দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) স্বতন্ত্র পরিচালক পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ কামরুজ্জামান। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি গত ২৪ মে পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ডিএসইর পরিচালনা কাঠামোয় তিনি একজন স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। একই সঙ্গে এক্সচেঞ্জটির নমিনেশন অ্যান্ড রেমুনারেশন কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন। তার পদত্যাগের ফলে ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য হয়ে গেল।
পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, একটি বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতির কারণেই তিনি স্বতন্ত্র পরিচালক পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নতুন পেশাগত দায়িত্বের সঙ্গে সম্ভাব্য স্বার্থসংঘাত এড়াতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০২৪ সালের আগস্টে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালনা পর্ষদে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। সে সময় চেয়ারম্যানসহ কয়েকজন স্বতন্ত্র পরিচালক পদত্যাগ করলে পরবর্তীতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন নতুন করে সাতজন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেয়। সেই পুনর্গঠিত পর্ষদের সদস্য হিসেবেই দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।
ডিএসইর পর্ষদে প্রায় এক বছর নয় মাস দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে অংশ নেন। বিশেষ করে করপোরেট সুশাসন, পরিচালনা কাঠামোর উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে তার সম্পৃক্ততা ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। সামরিক জীবনে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। অবসরের পর শিক্ষা ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের অধিভুক্ত আর্মি ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা, নেতৃত্ব এবং কৌশলগত পরিকল্পনা বিষয়ে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেন।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, ডিএসইর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে অভিজ্ঞ ও স্বাধীন পরিচালকদের উপস্থিতি বাজারের স্বচ্ছতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে তার পদত্যাগের পর শূন্য হওয়া পদে কাকে নিয়োগ দেওয়া হবে, সে বিষয়েও বাজারসংশ্লিষ্ট মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
এদিকে ডিএসই বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে নতুন কোনো স্বতন্ত্র পরিচালকের নাম এখনো ঘোষণা করা হয়নি। তবে পর্ষদের কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে শূন্য পদ পূরণের বিষয়ে শিগগিরই উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

