পবিত্র ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটির পর দেশের পুঁজিবাজারে নতুন উদ্দীপনা দেখা গেছে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ঢাকা ও চট্টগ্রাম—উভয় শেয়ারবাজারেই সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। একই সঙ্গে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাবের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
সোমবার সকালে লেনদেন শুরুর পর থেকেই ক্রয়চাপ বাড়তে থাকে। এর ফলে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক ধারাবাহিকভাবে উপরে উঠতে থাকে। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদের আগে ও পরে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা, ব্যাংক ও আর্থিক খাতের কিছু শেয়ারে আগ্রহ বৃদ্ধি এবং বাজারে নতুন করে আস্থা ফিরে আসার ইঙ্গিত এ উত্থানের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
লেনদেন শুরুর প্রায় আধা ঘণ্টা পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৩৬৭ পয়েন্টে অবস্থান করে। একই সময়ে শরিয়াহভিত্তিক সূচক ৫ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৮৮ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ১৩ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৪৪ পয়েন্টে পৌঁছায়।
বাজারের লেনদেন চিত্রেও ইতিবাচক ধারা লক্ষ্য করা গেছে। দিনের প্রথম আধা ঘণ্টায় ১৪১ কোটির বেশি টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট হাতবদল হয়, যা বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেয়।
এই সময়ে লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ২২২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বৃদ্ধি পেয়েছে। বিপরীতে ৬৯টি প্রতিষ্ঠানের দর কমেছে এবং ৮৩টি কোম্পানির শেয়ারদর অপরিবর্তিত রয়েছে। বাজারে ক্রেতাদের আগ্রহ বিক্রেতাদের তুলনায় বেশি থাকায় সামগ্রিক সূচকে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
লেনদেনের শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে ছিল নাহি অ্যালুমিনিয়াম, বিবিএস কেবলস, এনসিসি ব্যাংক, পপুলার লাইফ, ব্র্যাক ব্যাংক, ডমিনেজ স্টিল, আরডি ফুড, অগ্নি সিস্টেমস, সিটি ব্যাংক এবং বিডি থাই ফুড। এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ঘিরে বিনিয়োগকারীদের উল্লেখযোগ্য আগ্রহ দেখা গেছে।
দিনের শুরু থেকেই বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা স্পষ্ট ছিল। লেনদেন শুরুর প্রথম পাঁচ মিনিটেই প্রধান সূচক ১২ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। পরবর্তী কয়েক মিনিটে আরও কয়েক দফা সূচক বাড়তে থাকে। সকাল ১০টা ২০ মিনিটে সূচক ২৩ পয়েন্ট এগিয়ে যায় এবং এরপরও ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক ৭ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৯১৬ পয়েন্টে অবস্থান করে। সেখানে লেনদেনের পরিমাণ তুলনামূলক কম হলেও সূচকের ঊর্ধ্বগতি বিনিয়োগকারীদের আশাবাদী মনোভাবেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
একই সময়ে চট্টগ্রাম বাজারে প্রায় ১২ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১৩টির শেয়ারদর বেড়েছে, ২টির কমেছে এবং ১টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ঈদ-পরবর্তী সময়ে বাজারে ইতিবাচক সূচনা বিনিয়োগকারীদের জন্য আশাব্যঞ্জক বার্তা বহন করছে। তবে এই ধারা দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে হলে বাজারে তারল্য বৃদ্ধি, ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিতে বিনিয়োগের প্রবণতা এবং নীতিগত স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তারা মনে করেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে ওঠার জন্য ধারাবাহিক ইতিবাচক লেনদেন প্রয়োজন।
বাজারের বর্তমান গতিধারা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ঈদের ছুটির পর বিনিয়োগকারীরা নতুন করে সক্রিয় হয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, দিনের বাকি সময়ে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা কতটা শক্তিশালী অবস্থানে থাকতে পারে এবং তা আগামী কার্যদিবসগুলোতেও অব্যাহত থাকে কি না।

