দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পূবালী ব্যাংক পিএলসি চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে উল্লেখযোগ্য মুনাফা প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। জানুয়ারি থেকে মার্চ—এই তিন মাসে ব্যাংকটির নিট মুনাফা বেড়েছে প্রায় ২১ শতাংশ। সুদ আয় বৃদ্ধি, পরিচালন দক্ষতা এবং স্থিতিশীল ব্যবসায়িক কার্যক্রমের কারণে ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থানে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্যাংকটির প্রকাশিত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে নিট মুনাফা হয়েছে ২২৪ কোটি ২২ লাখ টাকার বেশি। আগের বছরের একই সময়ে এ মুনাফা ছিল প্রায় ১৮৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির মুনাফায় বড় ধরনের উন্নতি হয়েছে।
এ সময় শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় বা ইপিএস দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৭২ পয়সা, যা এক বছর আগে ছিল ১ টাকা ৪২ পয়সা। একই সঙ্গে চলতি বছরের ৩১ মার্চ শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট সম্পদমূল্য বা এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৫৭ টাকা ৭৭ পয়সায়। ফলে মুনাফার পাশাপাশি সম্পদভিত্তিও আরও শক্তিশালী হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিকভাবে লভ্যাংশ দিয়ে আসছে ব্যাংকটি। ২০২৫ হিসাব বছরের জন্য বিনিয়োগকারীদের মোট ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে পর্ষদ। এর মধ্যে অর্ধেক নগদ এবং বাকি অর্ধেক স্টক লভ্যাংশ। ওই বছরে ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস বেড়ে দাঁড়ায় ৮ টাকা ৩৮ পয়সায়, যা আগের বছরে ছিল ৫ টাকা ৯৯ পয়সা।
এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ হিসাব বছরে মোট ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দেয় ব্যাংকটি। সে সময় নগদ ও স্টক—উভয় ধরনের লভ্যাংশই ছিল সমান হারে। ওই বছরের শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৪৬ টাকা ৮ পয়সা। একই সময়ে ইপিএস ছিল ৬ টাকা ৭৪ পয়সা।
২০২৩ সালেও বিনিয়োগকারীদের জন্য ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ। সে বছরে ব্যাংকটির ইপিএস ছিল ৬ টাকা ৭৬ পয়সা এবং নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছিল ৪৬ টাকা ৩৩ পয়সায়। অন্যদিকে ২০২২ হিসাব বছরে ব্যাংকটি ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়। ওই বছর ইপিএস ছিল ৫ টাকা ৪৯ পয়সা।
ব্যাংকটির আর্থিক স্থিতিশীলতার প্রতিফলন দেখা গেছে ঋণমান মূল্যায়নেও। ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস পিএলসি বা সিআরআইএসএল পূবালী ব্যাংককে দীর্ঘমেয়াদে ‘এএএ’ এবং স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-১’ রেটিং দিয়েছে। ২০২৪ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত অনিরীক্ষিত আর্থিক তথ্য এবং অন্যান্য আর্থিক সূচক পর্যালোচনা করে এ মূল্যায়ন করা হয়েছে।
১৯৮৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া পূবালী ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন বর্তমানে ২ হাজার কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন রয়েছে ১ হাজার ৩০১ কোটির বেশি। ব্যাংকটির রিজার্ভে জমা আছে ৪ হাজার কোটিরও বেশি টাকা। মোট শেয়ারের প্রায় ৩২ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে রয়েছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে প্রায় ২৫ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ৪৩ শতাংশের বেশি শেয়ার।
ব্যাংক খাতের সামগ্রিক চাপের মধ্যেও পূবালী ব্যাংকের ধারাবাহিক মুনাফা বৃদ্ধি ও স্থিতিশীল আর্থিক সূচক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার বার্তা দিচ্ছে বলে বাজারসংশ্লিষ্টদের ধারণা।

