দেশের শেয়ারবাজারে মিউচুয়াল ফান্ডের শক্তিশালী চাহিদা থাকা সত্ত্বেও সার্বিক বাজারে পতন দেখা গেছে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে লেনদেনের শুরুতে ফান্ডগুলোতে ব্যাপক দরবৃদ্ধি থাকলেও শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর কমে যাওয়ায় সূচক নিম্নমুখী হয়।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ—দুই বাজারেই মূল্যসূচক কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে মোট লেনদেনের পরিমাণও। লেনদেন বিশ্লেষণে দেখা যায়, শুরুতে মিউচুয়াল ফান্ডগুলোতে ব্যাপক ক্রয়চাপ তৈরি হয় এবং কয়েকটি ফান্ড অল্প সময়েই সর্বোচ্চ দরে পৌঁছে যায়। তবে দিনের শেষ ভাগে ব্যাংক, শিল্প ও অন্যান্য খাতের অধিকাংশ শেয়ারের দরপতন বাজারকে নেতিবাচক দিকে ঠেলে দেয়।
দিনশেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ১৬১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, বিপরীতে ১৯৪টির দাম কমেছে। ৩৯টির দাম অপরিবর্তিত ছিল। এর মধ্যে মিউচুয়াল ফান্ডে তুলনামূলক ভালো চাহিদা থাকলেও অন্যান্য খাতে বিক্রির চাপ বেশি ছিল।
বাজার শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, ভালো লভ্যাংশ প্রদানকারী কোম্পানির মধ্যেও দরপতনের প্রবণতা বেশি দেখা গেছে। একইভাবে মধ্যম ও নিম্ন লভ্যাংশভিত্তিক কোম্পানিগুলোর বেশিরভাগই নেতিবাচক প্রবণতায় ছিল। এমনকি ‘জেড’ শ্রেণিভুক্ত কোম্পানির মধ্যেও মিশ্র চিত্র দেখা যায়।
সূচকগুলোর দিক থেকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক কিছুটা কমে অবস্থান করছে। পাশাপাশি বাছাই করা বড় কোম্পানির সূচক এবং শরিয়াহভিত্তিক সূচকও সামান্য নিম্নমুখী হয়েছে।
লেনদেনের পরিমাণেও পতন দেখা গেছে। আগের দিনের তুলনায় কয়েকশ কোটি টাকা কম লেনদেন হয়েছে, যা বাজারে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থান নির্দেশ করছে। ব্যক্তিগত শেয়ারের মধ্যে কিছু কোম্পানির লেনদেন তুলনামূলক বেশি ছিল, যেখানে উৎপাদন ও আর্থিক খাতের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বড় অঙ্কের লেনদেন টেনেছে।
দরবৃদ্ধির তালিকায় মিউচুয়াল ফান্ডগুলো প্রধান ভূমিকা রাখলেও সামগ্রিক বাজারে সেটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি। কয়েকটি ব্যাংক ও বীমা কোম্পানির শেয়ার মূল্য সীমিতভাবে বাড়লেও অধিকাংশ খাতে বিক্রির চাপ বেশি ছিল। অন্যদিকে দরপতনের তালিকায় টেক্সটাইল, সিরামিক, বীমা ও লিজিং খাতের কয়েকটি কোম্পানি শীর্ষে ছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। সেখানে সূচক কমার পাশাপাশি লেনদেনও তুলনামূলকভাবে হ্রাস পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে মিউচুয়াল ফান্ডের সক্রিয়তা থাকলেও বিনিয়োগকারীদের আস্থা এখনো স্থিতিশীল নয়। ফলে নির্দিষ্ট কিছু খাতে চাহিদা থাকলেও সার্বিকভাবে বাজার চাপের মধ্যেই রয়েছে।

