দেশের শেয়ারবাজারে টানা পঞ্চম কার্যদিবসেও ঊর্ধ্বমুখী ধারা ফিরেনি। সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে প্রধান মূল্যসূচক ও লেনদেনের পরিমাণও। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা আরও বাড়ছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দিনজুড়ে বিক্রির চাপ বেশি থাকায় বাজারে নেতিবাচক প্রবণতা বজায় ছিল। ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর হারিয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের দুর্বল বাজার পরিস্থিতিকেই আরও স্পষ্ট করেছে।
সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে মোট ৩৯২টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৪৬টির, কমেছে ১৮৯টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৫৭টির।
দরপতনের কারণে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২০৫ পয়েন্টে। পাশাপাশি শরিয়াহভিত্তিক সূচক এবং ব্লু-চিপ কোম্পানিনির্ভর সূচকেও পতন দেখা গেছে। বাজারে ক্রেতার তুলনায় বিক্রেতার চাপ বেশি থাকায় সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
শুধু সূচক নয়, কমেছে লেনদেনের পরিমাণও। সোমবার ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ৭১৫ কোটি টাকার, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় কম। টানা কয়েকদিন ধরে লেনদেনে এই স্থবিরতা বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মত বাজারসংশ্লিষ্টদের।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংকিং খাত, বীমা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অনেক কোম্পানির মুনাফা কমে যাওয়ার খবর এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপও বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।এদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানেও সার্বিক মূল্যসূচক কমেছে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর কমার মধ্যেই লেনদেন শেষ হয়েছে। যদিও ঢাকার তুলনায় চট্টগ্রামের বাজারে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে।
পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে বাজারে স্থিতিশীলতা জরুরি। পাশাপাশি ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানির অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং নীতিগত সহায়তা ছাড়া বাজারে ইতিবাচক ধারা ফেরানো কঠিন হতে পারে।টানা কয়েকদিনের পতনের ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়লেও বাজার বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী কোম্পানির শেয়ার এখনও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে।

