেক বিনিয়োগকারী ঝুঁকি কমাতে শেয়ার বিক্রির দিকে ঝুঁকছেন। এতে বড় মূলধনী কোম্পানিগুলোর দরও চাপে পড়ছে। প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স গত সপ্তাহে ৫২ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট বা প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। আগের সপ্তাহেও সূচকটি নিম্নমুখী ছিল। এতে ধারাবাহিকভাবে বাজারে দুর্বল প্রবণতা বজায় থাকার ইঙ্গিত মিলছে।
ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলো নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচকও কমেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে সূচকটি ১৫ দশমিক ৪০ পয়েন্ট হারিয়েছে। তবে শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানির সূচক কিছুটা ইতিবাচক অবস্থানে ছিল। ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক সপ্তাহ শেষে সামান্য বেড়েছে।
শুধু সূচক বা বাজার মূলধন নয়, কমেছে লেনদেনের গতিও। সপ্তাহজুড়ে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে প্রায় ৮৩০ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ১২ শতাংশ কম। বিশ্লেষকদের মতে, লেনদেন কমে যাওয়া বাজারে বিনিয়োগকারীদের অনাগ্রহেরই প্রতিফলন।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার জরুরি। একই সঙ্গে নীতিগত স্বচ্ছতা, শক্তিশালী নজরদারি এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি না হলে বাজারের দুর্বলতা কাটানো কঠিন হতে পারে।

