পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির পর পুঁজিবাজারে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার সূচকের ঊর্ধ্বগতির পাশাপাশি লেনদেনেও উল্লেখযোগ্য গতি ফিরে এসেছে। বিশেষ করে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন এক হাজার কোটি টাকার সীমা অতিক্রম করেছে, যা বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩৩ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪০৬ পয়েন্টে পৌঁছায়। একই সঙ্গে শরিয়াহভিত্তিক সূচক ২ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৮৯ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৫ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৪৯ পয়েন্টে অবস্থান নেয়।
লেনদেনের দিক থেকেও দিনটি ছিল ইতিবাচক। ডিএসইতে মোট ১ হাজার ৮০ কোটি ৪২ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট হাতবদল হয়েছে। আগের কার্যদিবসে যেখানে লেনদেন হয়েছিল ৯১২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, সেখানে একদিনের ব্যবধানে প্রায় ১৬৮ কোটি টাকার বেশি লেনদেন বেড়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঈদের পর বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন খাতের শেয়ারে ক্রয়চাপ বাড়ার ফলে বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। লেনদেনের পরিমাণ হাজার কোটি টাকা অতিক্রম করাও বাজারে আস্থার ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মঙ্গলবার ডিএসইতে মোট ৩৯৩টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ২৩০টির দাম বেড়েছে, ১১৬টির দর কমেছে এবং ৪৭টির মূল্য অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বৃদ্ধির মাধ্যমে বাজারে ক্রেতাদের প্রাধান্য স্পষ্ট হয়েছে।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচক ঊর্ধ্বমুখী ছিল। সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১১০ পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ৮০ পয়েন্টে পৌঁছেছে। সেখানে ২১৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১২৮টির দাম বেড়েছে, ৫৮টির কমেছে এবং ৩১টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
তবে সূচক বাড়লেও সিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। এদিন ২৭ কোটি ১৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট কেনাবেচা হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় প্রায় ২০ কোটি টাকা কম। আগের দিন এই বাজারে লেনদেন হয়েছিল ৪৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ডিএসইতে লেনদেন বৃদ্ধি এবং অধিকাংশ শেয়ারের দর বাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বিনিয়োগকারীদের মনোভাবের ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রতিফলন। তবে এই ধারা দীর্ঘমেয়াদে বজায় রাখতে হলে বাজারে ভালো মানের নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তি, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
ঈদের পর প্রথম দিকের লেনদেনের চিত্র বলছে, পুঁজিবাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি বেড়েছে এবং বাজারে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। আগামী কয়েকটি কার্যদিবসের প্রবণতা এই ইতিবাচক গতি কতটা স্থায়ী হবে, সে বিষয়ে আরও পরিষ্কার ধারণা দেবে।

