চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে শক্তিশালী আর্থিক প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত দিয়েছে দেশের বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসি। সুদ আয় বৃদ্ধি, বিনিয়োগ থেকে বেশি মুনাফা এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণের কারণে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফায় বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে।
জানুয়ারি থেকে মার্চ—এই তিন মাসে কোম্পানিটির নিট মুনাফা বেড়েছে প্রায় ৭৯ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় মুনাফা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকায়। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল অনেক কম। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়। পরে প্রকাশিত আর্থিক তথ্য থেকে এ চিত্র উঠে আসে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচিত সময়ে প্রতিষ্ঠানটির মোট সুদ আয় বেড়ে হয়েছে ২৪২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। আগের বছরের তুলনায় এ প্রবৃদ্ধি প্রায় ৬ শতাংশ। অন্যদিকে সুদ ব্যয় তুলনামূলক কম হারে বেড়ে ১৮৪ কোটি ৪০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ফলে নিট সুদ আয় বেড়ে ৫৮ কোটি ১০ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে, যা এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ২২ শতাংশ বেশি।
শুধু ঋণ কার্যক্রম নয়, বিনিয়োগ খাত থেকেও উল্লেখযোগ্য আয় করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সরকারি সিকিউরিটিজ ও ট্রেজারি পোর্টফোলিও থেকে বেশি আয় হওয়ায় বিনিয়োগ আয় বেড়েছে ৩২ শতাংশের বেশি। এ খাতে আয় দাঁড়িয়েছে ৩১ কোটি ৭০ লাখ টাকায়। একই সময়ে কমিশন ও ব্রোকারেজ আয়ও বেড়েছে। সব মিলিয়ে কোম্পানিটির মোট পরিচালন আয় প্রায় ২৪ শতাংশ বেড়ে ৯৪ কোটি ২০ লাখ টাকায় পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান উচ্চ সুদহারের বাজারে যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা দেখাতে পারছে, তারা তুলনামূলক ভালো ফল করছে। আইপিডিসির সাম্প্রতিক আর্থিক ফলাফল সেই প্রবণতারই প্রতিফলন।
প্রথম প্রান্তিকে ব্যয় নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক অবস্থানে ছিল প্রতিষ্ঠানটি। পরিচালন ব্যয় খুব সীমিত হারে বেড়ে ৩৯ কোটি ৭০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ফলে সঞ্চিতির আগের মুনাফা বেড়ে ৫৪ কোটি ৫০ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪৬ শতাংশ বেশি।
তবে ঋণ বিতরণে কিছুটা ধীরগতি দেখা গেছে। মার্চ শেষে প্রতিষ্ঠানটির ঋণ, অগ্রিম ও লিজের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৩৭৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা, যা আগের বছরের ডিসেম্বরের তুলনায় সামান্য কম। অন্যদিকে আমানত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩২৪ কোটি ৭০ লাখ টাকায়।
প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস হয়েছে ১৬ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৯ পয়সা। একই সঙ্গে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যও বেড়ে ১৮ টাকা ১ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।
আইপিডিসি ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিজওয়ান দাউদ সামস জানিয়েছেন, এই ফলাফল প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক ভিত্তি ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নের প্রতিফলন। তিনি বলেন, গ্রাহকের আস্থা বাড়ানো, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার দিকেই প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্ব দিচ্ছে।
২০০৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া আইপিডিসি ফাইন্যান্স বর্তমানে দেশের অন্যতম পুরোনো বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৪০৯ কোটি টাকার বেশি। উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে রয়েছে মোট শেয়ারের ৪০ শতাংশ। এছাড়া সরকারের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শেয়ার রয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ বাড়লেও কিছু প্রতিষ্ঠান দক্ষ সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগ কৌশলের কারণে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকতে পেরেছে। আইপিডিসির সর্বশেষ ফলাফল সেই বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

