পুঁজিবাজারে নতুন বিনিয়োগ পণ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি–এর দ্বিতীয় সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড। মঙ্গলবার থেকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ–এর অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে বন্ডটির আনুষ্ঠানিক লেনদেন শুরু হয়েছে।
‘বিবিএলটু এনডিএসবি’ ট্রেডিং কোডে চালু হওয়া এই বন্ডের স্ক্রিপ কোড ৫৫০০৮। এটি ‘পি’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যাংক খাতে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহ এবং বিকল্প বিনিয়োগের সুযোগ বাড়াতে এ ধরনের বন্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
লেনদেনের প্রথম দিন বন্ডটির প্রতি ইউনিট ১০ লাখ ৫৬১ টাকায় লেনদেন শুরু হয়। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইউনিটপ্রতি দাম কিছুটা কমে ১০ লাখ টাকায় নেমে আসে। দুপুর পর্যন্ত সীমিত পরিসরে মাত্র কয়েকটি ইউনিট হাতবদল হয়েছে বলে বাজার তথ্য থেকে জানা গেছে। বন্ডটির প্রতিটি ইউনিটের অভিহিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লাখ টাকা। মোট ৭০০ কোটি টাকার এই বন্ডের অবশিষ্ট মেয়াদ রয়েছে প্রায় ৪ বছর ১০ মাস। এটি ২০২৪ সালের মার্চ মাসে ইস্যু করা হয়েছিল।
বিনিয়োগকারীদের জন্য বন্ডটির বার্ষিক কুপন হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ। প্রতি ছয় মাস অন্তর কুপন বা মুনাফা পরিশোধ করা হবে। ফলে স্থির আয়ের বিনিয়োগে আগ্রহী ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে এটি আকর্ষণীয় হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বন্ডটি নন-কনভার্টিবল এবং সম্পূর্ণ রিডিমেবল প্রকৃতির। অর্থাৎ এটি ভবিষ্যতে শেয়ারে রূপান্তর করা যাবে না এবং নির্ধারিত সময় শেষে মূল অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। এছাড়া এটি ফ্লোটিং রেট ও আনসিকিউরড সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড হিসেবে বাজারে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড মূলত ব্যাংকের মূলধনভিত্তি শক্তিশালী করতে ব্যবহৃত হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূলধন পর্যাপ্ততার শর্ত পূরণে এ ধরনের বন্ড ব্যাংকগুলোর জন্য কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হয়। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীরাও তুলনামূলক উচ্চ হারে মুনাফা পাওয়ার সুযোগ পান।
বন্ডটির ক্ষেত্রে ন্যূনতম বিনিয়োগ সীমা ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে এটি মূলত প্রাতিষ্ঠানিক ও উচ্চমূল্যের বিনিয়োগকারীদের লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রিডেম্পশন বা অবসায়ন কার্যক্রম শুরু হবে ইস্যুর তৃতীয় বছর শেষে। প্রতি বছর নির্ধারিত তারিখে ধাপে ধাপে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।
লেনদেনের শুরুতে বাজারে অস্বাভাবিক মূল্য ওঠানামা ঠেকাতে বিশেষ সার্কিট ব্রেকারও নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম দুই কার্যদিবসে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে মূল্য পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে। এরপর নিয়মিত বাজার নিয়ম অনুযায়ী লেনদেন চলবে।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের বন্ড মার্কেট এখনও তুলনামূলকভাবে ছোট। তাই করপোরেট বন্ড ও সাব-অর্ডিনেটেড বন্ডের সংখ্যা বাড়লে বাজারে বৈচিত্র্য আসবে এবং ব্যাংকনির্ভর অর্থায়নের চাপও কিছুটা কমবে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি তহবিল সংগ্রহে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এ ধরনের বন্ড গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।

