টানা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে দেশের শেয়ারবাজার। সপ্তাহজুড়ে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বাজার মূলধন ৫ হাজার ২১৩ কোটি টাকা বেড়েছে। একই সঙ্গে প্রধান সূচক ও লেনদেন—দুই ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে, যা বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কিছুটা ফিরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার দিনই সূচক ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এর প্রভাব পড়ে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দামে। সপ্তাহ শেষে লেনদেন হওয়া ৩৯১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৭২টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে মাত্র ২৯টির, আর ৯০টি প্রতিষ্ঠানের দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
এই ইতিবাচক প্রবণতায় সপ্তাহ শেষে ডিএসইর মোট বাজার মূলধন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৭ হাজার ৭৩৯ কোটি টাকা। আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে এ পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৯২ হাজার ৫২৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধনে যুক্ত হয়েছে ৫ হাজার ২১৩ কোটি টাকা।
বাজার মূলধনের পাশাপাশি মূল্যসূচকেও শক্তিশালী উত্থান হয়েছে। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৯১ দশমিক ৪ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৬১ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এই সূচক সামান্য কমেছিল। ফলে চলতি সপ্তাহের উত্থানকে বাজারের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
শুধু প্রধান সূচকই নয়, অন্যান্য সূচকেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচক বেড়েছে ২৫ দশমিক ২৮ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ২১ শতাংশ। একই সময়ে নির্বাচিত ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির সমন্বয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক বেড়েছে ৩০ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৪৫ শতাংশ।
লেনদেনের গতিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সপ্তাহজুড়ে প্রতিদিন গড়ে ডিএসইতে ১ হাজার ৪৩৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড় লেনদেন ছিল ৯৫১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। ফলে গড় লেনদেন বেড়েছে ৪৮২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, যা শতাংশের হিসাবে প্রায় ৫০ দশমিক ৭ শতাংশ।
লেনদেনের শীর্ষে ছিল বেক্সিমকোর শেয়ার। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির প্রতিদিন গড়ে ৬৮ কোটি ১৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা মোট লেনদেনের প্রায় ৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ব্র্যাক ব্যাংক, যার গড় দৈনিক লেনদেন ৫৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। তৃতীয় স্থানে থাকা মালেক স্পিনিংয়ের গড় লেনদেন হয়েছে ৪৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা।
এ ছাড়া আইপিডিসি ফাইন্যান্স, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, আইটি কনসালট্যান্টস, এনসিসি ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিংস এবং সিটি ব্যাংকও সপ্তাহের সর্বাধিক লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর তালিকায় স্থান পেয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, টানা কয়েকটি কার্যদিবসে সূচক, বাজার মূলধন এবং লেনদেন একসঙ্গে বাড়া শেয়ারবাজারের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। তবে এই ধারা দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে বাজারে তারল্য বৃদ্ধি, ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানিতে বিনিয়োগ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর তদারকি অব্যাহত রাখা প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন।

