ঈদুল আজহার ছুটির পর দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে। টানা অষ্টম কার্যদিবসের মতো ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রেখেছে শেয়ারবাজার। একই সঙ্গে লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে প্রায় নয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে।
বুধবারের লেনদেন শেষে দেখা যায়, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারজুড়ে ক্রেতাদের সক্রিয় উপস্থিতির কারণে দিনভর সূচক ইতিবাচক অবস্থানে ছিল এবং শেষ পর্যন্ত সেই ধারা অব্যাহত থাকে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনীতি ও পুঁজিবাজারসংক্রান্ত কিছু ইতিবাচক প্রত্যাশা, বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধি এবং বড় মূলধনি কোম্পানিগুলোর শেয়ারে ক্রয়চাপ বৃদ্ধির কারণে বাজারে এই ধারাবাহিক উত্থান দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের স্থবিরতার পর বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়তে শুরু করায় বাজারে নতুন গতি তৈরি হয়েছে।
দিন শেষে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২৪৩টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দরপতন হয়েছে ৯৮টির এবং ৪৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ঊর্ধ্বমুখী কোম্পানির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হওয়ায় প্রধান সূচক শক্ত অবস্থানে থেকে দিন শেষ করেছে।
ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৩৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪৪২ পয়েন্টে পৌঁছেছে। পাশাপাশি শরিয়াহভিত্তিক সূচক এবং ব্লু-চিপ কোম্পানিগুলোর সমন্বয়ে গঠিত সূচকেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বাজারের বিভিন্ন খাতেই ক্রয়চাপ ছিল।
বুধবার ডিএসইতে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৭৯ কোটি টাকার বেশি, যা গত বছরের সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ। আগের কার্যদিবসের তুলনায় প্রায় ২০০ কোটি টাকা বেশি লেনদেন হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, লেনদেন বৃদ্ধি সাধারণত বাজারে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা ও আস্থার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হয়।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই ধরনের ইতিবাচক চিত্র দেখা গেছে। প্রধান সূচকগুলো উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে এবং অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে লেনদেনের পরিমাণও আগের দিনের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের ভাষ্য, টানা কয়েকদিনের উত্থান বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আশাবাদ তৈরি করলেও বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে। তারা মনে করেন, শুধুমাত্র স্বল্পমেয়াদি উত্থান নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে আস্থাভিত্তিক বাজার গড়ে তোলাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সাম্প্রতিক উত্থান পুঁজিবাজারে নতুন প্রাণের সঞ্চার করলেও বিনিয়োগকারীদের সতর্ক ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ বাজারের ঊর্ধ্বগতি যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় থাকা।
সব মিলিয়ে ঈদের ছুটির পর পুঁজিবাজারে যে ইতিবাচক গতি তৈরি হয়েছে, তা বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন নজর থাকবে এই প্রবণতা আগামী সপ্তাহগুলোতেও অব্যাহত থাকে কি না এবং বাড়তি লেনদেন বাজারকে কতটা স্থিতিশীল ভিত্তি দিতে পারে তার ওপর।

